Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2023

শিল্প

  তোমার ভেতর নিবিড় আমার দূর শিকড় এখনও যা গভীর আছে ব্রত, স্নান প্রাচীন স্বাদ গড়িয়ে পড়ে দুর্নিবার তোমার বুকেই শিল্প আমার শোষক , গান। 1 February, 2017

স্বীকার

লিখিনা অনেকদিন। তবুও কাগজ কিনে আনি। কাগজের টানই এত অমোঘ যে, ওর সাথে অনাবশ্যক কিছু পেনও গুটি গুটি আসে। হিজিবিজি কলম-পিপাসা নিয়ে অগত্যা আঁকিবুঁকি টানি। আসলে এখন বই কেনে‌‌ না তো‌ কেউ, লিখছিনা তাই। প্রকাশ্যে বলতে পারি না, তাই শব্দে‌ আড়াল নিই, ঢাল আর বর্ম টেনে চুপিচুপি লিখে‌ রাখি - আমার চিন্তাপ্রসূ আদরজীবিকা। এই লেখা, এ‌সব শব্দশব আমি কি আদৌ চিনি? ওরা তো মোটেই আমাকে চেনেনা। তোমায় লিখছি‌ শোনো, জনান্তিকে, আড়ালে সেঁধিয়ে, এসময় অসুস্থ খুব ; এই পৃথিবীতে আর কেউ নতুন কিছুই লেখেনা। ২৯ জানুয়ারী,‌ ২০২৩  

অন্নপূর্ণা ভাতের হোটেল

দুপুরে হোটেলে বসি ; দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। মনে হয়, এখনই সকাল হল। চোখে আলো লেগে যায়। পিচুটি? না, পাপ লাগে। এ রাত, আমার কিছু স্খলনের রাত - তাকে‌ তাই ভুলেও ভাবি না : উফ্, বিছানায় কীভাবে যে মা-মাসি‌-মনোনীতা এক‌ হয়েছিল! বাটন্ মাশরুম আজ‌ ওমলেটে, দাঁতে ওকেও কেটেছি। ছি, ছি! ক্যানাইনে চকচকে ইডিপাস, শরীরী তরল - সবাই আমাকে বলে, উঠো‌ না। ঘুমিয়ে থা‌কো, রাতটুকু সকালে গড়াক। তবু , হোটেলে বসতে হয়। এই মুখে ভাত খাব, অন্নপূর্ণা মা গো? ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩

একটি দৃশ্যের জন্ম

  "কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়" - এই বলে একমুখ খয়ের জড়ানো থুতু আমার বাঁ পায়ের পাতা ঘেঁষে উগরিয়ে দিলে। আমরা তাহলে কি আজও দৃশ্য, সংলাপ থেকে সরে‌ আছি দূরে? এখন ঘরেতে এলে ঘিরে ধরে শ্যাওলা রুটির স্বাদ, আমাদের মিথোজীবী স্বভাবচারিতা - "কী এনেছ? ম্যাঙ্গো সুফলে? ধুর, গুড়ের পেলে না?" "নেক্সট মাসে সিমলা যাচ্ছি, ওকে? পাহাড়ের থেকেই কল নিয়ে নেব" । এসব সাহসী ভাষা নিয়ে চোখ চিকচিক করে এলে ক্রেডিট কার্ডে ভাঙি পাপ আর অবাধ্য চাহিদা। তবু, যা পারিনি তা দৃশ্য নিংড়ে দিতে। আমাদের পাহাড়ের একান্ত কফিতে, শুধুই গ্যাঁজলা ওঠে। ফেনা? না না। নিউ জয়েনার বলে ভুল করে ওকেও চেটেছি। এত কিছু হল তবু আমাদের কাছে‌ কোন কথার জন্ম নেই, ছবির জন্ম নেই, বিছানায় ভাসা ভাসা লাল-সাদা আলো। সেডান জড়িয়ে থাকি, সভ্যতা-সবক শিখিয়ে - দৃশ্য পিছলে যায় তরল লালার মত। তারপর, কালো আর কালো। ১৮ জানুয়ারী,‌ ২০২৩

"শেষপর্যন্ত তোমাকে চাই"

