Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2022

জাগরীর আলো

  এরকম পরিচ্ছন্ন সকাল দেখলেই এখনও রোদ আর অফিস উপেক্ষা করে বেরোই। দৃষ্টি স্বচ্ছ হয়। নিরবিচ্ছিন্ন ব্যস্ততার বাইরে, ধর্ষকাম আওয়াজের বাইরে যে একটা কলকাতা ট্রেনলাইনের ধারে, ডালহৌসি পাড়ার ফুটপাথে আর জগন্নাথ ঘাটের আসে পাশে এখনও একটা সকালকে একটু শান্ত হয়েই মেনে নিয়ে বেঁচে আছে - এসবকিছু একটু একটু দেখতে পাই। শিয়ালদাগামী সোনারপুর লোকালে এমন সকালে অতর্কিতে একটা সিট পাওয়া গেলেও যেতে পারে। আমরা যারা এক সময় এ পথের ট্রেনে গেছি বারবার কিংবা এখনও যাই, তারা ভিড়ে বিরক্ত হই কারণ ঢাকুরিয়ার আগে বা পরে, ট্রেন একবার দাঁড়াবেই। ভেতর আরও ভ্যাপসা হয়ে আসবে; পাশের লোকের জামায় চিটকে থাকা ঘাম অনিবার্যভাবেই অসহ্য মনে হয় তখন। ঠিক তখনই এইসব বস্তি থেকে তরকারি রান্নার, মাছভাজার গন্ধ আসে। জিভ সজাগ হয়ে শোনে মশলার ঝাঁঝের কিড়মিড়। নাক উশখুশ করতে করতে ভাবে- যেটুকু পাওয়া যায় হাওয়ার আনাচে কানাচে, সবটুকু সাপটে খাওয়া যাক । মনে হয় এই খাওয়ার লোভে, একটু সুরেশ থেকে মিষ্টি নিয়ে বিজয়া করে আসি ওদের বাড়ি। বন্ধুত্ব না হয় , একটা নিজের স্বার্থগন্ধী সম্পর্ক হোক। সেসব হয় না কোনদিনই। যেমন প্যারিসে ঘুরতে যাওয়া হয়না; কোনদিন না গিয়েও আমায় স্বছন...

কোজাগরী

  সকাল থেকেই মনে হচ্ছিল, এবার কি কেউ খিচুড়ি খেতে ডাকবে না? একটু প্রসাদ? পাঁচালি শোনা? ধর্মে নেই তো কি? উৎসবে তো আছি। বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। পাটুলি পেরিয়েই নাকে ধূপগন্ধ। তারপর আরেকটু দূর। আরেকটু হাঁটা। পুজো শেষ হয়েছে। বৃহস্পতি-চন্দ্রের সহাবস্থানে কাল দেখেছি আকাশে এক আশ্চর্য উজ্জ্বল চাঁদ, তার পাশে ছোট্ট ফুটকি। বহুদিন পর কাল কলকাতার আকাশে এত তারা। এসব কি এমনিই যাবে? রবীন্দ্র পল্লী পেরিয়ে ঘরের দিকে ফিরি আর ভাবি ,এবার তাহলে একটা আশ্চর্য কিছু ঘটে যাক। পুরোনো বন্ধু রাগ ঝেড়ে ফেলে একটা ফোন করুক। নিদেন পক্ষে না হয়, চায়ের দোকানের ছেলেটি আবার ৩ বছর আগের মত ছাঁকনিতে গরম জল ঢালতে ঢালতে হাংরি জেনারশেনের কিছু কবিতা আবৃত্তি করে শোনাক? তখনই এই দুর্গা পুজোর খালি মণ্ডপকে ঘিরে দেখি কিছু লোক লুচি আর ফল প্রসাদ খাচ্ছে। উঁকি মারি। অত বড় বেদী ফাঁকা। ঘোলাটে আলোয় কয়েকজন প্লেট সাজিয়ে রাখছেন এক পুঁচকে লক্ষ্মী ঠাকুরের পাশে। কাছে যেতে যখনই ইচ্ছে করে, তখনই অনিচ্ছা সত্ত্বেও পালিয়ে যাই কেন বারবার? কেন কথা বলতে, সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি না সাহস করে? পায়ের গতি বেড়ে যাচ্ছে এবার। পালাচ্ছি। "ও দাদা, ...

