Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2025

উচ্ছিষ্ট

নাতিদীর্ঘ দিন, আর অতি দীর্ঘ রাত। অবেলা সমস্ত, সব  মনে হয় এভাবেই যায়।  এভাবেই চলে যেতে হত।  বিছানায় করুণ নিশ্বাস, আর বাথরুমে কিছু মৈথুনরত পিঁপড়েরা  অনাবশ্যক যাতায়াত করে,  এখনও পঞ্চাশে। বিড়ালেরা আসে গত কুড়ি বছরের নিজস্ব অভ্যাসে। আরও কুড়ি এভাবেই যাবে?  আশ্চর্য ঘটনাহীন সময়প্রবাহ, আমাকে আরও কুড়ি তুমি এভাবেই কুরে কুরে খাবে? ৩০ অক্টোবর, ২০২৫

নিভৃতপ্রাণ

  কোনকিছু হয়নি পুরোনো। গণিকার আতরজীবিকা, মায়াবী শস্যশীষ যা যা কিছু স্বপ্নে কুড়োনো আমাদের বিশ্বাসে অহর্নিশ নতজানু, আগলিয়ে রাখি। বিকেল এখনও এক ধুরন্ধর লটারীর ফড়ে। যা কিছু বা যাকে ধরে এ জীবনে তার, এপাড়া পেরিয়ে আর বেপাড়া যাওয়ার অলীক মদের স্বাদ নাকের তলানি ছুঁয়ে বেমক্কা, বেয়াড়া প্রতিযোগীর হলহলে কামার্ত জিভেতে পড়েছে। দেখ, এই পুরোনো পোশাকে যদি দৈবাৎ পাও পনেরোর লাল সিঁথি, বিছানার চাদরের সাদা। এটুকুই সুস্থতা, যাপনজীবিকা, আর ধারণের ব্যবসার নীতি এটুকু বিলাসপুর, কল্যাণী- সিঙ্গারা চায়ের সাথে ছুঁড়ে দেওয়া শেষের অলৌকিক ধাঁধা। ১৯ অক্টোবর, ২০২২

সাময়িকী

  এই রাতেই শুধু সময় হয়? সারা দুপুর শুধু বিছানা পড়ে আছে একাকী রোদ। শুধু কথা তোমার! চাদর, সিরিজেরা, কানেতে নেটফ্লিক্স ক্লাসিক, কোক আর বিঞ্জ ওয়াচ। সকালে কথা হবে বলেছিলে। আমাকে মেনে নেওয়া সহজ নয়। এই রাতেই শুধু সময় হয়? চোখেতে লাইনার বিকেল হবে তাই, ঠোঁটেতে গ্লস আর গালেতে ব্লাশ। এখন আইপ্যাডে খুঁজছি প্রাক্তন জিভেতে প্রাথমিক চায়ের ফ্লাশ। সাতটা হল তবু সময় নেই? অথচ দরজা খুলেছে যেই, ঘরেতে রোদ আর বেপথু শ্বাস - টেবিলে ব্ল্যাক কফি, টোস্টে মাশরুম। বিয়ে তো নেক্সট মাসে। এ অভ্যাস করতে যা যা লাগে, যত সময়- এ অপচয়? এই রাতেই শুধু সময় হয়? এই রাতেই তবে সময় হয়? ২২ অক্টোবর, ২০২১