  সমস্ত ভালোবাসাই যদি খাওয়ার মত বা এক কাপ চায়ের মত জিভেতে এমন এলিয়ে যেত! ভালোবাসার সাথে জিভের অবশ্য যোগাযোগ আছে। জিভে এলে ভালোবাসা ভিজে যায়, স্বাদু হয়, সতেজ হয়ে ওঠে। জেগে ওঠে শেষমেশ। খাওয়ারও তাই। আসলে, ভালোবাসার সাথে খাওয়ার আর খাওয়ানোর‌ নিশ্চয়ই যোগাযোগ আছে। এটা ততদিন বুঝিনি, যতদিন‌ না এক সম্পূর্ণ ছাড়াছাড়ি হল। যতদিন জিভে স্বাদ লেগে থেকে আমাদের বিবেকানন্দ পার্কে খাওয়া দই ফুচকার, যতদিন নিজামের পাশের আউটলেটে জানুয়ারি পড়লেই একা একা বিফ রোল, কিংবা হালিম খেতে যাব, যতবার পার্ক স্ট্রিট ফিরলেই ওয়েসিসে ঢুকে গিয়ে মনে হবে, (আনিসুল আছে কি আজও?) বলা‌ যাক চিজ-চেরী-পাইন্যাপল্ আর তিনটে বিয়ার, ততদিন কীভাবে পুরোপুরি ছেড়ে চলে যেতে পারি? এসব বুঝিনি। তবু আমার বাড়িতে এলেই তুমি আনতে পোস্ত চিকেন। হ্যাঁ, প্রথম তুমি। তোমাকেই বলছি। ওটাতেই সেরা ছিলে। ওহ্, না না! তোমার চকোলেট, অরগ্যানিক মধুর কেরামতি - সেসমস্ত মনে রেখেই আজ সসম্মানে স্বীকার করি, তোমার ঐ‌‌ পোস্ত চিকেনের কাছে এইসব কিছুই ছিল‌না। আমাদের কিচেনে ভাত করা, সেই, মনে‌ আছে? ছাড়ো। আর তুমি, অ-দ্বিতীয়, তোমার দ্বিতীয় হয়ে ওঠা হলই না আর। নির...

মোক্ষলাভ

  আমার বড় হওয়া মানে এক একটা ভুল পেড়ে পাওয়া। স্প্লিট স্ক্রিন, মাল্টিপারপাস স্কুল ছেড়ে বসের‌ মাল্টি টাস্ক, - কোনকিছু গুছিয়ে হল না। এতদিন বুঝতে পারি নি, দুটো স্ক্রিনে ওরা কীভাবেতে অনর্গল বকে যেতে পারে। মাথা দুটো নাকি? অথচ, এটাই করি - আউটলুক, টিমস্ কলে। ওদিকে debug জারি, বোবা বোবা এদিকে, কে যে আবার কলে টেনে নিল! ঢুকে যাব? অন্তর্বাহিনী স্বর, বলো, বলো কোথায় পালাব? জখম মেট্রোতে তুলি বিমর্ষ বাহিনী। মোবাইল গোঁজো, কানে, পেছনেতে, সব ফুটো আটকে এবার তবে উটপাখি হও। সও, প্রমা, অপারগ কুমার, জানো, অর্থই ভূমা? ২০ জানুয়ারী, ২০২৩

তরঙ্গিনী

  নিয়ে নিও। কিপটে আদর, ভয়ে ভয়ে ঠোকরানো চুমু ঠোঁটকাটা রাতের তুমুল কথা কাটাকাটি, সব - নিয়ে নিও। দিও শুধু হাতের আঁজলাটুকু ভরে নিয়ে মেঘের বিপ্রতীপে ভেজা ভেজা জলে। ভেতরের বুদবুদ বায়ু, ময়দানে‌ পাংশুটে সূর্য যেইটুকু বলে থেকে গেছে আমাদের, সমস্ত দেখাদেখি মিটে গেলে ট্রামের মিউজিয়াম হয়ে যায়, এ এক আজব পথ - বিয়োগ। সন্ধ্যে হচ্ছে না কি? শোন প্লিজ, এ'রম করতে‌ নেই, তরঙ্গিনী, অন্ততঃ এইটুকু দিও? ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩

