Skip to main content

Christmas 2022 at Park Street

এক একদিন বিকেলের পর, আমাদের আশ্চর্য হওয়ার দৃষ্টি ফিকে হয়ে এলে পার্ক স্ট্রিটে আসি। মনে হয় নতুন কিছু দেখা যাবে। এমন দৈবাৎ-এর দেখা পেয়েও যাই। নিজের শহরকে দেখি। মেট্রোর দরজার পাশে পার্ক স্ট্রিট কখন আসবে তার অপেক্ষা করতে করতে এক একটা ফিরে ফিরে যাওয়া ঢেউয়ের মত আলো কেঁপে ওঠে। মনে হয় সিনেমা চলছে আমাদের পাশে - "All the world's a stage."
আমার ফরাসী বন্ধু বেরনার এভাবেই যাদবপুর খুঁজছে- ছবিতে ছবিতে। তবে দেখার মধ্যে একটা অসূয়া রয়েছে সংস্কৃতিগত কারণেই। কলকাতায় থাকতে হবে ওকে কারণ কলকাতায় এখনও সস্তায় থাকা যায়, তেমন কোন খরচ মনেই হয় না - "La vie à Calcutta ne me coûte pratiquement rien"। অথচ, ২০০৮-এ ওঁর দেখা কলকাতা আর আজকের কলকাতায় কোন ফারাকই ধরা পড়েনা - "It's still messy."
আসলে, কলকাতার এই একটু একটু করে অলক্ষ্যে বদলে যাওয়া আমাদের অনেকের কাছেই তেমন বড় ঘটনা নয়। বদলে যাওয়াটা ততক্ষণ ওলটপালট করে দেয় না তেমন, যতক্ষণ না একটা সহাবস্থান বিগড়ে যায় - ভিক্টোরিয়ার আশেপাশেই এক স্থাপত্যগত ভাবে অসহ্য হয়ে ওঠে‌ একটা বিয়াল্লিশ তলা কিংবা, অঞ্জন দত্তের চোখে, আমাদের একেকটা বাড়িকে হোটেলের মত দেখতে লাগে।

তবে শীত এলেই আরও বেশি করে, পার্ক স্ট্রিট আসি। সুখী মানুষ দেখা যায়।‌ বোর্খার সীমাবদ্ধতা জোলো হয়ে রাবেয়ারা জেনিফারের সাথে বেড়িয়ে আসে রাণী বিড়লা কলেজ থেকে অ্যালেন্স পার্কে। সুইমাই শেষ করে পাটিসাপটা খাই Starbucks এর সামনে দাঁড়িয়ে। একটু রাম খাব সিলভার গ্রিলে? আজ‌ হবেনা। Bow Barracks যেতে হবে। কাল জর্জিনা দেশাই ফোন করেছিল। আমার জন্য এবার বড় একটা জিঞ্জার ওয়াইনের বোতল রেডি আছে।  














Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।