হাবিজাবি গদ্য ১: চমৎকারের ওপর স্যাঁৎস্যাঁৎ করে সৎকার

  ফ্যাতাড়ুরা উড়ছিল ফ্যাৎ ফ্যাৎ সাঁই সাঁই করে। আর কিছু ফোকলা ফক্কড় বাচ্চা তাই‌ দেখে দিচ্ছিল পা-তালি। হ্যাঁ, এদের প্রবাসে দৈবের বশে সেইসব বাবা-মার থেকে জন্ম যারা চল্লিশে চালশে পেরোনো, হনুমান চালিশা, মাদুলি তাবিজ করে শেষ অবধি একটা জড়ভরত এক ধরনের বাচ্চাদের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এদের হাত ও পায়ের দৈর্ঘ্য সমান। এরা শুধু সব্যসাচীই নয়, এদের দু হাত দু পা সমান চলে। এদের বাবা, মায়েদের কেরিয়ার গ্রাফ সদা কুল, সদা বুল মার্কেট, চমৎকার। আর সেই চমৎকারের সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে গাইনোকোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিশিয়ান, ডায়েটিশিয়ানদের চমৎকার সব নির্দেশের সৎকার। বাচ্চারা পা-তালি দিচ্ছিল। আর বাচ্চার বাবারা খুলতে বসেছিল শ্যাম্পেনের বোতল। শ্যাম্পেন খোলার সাথে সাথেই আকাশ থেকে ফ্যাৎ ফ্যাৎ, সাঁই সাঁই শব্দটা বদলে গেল। টেবিলে ছিল শ্যাম্পেনের সাথে খাওয়ার জন্য স্যাটাস্যাট করে চটজলদি বানানো একটা কুমড়োর ঘ্যাঁট যার পোশাকি নাম পাম্পকিন গ্যালেৎ। হঠাৎ স্যাঁৎস্যাঁৎ করে টেবিলে রাখা গ্যালেৎ-এর ওপর ছলকে পড়ল শ্যাম্পেন আর আকাশের রং বদলে গেল। বাতাসের গন্ধ হয়ে উঠল স্যাঁতস্যাঁতে। বাচ্চারা পা-তালি থামিয়ে এক মুহূর্তে থমকে দ...

সাময়িকী ২

  এসমস্ত রাতে তোমাকে আমি আমার সারা বছরের পুজোর পাড়ায় টেনে আনি। কারণ, অষ্টমী আমাদের পুজোর ক্লাইম্যাক্স। আমাদের কাছাকাছি থাকারও। মির্জা গালিব স্ট্রিট,পার্ক স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট, লিটল্ রাসেল স্ট্রিট, হো‌ চি মিন সরণী - এ আমার সারা বছর উৎসবের পথ। মন খারাপ হলে এ সমস্ত পথের কাছে আসি। সব কথা বলে দিই আলোর দোকানের কাছে; নিংড়ে আনি আমার সমস্ত অন্ধকার। এসব পথের কথা তোমায় আমি কোনদিন বলেছি কিনা, তা আজ মনে নেই। তবু তুমি কলকাতায় এলে এসব রাস্তার কাছেতেই ফিরে ফিরে আসো। নিভৃতে খুঁজে নাও আলো ঝলমল ক্যাফে বা রেস্তোরাঁ। ওর সাথে এসে বসো। তা ভালো। অথচ কী আশ্চর্য দেখ, এই পথ নিয়ে আমাদের সম্ভবত কোনদিন কথা হয়নি। পুজোতে কেউ কি রাসেল স্ট্রিটে যায়? আমিও তো যাই না ওদিকে। অথচ, ও পাড়ায় আমার সারা বছরের উৎসব পড়ে আছে। আর, এই দুর্গাপুজোতে উৎসব ঠিক ঠিক বুঝে নিতে তোমাকেও কোথায় যেতে হয়? ও পাড়াতে।‌ তুমি আজকাল ওকে মজা করে 'এক্স' ডাকো। ভালো, বেশ ভালো। কারণ, এ সমস্ত দৈববাণী। আসলে, তুমি আমাকেই খুঁজে চলেছ অতীত ও বর্তমানে। আমিও তোমাকেই। মানুষ তোমাকে হয়তো না। মানুষ আমাকে তুমিও বা হয়তো না। কিন্তু যে মুহূর্তে এক...