"তরঙ্গ যায়, তরঙ্গ ফিরে আসে"

  কলকাতায় শীত কমে আসছে। এমন বেমক্কা দিনে পার্ক স্ট্রিটে বেলুন‌ শুকিয়ে যায়। একটা এমন দোকানের কথা, রাস্তার কথা মনে পড়ে যেখানে মনে হয় আমরা কোনদিন একসাথে গেলে ভালো হত। যেমন, জীবনদীপের পাশে Fire and Ice Pizzeria ; যেমন, থিয়েটার রোড বা লিটল্‌ রাসেল‌ স্ট্রিট। তোমার অফিস পাশেই তো ছিল। আমিও কতবার এ পথে হাঁটব ভেবেও এখনও হাঁটিনি‌ । ঢুকতে গিয়েও Fire and Ice -এ একদিন আমার দরজার কাছে পা পিছলেছে। বুঝেছি, এখনও হয়নি সময়। অন্য কোনদিন যাওয়া যাবে। এই অন্য কোনদিন, অন্য কখনও কোনদিন, হঠাৎ কিছু আকস্মিক হয়ে যাক - এসব ভেবে ভেবে আমার আর কোনদিন কিছুই করা হয়ে উঠলনা। আমাদের সাথেই কলকাতার শীতের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। রক্তের ঝাঁঝ কমছে। ওসব বিশ্ব উষ্ণায়ন বাজে কথা, জানো? তাহলে বেদুইনদের প্রেম শুকিয়ে যেত। Wind, Sand and Stars কিংবা The English Patient-র মত ক্রমাবর্তক বইগুলো কোনদিন লেখাই হত না। আমাদের ভেতর তীব্র থেকে তীব্রতর অসুখ ফুঁসে উঠছে রাসেল‌ স্ট্রিটের পার্কিং স্পেসে দাঁড়িয়ে থাকা মার্সিডিজ বেঞ্জের ফার্স্ট গিয়ারের আওয়াজে, অধিক গভীরগামী আলস্যে জারানো বিয়ার মাগে। আমরা দেখছি আমাদের চেনা‌ লোকেরা এখনও অ...

সরস্বতীকে খোলা চিঠি

আমি যত পথ হাঁটি চোখে পড়ে জীবিত মানুষ জীবিতের তাপ থেকে ধুলোদের আঁচ লাগে গায়ে পথের দু-ধারে দেখি গড়ে ওঠে নদী - জনপদ নর্দমা ঠেলে ওঠা শিশুদের কোলাহল মেশে। ফাল্গুনী শস্যের আল বেয়ে বয়ে আসা জল ফুলে-ফেঁপে ওঠে গ্রামে। বাসনের শুকনো এঁটোতে ঝকঝকে পোড়া ছাই। চকচকে ইলিশের স্বাদ স্বপ্নেরা গাঢ় হয় ; গভীর গভীরতর ভাত- -গন্ধেতে নেশা জমে। ক্ষয়ে আসা হাতের চেটোতে সরস্বতী ঠাকুরের পুজো হয় , ফুল জমে পায়ে জেগে ওঠে বিশুদ্ধ শ্বাসবায়ু, ফুল-পাতা-করুণার জলে। ওই জলে খাওয়া হবে। ও'বেলার মশলার ঝাঁঝে পড়ার সুযোগ পাবে আজ, আগামীর ছেলে-মে'রা। এসবের ইতিহাস খড়কুটো দম্পতি রাখে আমার সন্তান যেন আজীবন দুধেভাতে থাকে। January/February 2016