কোজাগর

  জেগে আছ? রাতের গভীর পথে একা একা প্রতিধ্বনি ঘোরে। জেগে আছ? জেগেছ কি? মন্দ্রসপ্তকের ষড়জ ভেঙে পাতিত জল এসে পরে গালের ওপরে। জেগে আছ? জেগেছ কি? প্রতিধ্বনিরা ঘোরে দরজাতে জানলায় কাতর হয়ে উঁকি দেয় কোজাগরী চাঁদ। জেগে আছ? কেউ কি তোমরা আছ জেগে? কে কিনবে অলক্ষ্মী প্রতিমা? সোনার পাথরবাটি ? লোহার অলঙ্কারা রূপ? দরজা খোলে নি তাই, যদিও বা দরজার পাশে অভ্যাসে আঁকা এক আল্পনা জানে, এই ছাপ তারই! কে কে আছ জেগে? জাগো গাছ, জাগো ঘরবাড়ি। শুনে রাখ, রাখালের পালেতেও পড়েছিল বাঘ। ডেকেছিলে তাই, এসেছি আজকে আমি ; দেব যা যা চাও শুধু বল, জেগেছ কি? জাগে না শহর। নিশিডাক প্রান্তিক থাকে। রাতের প্রেমিক জানে, সেরা তাকে কী কী নামে ডাকে। তোমার সিঁদুরে থাকে অলক্ষ্মীর ছাপ। লক্ষ্মী ছেলেই ভেবেছিলে? তাই লক্ষ্মী আসে নি ঘরে, ঘনীভূত শোক-স্তব-সমস্ত-পাপ! ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ (ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

যা কিছু রটে, তার কিছু

  যতটুকু দেখা যায়, ততটুকু সবকিছু নয়। কাশ আর আকন্দের কাছাকাছি সামান্য উর্বর জলা সন্ত্রস্ত বসে জৈবিক পচনের নাভিশ্বাস ঢাকে। জন্মনাড়ীর স্বেদ, ত্যক্ত সোঁদাটে খসা জিভ সেপটিক ট্যাঙ্ক চেঁছে হলদেটে নখের প্রতিভা এইসব অনিচ্ছুক দিনাবলী পেরিয়ে পেরিয়ে, এইখানে পৌঁছনো যায়। তবে, সেটুকুই সবকিছু নয়। এইটুকু নিয়মিত দিনের ফসল এক, আর কিছু নয়। যেইটুকু নিয়তির দৈব-চাহিদা সমুদয় না ঘটলে প্রশ্নই উঠে যেত কে কোথায় হিসেব রেখেছ আর দিনশেষে প্রসাদের প্রসন্ন চাহিদার যৌক্তিকতার, ও'টুক ঘটেছে, ব্যাস! তোমার সমস্ত দান অপাত্রে যাবে? তাই ভাব, এখনও যখন কেউ জাগে না বলেই মনে হয় আর, তখন সে খোদাতালা একাই জাগেন। ৮ অক্টোবর, ২০২২

দ্বাদশীর এই বিকেল

  সে চলে গেলে, তার চলে যাওয়াটা টের পাওয়া যায় পুজোর পর দ্বাদশীর এই বিকেলের মত। বিসর্জনের পর প্রতিমার বেদীর ওপর একলা পোড়ে সলতের কালো। একাদশী সন্ধ্যার শেষে শহরের ভিড়কেও একটু ক্লান্ত মনে হয়। রাস্তাঘাট একটু একটু করে ফাঁকা হতে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় প্যাণ্ডেলের জামাকাপড় সবার চোখের সামনে হিড়হিড় করে খুলে নেয় কেউ। এসব দেখে আমাদের কারো কারো মনে হয়, এইসব আলোর উৎসব একটা মুহূর্তের মলম, গভীর গভীরতর ক্ষতকে চারটে দিন ভুলে থাকার একটা sleeping pill. বাঁশের গায়ের কালশিটের মত হঠাৎ একটু একটু করে চিড়বিড়িয়ে ওঠে আমাদের অসুখী দাম্পত্য, সামাজিক নাটুকে মেলামেশা কিংবা right bundle branch block করা অফিসের ক্রমাগত একবগ্গা অপমান আর মিথ্যে প্রমোশনের প্রতিশ্রুতি - সবই আছে, আছে, আছে। একডালিয়ার বাড়িতে এ'কদিন বেশ কাটাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব অজয় জেঠু। পাড়ার ভীড়ে, চল্লিশের কোঠায় পৌঁছনো ভারতের তিন প্রান্তে কাজের সূত্রে থাকা তিন বন্ধুর সপরিবার হুল্লোড় কিংবা সদ্য কলেজ ক্যাম্পাসিংয়ে চাকরি পাওয়া দু'জনকে আইস্ক্রিম নিয়ে চুমু খেতে দেখে নিজের পঁচিশ তিরিশের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন শেষ কিছুদিন। প্রতি বছরই এই সময...