পুরোনো জামা

  পুরোনো জামাটা হাতে নিতেই একরাশ টিন-এজ প্রেম লেগে গেল হাতে, পিঠে, গায়ে। গন্ধ নিলাম। কত পুরোনো হবে এই জামা? সে সব কথা থাক। এ কোনো বলিউডি পুরোনো জিন্স্‌ নয় যে লিখে ফেলা যাবে একতাড়া গানের লাইন, কিংবা নয় কোনো বাপ-ঠাকুর্দা সূত্রে পাওয়া গরদের পাঞ্জাবী বা ধুতি, যে বেশ হাতে গড়গড়া কিংবা হুঁকো (এখন শুধু hookah bar ই মেলে যদিও বা সহজে)- টিকে সাজিয়ে বেশ আয়েশ করে তামাক নিয়ে বসা যাবে এই প্রাক্‌-শীত সকালে। এ নিখাদ বাঙ্গালী ক্লার্কের প্রতিদিন পরিধেয় জামার মতই এক ফ্যাশন-অজ্ঞ টিন-এজারের জামা। গন্ধ নিলাম। লেগে আছে কিছু নিজের গায়ের গন্ধ? যেরকম বহুদিন আগে ছেড়ে যাওয়া আলমারিতে ঠাকুমার শাড়ীতে পাওয়া যায়? "আমি তখন নবম শ্রেণী।" সোনালি দুঃখের আমেজটা মরে আসছে, আর যখন তখন মনখারাপ বা আত্মহননের ইচ্ছেটা আসে না। মনে হয় না আর, এই আগামী ১৫ মিনিটে কাউকে আদর না করতে পারলে মরে যাওয়াই ভালো। লেগে আছে কিছু সেই আমি? কাঁচা অনুভব? তীব্রতা? একটুও সেরকম আমি? বদলাই নি খুব একটা। কিন্তু বদলেছে অনুভবের আরাম, কবিতায় ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য, দুপুরের অলস বইয়ের ওপর ঘুমের স্বভাব - এইসব বদলে গেছে। সেই মনে পড়ে তারাপদ র...

Two Words

  Two words to remember: life and light. Mornings—tiny wonderlands. Nights—half-hearted nightmares. There’s little life at night, save for my feline kin, who stalk the hush between streetlamps. If they must choose between the chase and the bowl’s small clatter of nibbles, they’ll take the hunt— Yet somewhere in their whiskered thoughts waits for the bowl, and a slow hand tracing their head. Three words to remember: life, light, and love— a pet on the head, a peck on the cheek. 28 October, 2025

স্তব্ধতা

  স্তব্ধতা কী? আমি বলছি। স্তব্ধতা নিঃসীম আকাশের রাগ। যে হৃদয় পেরিয়ে এসেছ, তার সাথে বোঝাপড়া ভাব। স্তব্ধতা উত্তরের অপেক্ষা রাত ; একসাথে রেঁধে খাওয়া, পেড়ে রাখা পাত অফিস ফেরার পর, একসাথে আলুথালু ঘুম শিশির স্বস্ত্যয়নে ঘাসের ওপরে নিঃঝুম। মুখের কষাটে স্বাদে চোখের ওপরে ঠোঁট ওম্‌ আরও আছে? আত্মহনন থেকে বেঁচে ফেরা জোনাকির আত্মার কাছে। ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

Even if it's lip-smacking, keep your lips parched

  Even if it's lip-smacking, keep your lips parched, as it needs my tongue and the touch of my labial mucosa to stay wet. Leave it there. Wait for me unless you need a drink—perhaps a pint of beer or a gin cocktail. But if you cannot resist the insatiable desire to stay moist and succulent, inflame your passion to remain hydrated. The more inflamed you are, or rather, the longer your desire is intensified, the more worthy you become of your desire. And nothing in life, not even our mediocre whims, appears out of the blue unless we are worthy of them. I have pined for your call for the last three years. That doesn't make me worthy of it. Does it? Every gulp of rum I took to ruin my cognitive and metacognitive fancies has transposed me to a reality that had never existed and will never exist either. People wrote about their unripe and untimely plucked oranges and melons in better metaphors and with better word choices. But I'm not doing that here. Through these words, I am ap...