বিকেলনামা

  বিকেলে আসেনি আজও, সে‌ ছিল বোধনপ্রতিমা। পাখিদের কুচো ঠোঁট, খুঁটে খাওয়া শস্যের বীজে এখনও আদর খুঁজি। ভাসানের সীমা-পরিসীমা ভেঙেচুরে নিজেকেই গোছাতে পেরেছি আমি নিজে? তাতে কিছু অপরাধ খুচরো পাপের‌ মত লাগে। পাঁচ কথা বলে ওরা, বলুক না হয় ; পরিমিত দুঃখের খোঁচাগুলো কুড়ে খায় ইমনে-বেহাগে, এমন বিকেল কে বা জেনেছিল, আদর-পীড়িত? ভাষা খুব জড়, তাই এটুকু যাপন লিখে রাখি। ভিড়েতে‌ একলা হয়ে, অপমানে খুঁড়ে আনি সোনা। ওদিকে নিজের মুখ, লেকে খুব আদর-সোহাগী, আমায় ছুঁয়েছ তুমি? সে ছোঁয়ায় আদর ছিল না। ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩

রিরংসা ও যীশু

  হাত জোড় করি। বলি "যীশু, সমস্ত ক্ষমা করে দিও। ওরা তো জানেনা, ওরা শিশু তুমি তো জেনেছ? কত ঘামের আড়ালে, আমার সমস্ত প্রেম পার্কস্ট্রিটে দাঁড়ালে উজাড় হয়ে যায় জানুয়ারি মাসের দুপুরে, অথচ বইয়ের দোকান খোলা, কুসুমের রোল। নুপুরে আজও কেউ রুমঝুম তোলে নি তো, এখনো মন্ত্রবলে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র, ভীত আমাদের শরীর বেয়ে নিউরন গড়ে, মরে যায় আমরা শুধুই ভাবি চুমু খাব। জিভের গন্ধ নেওয়া দায়-- এখনও সকাল হয় ফ্লুরিসে, বেকনে সানি সাইড আপে আমাদের শৈশব শুধু সানি লিওনি বা, মির্জাই মাপে। তবুও জেনেছি প্রেম - এখানেই শেষ নয় কিছু, আমরা সমস্ত মদ, আমরাই একুশের যীশু। ২৩ জানুয়ারি, ২০২২

সুশাসন ও স্বশাসন

  কিছু কিছু শাসন মানুষকে সুন্দর করে। আমাদের নিয়ে আসে নিজের কাছাকাছি। কেউ শাসন করলে রাগ হয়। মনে‌ হয়, আমার‌ স্বাধীনতার ওপর নিদারুণ স্বেচ্ছাচারিতা। রাগ পড়লে‌, থিতু হয়ে নিজের কাছাকাছি বসি। তখন মন-মাথা এক লাইনে দাঁড়িয়ে । এবার মনে হয়, এমনই তো হতে চেয়েছিলাম। হতে পারি না। ভাবি, মোবাইলকে একটা ফোন বাদে অন্য ভাবে কিংবা উবর্ ডাকা ছাড়া ব্যবহার করব না আর। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো কমিয়ে দেব। অ্যাপ নামানো হয় - স্ক্রিনটাইম ব্লকার। এক দুটো অন্ধকার সরাতে গিয়ে, আরও বেশি অন্ধকারে জড়িয়ে পড়ি, ভাস্কর চক্রবর্তী যেমন লিখেছিলেন।‌ "ওই জিমেলটা ক'দিনের মধ্যে ডিলিট হবে? তুমি পারো‌‌না , আমি জানি। আর কেউ‌ পারেনা? ফোনের‌ দোকান পারে‌না?" - ট্রেনে আজ ছেলেটি বলছিল। কেন‌ বলছে সে? ভালোবাসে তাই। আগলে রাখবে তাই। যেমন করে তুমি চাকরি আগলে রাখ বা নিজের মায়ের জীবৎকালকে। প্রিয় কিছুকে আমরা সম্পূর্ণ অধিকার থেকে শেষ‌ পর্যন্ত চাই। নারীবাদী বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা হৈ হৈ করে তেড়ে আসবে - এ কীরকম কথা? তুমি বলে দেবে আমি কী করব? হ্যাঁ। মাঝে মাঝে বলে দিতে হয় বৈকি! রিহানা দেউলিয়া হওয়ার পর নিজের ...