নবমী রাত

  অপাপবিদ্ধ এক ধূপগন্ধে ছেয়ে যাচ্ছে পাড়া। কাছাকাছি আঁটোসাঁটো হয়ে বসে আছে কবুতর কাশের ক্ষুণ্ণতা এখনো আশ্চর্য লাগে বুক আমাদের অনাবিল ঠোঁট, আঙুল ভিজিয়ে দেয় নদী খরস্রোতা। এই আলোয় এত মায়া জীবন এখনও এত দামী আমরা ঠাকুর দেখে বাগবাজারের ঘাটে নামি। প্রজন্ম পেরিয়ে যায়। ঘরে ফিরে আসে কেজো লোক একাকী দেয়াল দেখে, আঙুলে আঙুলে মাপে শোক অথচ তরুণীবেলা পিঙ্গল রাতের চাদরে তোমাকে জড়িয়ে রাখি, লোমে-বুকে আদরে আদরে। আবার চক্ষুদান বিজয় ঢাক পাড়ায় পাড়ায়। তোমাকে ঘরেতে আনি। প্রতিবেশী, ওঠো! দেখো - কীভাবে নিষিদ্ধ ভোর এ আশ্চর্য ধূপে সকাল হয়ে যায়। ১৪ অক্টোবর, ২০২১

আদর ও একটি ঢাকের কথোপকথন

  দশমী রাত্রি শেষে বিষণ্ণ ঢাক, তুমি আমার আদর জেনো। আদর - শুধু এটুকুই সুখ, এটুকুই বলা বাকি। ভোরের নিঃসঙ্গ শালিক পাখি যেমন জেনেছে বিষাদ, তেমনই ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নানে বিগত বৈভব খোলা রাখি। একাদশী, একাকী আলো। এত আদরের, বিড়াল ও লোমে ঝেড়ে নেয় পুণ্য গঙ্গাজল, বেসিনের ত্যাজ্য সফেন ও এই ঢাক চিতার ফসল। দশমী রাত্রি শেষে বিষণ্ণ ঢাক, তুমি আমার আদর জেনো। ২৭ নভেম্বর, ২০২১ (ছবিটি Facebook- এ চন্দ্রিমা মাইতির wall থেকে নেওয়া)

ঘাট এবং একটি একলা মানুষ

  সামান্য স্বর, সামান্য সংসার এখন কিছুই আদ্যিকালের নয়, বুক ভিজেছে চুলের জলে, স্নানে আলগা ঝোলে তোয়ালে আশ্রয়। আমার স্বভাব মিথ্যে আঙুল রাখা প্রতিশ্রুতির শান বাঁধানো ঝুলে এভাবে সব আঁকড়ে ধরে রাখি আলো শেষের একাকী মাস্তুলে। আসলে সবাই মনের কাছে থেকেও নিজের মনের মতন তো নয় কেউই আমার কিছু ভিজছে ধুলোর আলোয় নিজস্বতার বেচাল খানিক সই? আকাশ এখন হলুদ, কালো, লালে আজব কিসিম। নামছে ভাতের থালা সোঁদা আতপ, পটল, সবুজ গাঢ় গ্রাসের আঙুল বিষণ্ণ একতারা। বিকেল শুধু নিজের দোষে ফকির। করণিকের কড়ক আঙুল কাফি, ভেজাই না হয় সাদায় চাদর অলীক! ঘরের মানেই জুলুম নিয়মমাফিক। যেইটুকু যায়, সমস্ত যায় নাকি? পারস্পরিক শুরু বুকের জলে, আসছ কখন? পরশু না কাল? আজই? একাই বিকেল ঘাটের কাছে বলে। ৫ অক্টোবর, ২০২২