অশেষ করেছ

  একটু বাইরে বেরিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম ঢাকুরিয়া ফুটওভার ব্রিজে। এখান থেকে ঢাকুরিয়া মোড় আর মধুসূদন মঞ্চের একটা aerial view পাওয়া যায়। ওপর থেকে, একটু তফাতে দাঁড়িয়ে সবকিছুই ভালো লাগে – মানুষের জীবনে না চাইলেও এসে যাওয়া একটা রবিবারের গতানুগতিক সন্ধ্যে আর এমন নিরুত্তাপ বিকেলেও আগে ঢোকার জন্য, ফাঁকতালে অন্যের আগে কিছু পাওয়ার চাহিদা, এলিয়ে দেওয়া আড্ডায় লেবু-চা, ঘটি গরম, ফুচকা-আলুর দমের দোকানে ত্রয়োদশী থেকে পঞ্চাশের ভীড় আরও কত কী। মনে হয়, এ সব প্রতিদিনের পাপ আজকাল আমাদের রক্তের ভেতর টলটল করছে। মহামারী এই শহরে আর আসবেনা কখনও। কারণ, সে আমাদের আজকের জন্য রেখে গেছে আরও গভীর পচনের দাগ। আমরা নিজেদের কোয়েস্ট মলের আর পাটায়াতে হলিডের বিল বেছে নিই অসুখে অসুখে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যা যা কিছু পাওয়ার জন্যে আমরা দিনরাত ঝগড়া করতে গিয়ে আরেকবার নষ্ট হয়ে যাই – সে সব হিসেবেতে ঠিকঠিক পেয়ে যাব অচিরেই। আরেকজন একটু খারাপ থাকতে পারে। আমদের তাতে কিছু এসে যায় না। আমরা বিশ্বাস করে নেব, সেও খারাপের মধ্যে আসলে ভালো আছে কারণ তারও দেয়ালেতে ঠেকে আছে পিঠ। সেও অন্য আরেকটা আমি। সেও কাউকে খারাপ রেখেছে। এভাবেই চলুক না, ক্ষতি কী?...

ব্যক্তিগত সত্যির বিষয়ে কিছু কথা

  সত্যি লিখব। অন্যের সত্যি নয় ; আমার কাছে যেটুকু সত্যি, তার কথা লিখব। আমার কাছে যা গান, তাকেই গান বলে যাব। নিজের কাছে, অন্যের কাছেও। যতদিন না দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, রাতে ঘুমোতে না পারার অবস্থায় পৌঁছে যেতে হয়, গ্যালিলিওর মত না হোক, নিদেন‌পক্ষে শারীরিক কষ্টে বা স্বাস্থ্যহানিকর অবস্থায় না থাকতে হয়, ততদিন এই ব্যক্তিগত সত্যের সাথে কোনো আপস করা যাবেনা। হ্যাঁ, অন্যকে অসম্মান করব না বটে, তবে‌ কেউ তার সত্যের অবয়ব আমার ওপর চাপিয়ে দিতে হলে না কামড়ালেও ফোঁসটুকু করতে‌ আমাকে হবেই। আমার ব্যাপ্তি সামান্য। কিন্তু, সেই সামান্যীকরণে আমার নিজস্বতা, স্বকীয়তা প্রকাশ‌ পাবে। আমার সামনের মানুষটি জানবে, আমি নতুন কিছু বলছিনা কিন্তু যা বলছি তাই এই‌ অস্বাভাবিক সময়ে ভুলে যাওয়া আসলে‌ একটা স্বাভাবিকত্বের সংজ্ঞা। মানুষ কবিতা পড়ে কিছু হওয়ার জন্যে নয়, তার কাছে কবিতা ভালো - তাই সে‌ পড়ে। অন্যদিকে কবিতা পড়ার চেয়ে একটা প্রোডাক্ট ডিজাইন করা অর্থনৈতিক দিক থেকে সময়ের অনেক যথার্থ ব্যবহার।‌ এই দুটোই সত্যি, একই সাথে সত্যি। কিন্তু একই মানুষের কাছে, বা বলা ভালো দুটো‌ এক মানসিক সত্তার কাছে সত্যি নয়। একজন প্রো...

