এক একদিন বিকেলের পর, আমাদের আশ্চর্য হওয়ার দৃষ্টি ফিকে হয়ে এলে পার্ক স্ট্রিটে আসি। মনে হয় নতুন কিছু দেখা যাবে। এমন দৈবাৎ-এর দেখা পেয়েও যাই। নিজের শহরকে দেখি। মেট্রোর দরজার পাশে পার্ক স্ট্রিট কখন আসবে তার অপেক্ষা করতে করতে এক একটা ফিরে ফিরে যাওয়া ঢেউয়ের মত আলো কেঁপে ওঠে। মনে হয় সিনেমা চলছে আমাদের পাশে - "All the world's a stage."
আমার ফরাসী বন্ধু বেরনার এভাবেই যাদবপুর খুঁজছে- ছবিতে ছবিতে। তবে দেখার মধ্যে একটা অসূয়া রয়েছে সংস্কৃতিগত কারণেই। কলকাতায় থাকতে হবে ওকে কারণ কলকাতায় এখনও সস্তায় থাকা যায়, তেমন কোন খরচ মনেই হয় না - "La vie à Calcutta ne me coûte pratiquement rien"। অথচ, ২০০৮-এ ওঁর দেখা কলকাতা আর আজকের কলকাতায় কোন ফারাকই ধরা পড়েনা - "It's still messy."
আসলে, কলকাতার এই একটু একটু করে অলক্ষ্যে বদলে যাওয়া আমাদের অনেকের কাছেই তেমন বড় ঘটনা নয়। বদলে যাওয়াটা ততক্ষণ ওলটপালট করে দেয় না তেমন, যতক্ষণ না একটা সহাবস্থান বিগড়ে যায় - ভিক্টোরিয়ার আশেপাশেই এক স্থাপত্যগত ভাবে অসহ্য হয়ে ওঠে একটা বিয়াল্লিশ তলা কিংবা, অঞ্জন দত্তের চোখে, আমাদের একেকটা বাড়িকে হোটেলের মত দেখতে লাগে।
তবে শীত এলেই আরও বেশি করে, পার্ক স্ট্রিট আসি। সুখী মানুষ দেখা যায়। বোর্খার সীমাবদ্ধতা জোলো হয়ে রাবেয়ারা জেনিফারের সাথে বেড়িয়ে আসে রাণী বিড়লা কলেজ থেকে অ্যালেন্স পার্কে। সুইমাই শেষ করে পাটিসাপটা খাই Starbucks এর সামনে দাঁড়িয়ে। একটু রাম খাব সিলভার গ্রিলে? আজ হবেনা। Bow Barracks যেতে হবে। কাল জর্জিনা দেশাই ফোন করেছিল। আমার জন্য এবার বড় একটা জিঞ্জার ওয়াইনের বোতল রেডি আছে।











Comments
Post a Comment