বিসর্জন

  তুমি যাচ্ছ, আর তোমার পেছন পেছনে চলেছে এক একটা প্রজন্ম। তাদের রং এক নয় ; বর্ণসঙ্কর জাতির কখনও উৎসবের রঙ নিয়ে ভাবতে নেই। তুমি জান নি, দেখবে বলেও ভাব নি একবারও। তোমার শেষ উৎসবে বাজছে আজান থেকে আগমনী, ভাংড়া থেকে কলি-বলি-টলি নিহারী থেকে রিসোত্তো সব কিছু পেরিয়ে প্রজন্মকে টানতে টানতে তুমি নিয়ে চলেছ বাগবাজার ঘাটে। ঘাট একা জলের কথা জানে। এরা কোনদিন ঘাট দেখে নি, বোধহয়। সন্ধ্যে ৬টার ফেরী যখন এক দঙ্গল ঘেমো কেজোদের হিঁচড়ে হিঁচড়ে ফেরায় বাড়ি, তখন গঙ্গা জানে, এই তো এসেছে ওরা। ওরা আজও বাংলা বলে? জল মানুষ চেনে না, প্রজন্ম চেনে না শুধুই ভাষার কথা বোঝে। শাড়ি শোনে আলমারির ফিসফিস। ১৫ বছরের পুরোনো শাড়ি আজ এটাও জানে, উঁইয়ের শব্দ বোধহয় এই ১৫ তলায় আসে না। অষ্টমীর পরই কি কোনদিন আসে সরস্বতী পুজো? আলমারি জেনে নেয় ব্যবহৃত কুর্তার থেকে। টপ টিপ্পনী কাটে, "তুমিও পুরোনো হলে"। শাড়ি প্রজন্ম জানে, গন্ধ জানে টপকে সে বলতে শুনেছে, "গায়ের গন্ধটা বদলে যায় জানিস? এটা ও নয়, সেটাই গন্ধই বলে আর ওর সাথে ভীষণ স্বাদু গন্ধ ওর, আমারও ভালো লেগে যায় এত!" কীভাবে টানবে তুমি এত এত এত? তোমারও ক্লান্তি আসে। তাই দশমীর হাত...

নির্ভেজাল

  সেভাবে দেখলে অনেক সামাজিক সম্পর্ক বাকি থেকে গেল। পাড়ায় পাড়ায় সপ্তমীর ক্যুইজ কন্টেস্ট চলছে; অন্তাক্ষরী প্রতিযোগিতা, মিউজিকাল চেয়ার - আরও কত কী! সপ্তমীর পুষ্পাঞ্জলি শেষ হয়েছে সকালে। অলক্ষ্যে কোন সকালে পাড়ার ভীড়ে নিজেকে গুঁজে দেব, কতবার ভেবেছি। যাই নি। আজ বাড়ির পুজো হচ্ছে, তাই ব্যাপারটা ঘটে গেল আর কী। কয়েকদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করছিল, কিছু হয়ে ওঠা হল না বলে আফসোস হয়? না তো। তবে, হ্যাঁ। টিনএজে একবারও ওলটপালট করে কাউকে ভালোবাসা হল না, এমনকি আজও হয়নি বলে মন খারাপ হয়, আফসোস হয় বৈকি! যে সম্পর্ক প্রথম কথা না বলার সাহসে কোনদিন জন্মায় নি, যেসব বিদেশ দেখা হওয়া ছিল প্রায় নিশ্চিত, অথচ থাকার খরচের ভয়ে কোনদিনই হয়ে উঠল না, শুধু ফোন করতে অনীহার কারণে যেসব সন্ধ্যেবেলা তেমন আর সম্ভাবনাময় বলে মনে হচ্ছে না আজও - এসব নিয়েই থাকতে হবে। আমাদের সবাইকেই থাকতে হয়। কিন্তু, এই থাকার মানে পিছিয়ে পড়া- সেটা নাও হতে পারে। আসলে, এসব লিখতে লিখতে নিজের সাথে একটা অসেতুসম্ভব বোঝাপড়া হতে থাকে। এমন অনেককে চিনি, যাঁরা নিজে আদ্যপান্ত পপুলিস্ট কাজ করে যেতে চেয়েও আসলে মেধাবী কবিতা লেখেন। সাউথ সিটি...