উস্তাদ রশিদ খান

  উস্তাদ রশিদ খান মারা যাবার খবরের পর এই লেখা মাথায় এলেও এ লেখা ওঁর মৃত্যুর সম্বন্ধে নয়। কারণ, এই মুহূর্তে ঘটে চলবে কিছু নির্লজ্জতার উৎসব। যারা গত ১০ বছরে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটিও অনুষ্ঠান সামনে বসে শুনতে যাননি, ওঁকে শোনা দূরে থাকুক, তারাও বলবেন ওঁর মৃত্যু সঙ্গীতজগতের কতটা অপূরণীয় ক্ষতি। কেউ কেউ দাবি করবেন, ওঁর গান শুনেই বড় হয়েছেন, গান চিনতে শিখেছেন। কেউ ওঁর সাথে ছবি দেবেন। কেউ কেউ‌‌ এমনকি পোস্ট করবেন testimony - রশিদ জী তাদের গান শুনে কী বলেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব লেখা অবান্তর। এর পেছনে নিখাদ শ্রদ্ধা নেই। আছে একরাশ - আমাকে দেখুন। আছে - আমি শুধু অ্যানিমল দেখিনা, উস্তাদ রশিদ খানকেও শুনি। আমাদের সাথে প্রত্যেক মুহূর্তে যা যা ঘটে যাচ্ছে, আমাদের সাফল্য, ব্যর্থতা, না চাইতে পাওয়া, পেয়েও হারানো - এসব কিছুর মধ্যে মৃত্যুকেও যদি এক দৈব সম্ভাবনা বলে ধরে নিই, তাতেও এ কথার সান্ত্বনা পাওয়া যায় না যে, মৃত্যু আসবেই। আর আসবে যে কোন বয়সে। যে কোনো সময়ে। সমস্ত বাকি থাকা ছক, হিসেব করে দেবে ওলটপালট। এ জন্যই ঈশ্বর। এ জন্যই খোদাতালা। একটাই জীবন আছে ; কিন্তু যদি তা ছোট হয়ে যায়? অপর্যাপ্ত হয়...

হে‌ পূর্ণ...

  মনে হয়, আমায় সুস্থ রাখবে বলেই এসমস্ত শুরু করেছিলে তুমি। ২১ দিনের চ্যালেঞ্জ – বই, লেখা, সকালে একটু যোগাসন। তোমার নিজেরও সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। নিজে ভেঙেচুরে যাচ্ছিলে। আমরা সবাই যাই। অথচ, পৃথিবী দেখো- শুধু সম্পূর্ণকে স্বীকার করে। সবকিছু অপাপবিদ্ধ চাই। নিখাদ, নিটোল চাই। তোমার ভাঙাচোরা আদল নিয়ে তুমি তোমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকর্মীটির সহমর্মিতার কাছে দাঁড়াও। বন্ধুর কাছে, এমনকি মায়ের কাছে দাঁড়াও। একদিন, দু’দিন, তিনদিন। বল, ভেঙে যাচ্ছ তুমি। ভেঙে যাচ্ছি, শোনো! নির্দ্বিধায়, তোমায় অসহ্য লাগবে। না। শুধু ওদের নয়। তোমার নিজেকেও নিজের অসহ্য লাগবে। মনে হবে, সবই তো চলছিল ভালোয় ভালোয়। তাহলে, হঠাৎ ভাঙন কেন? এত আত্মকরুণা কেন? ভিড়ের মধ্যে এত অভিনয় কেন অবশ্যম্ভাবী? সেসময়, কে তোমায় তুলে আনে স্বচ্ছ সরবরে? কে এনে দেয় পার্ক স্ট্রিটের বাঁশি আর বো ব্যারাকসের ক্রিসমাস কেক? তোমার মূল্যবোধ – যাকে, যাকিছুকে ছোটবেলা থেকে তুমি কথা দিয়েছ। সেই আশরীর জাগানো গান, দু'কলম, ভরসা জাগানো কিছু বন্ধুত্বের দিনলিপি - যা লিখতে লিখতে তুমি আচমকা ঘুমিয়ে পড়েছ। আর, তোমার সুস্থতার আলো একদিন সকালে আমার বিছানায় এসে পড়ে। আমারও মনে ...

এই সমস্ত দিনে বল

  এই সমস্ত দিনে বল, তোমরা বাড়ি আছ? আজ একটু সন্ধ্যেবেলা মিষ্টি নিয়ে যাই? সকাল থেকে বেয়াক্কেলে গরম পড়েছে। বাইরে বেরোওনি। ভালোই করেছ। আমি একটু ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলাম বটে, তবে দু একটা কোলা, তারপর বোম্বে গোলা, আর তারপর uber নিয়ে বাড়ি ফিরতে হল। ভীড়ে আর গরমে দম আটকে আসছে। শরীর কেমন আছে? না জিজ্ঞেস করলেই ভালো হত বোধহয়। কালকে কাকুকে বেলভিউতে কখন নিয়ে যাচ্ছ ডায়ালিসিসের জন্য? আর এই যে, তোমাকে বলছি, অষ্টমীর সন্ধিপুজো পেরিয়ে এলেই মটনটা খেয়ো না বাবা। তাহলে পরের বছর তোমাকেও বোধ হয়... অবশ্য আশি পেরিয়ে এ প্রজন্মে তোমরা ভালই আছ। সেভাবে বলতে গেলে, সুস্থই আছ। এদিকে দেখ? আমরা অভীকের সাথে কথা হয়েছে আমার। গত কয়েক বছর হয় নি, বোধহয় আগামী বছরও ওর হবে না। তবে ক্রিসমাসে আসতে পারবে মনে হয়, বুঝলে? তোমরা দু'জন সেই কলেজ লাইফে একবার বন্ধুদের সাথে শিমুলতলা গিয়েছিলে না? নাকি মধুপুর? এবার বরং অভীক এলে একবার ঘুরে এসো। ছেলের সাথে ছোটবেলা। লালমোহন গাঙ্গুলীর উপন্যাসের মতো মনে হচ্ছে না নামটা? অবশ্য তিনি নস্টালজিয়া নিয়ে ভেবেছেন বলে মনে হয় না। আমার অক্সিজেন চলছে। এই বছরটা কোনরকমে টিকে যাব আমি। শতদ্র...

কেন‌ যাবে?

  কেন‌ যাবে? অপ্রয়োজনে? অতিকায় অশালীন আনত গ্রীবার ছায়াটুকু আমার বুকের ওপর আচানক ছুঁড়ে দিলে তুমি। আমাদের দৈত্যের বাগানে ছিল বসন্ত, খরগোশ, আর কিছু প্রসন্ন আমের মুকুল — যা কিছু দৈবাৎ আমাদের কাজে লেগে যেত দ্বন্দ্বে, প্রমাদে। তবে, এ বছর বর্ষার আগ দিয়ে বেজন্মা আবহাওয়া দপ্তর আবার ঝুলিয়েছে – মৌসুমী ফাঁড়া। তবে? কেন যাবে? অনাহূত বর্ষায়? অপাদানে, অনধিকরণে? দ্বিধায়? একান্ত কোনো প্রয়োজনে?

বিষমপদ

অস্বচ্ছ, বা অসহ্য জীবনযুদ্ধে দাঁড়াব বলে আমরা হেঁটে এসেছি এতখানি পথ - লেবু, কাঁচালঙ্কা বা একটু লবঙ্গ পেরিয়ে। এখন যা খেতে বিষম লাগে, বা যতটুকু বিয়ারের পরে বিষম মনে হয় ততটুকু মনে‌ রেখো। তবে, এও জেনে নিও - আমাদের সহচরী পথ - তড়িৎস্পৃষ্ট, বিষমপদী হয়নি কোনোদিনও।