নিভৃতপ্রাণ

  কোনকিছু হয়নি পুরোনো। গণিকার আতরজীবিকা, মায়াবী শস্যশীষ যা যা কিছু স্বপ্নে কুড়োনো আমাদের বিশ্বাসে অহর্নিশ নতজানু, আগলিয়ে রাখি। বিকেল এখনও এক ধুরন্ধর লটারীর ফড়ে। যা কিছু বা যাকে ধরে এ জীবনে তার, এপাড়া পেরিয়ে আর বেপাড়া যাওয়ার অলীক মদের স্বাদ নাকের তলানি ছুঁয়ে বেমক্কা, বেয়াড়া প্রতিযোগীর হলহলে কামার্ত জিভেতে পড়েছে। দেখ, এই পুরোনো পোশাকে যদি দৈবাৎ পাও পনেরোর লাল সিঁথি, বিছানার চাদরের সাদা। এটুকুই সুস্থতা, যাপনজীবিকা, আর ধারণের ব্যবসার নীতি এটুকু বিলাসপুর, কল্যাণী- সিঙ্গারা চায়ের সাথে ছুঁড়ে দেওয়া শেষের অলৌকিক ধাঁধা। ১৯ অক্টোবর, ২০২২

পুরোনো জামা

  পুরোনো জামাটা হাতে নিতেই একরাশ টিন-এজ প্রেম লেগে গেল হাতে, পিঠে, গায়ে। গন্ধ নিলাম। কত পুরোনো হবে এই জামা? সে সব কথা থাক। এ কোনো বলিউডি পুরোনো জিন্স্‌ নয় যে লিখে ফেলা যাবে একতাড়া গানের লাইন, কিংবা নয় কোনো বাপ-ঠাকুর্দা সূত্রে পাওয়া গরদের পাঞ্জাবী বা ধুতি, যে বেশ হাতে গড়গড়া কিংবা হুঁকো (এখন শুধু hookah bar ই মেলে যদিও বা সহজে)- টিকে সাজিয়ে বেশ আয়েশ করে তামাক নিয়ে বসা যাবে এই প্রাক্‌-শীত সকালে। এ নিখাদ বাঙ্গালী ক্লার্কের প্রতিদিন পরিধেয় জামার মতই এক ফ্যাশন-অজ্ঞ টিন-এজারের জামা। গন্ধ নিলাম। লেগে আছে কিছু নিজের গায়ের গন্ধ? যেরকম বহুদিন আগে ছেড়ে যাওয়া আলমারিতে ঠাকুমার শাড়ীতে পাওয়া যায়? "আমি তখন নবম শ্রেণী।" সোনালি দুঃখের আমেজটা মরে আসছে, আর যখন তখন মনখারাপ বা আত্মহননের ইচ্ছেটা আসে না। মনে হয় না আর, এই আগামী ১৫ মিনিটে কাউকে আদর না করতে পারলে মরে যাওয়াই ভালো। লেগে আছে কিছু সেই আমি? কাঁচা অনুভব? তীব্রতা? একটুও সেরকম আমি? বদলাই নি খুব একটা। কিন্তু বদলেছে অনুভবের আরাম, কবিতায় ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য, দুপুরের অলস বইয়ের ওপর ঘুমের স্বভাব - এইসব বদলে গেছে। সেই মনে পড়ে তারাপদ র...

সুখটান

  সেই সমস্ত চায়ের দোকানে যাই, যেখানে চিনির সরের মত আশ্রয় বুক পেতে আছে। এখনও টালিগঞ্জ মেট্রোর বাইরে বেহালা বাজানো ছেলেটির কোঁকড়ানো চুলে হাত বোলাতে ইচ্ছে করে। ওর সুরের সতেজ ঝিকিমিকি শুনি আর সন্ধ্যে তরল হয়ে আসে। ওদিকে, তুমি ভুলে চায়ে মিশিয়ে দিয়েছ গুঁড়ো চিনি। "হালকা লিকার, চিনি ছাড়া", কারণ এখন আমার আর কোন আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই। "খুব না? কী দেখছিস? পড়াশুনো কর, ভাই", অন্য মেয়েটি তার বন্ধুকে বলে। সুর আমাদের এখনও কোন আশ্রয় দেয়না, শুধু দৌড় করিয়ে ছাড়ে পাহাড়ে পাহাড়ে। আমরা তাই বর্ষায় দার্জিলিং যাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখব না বলে। আমাদের অসহায় ফুসফুস কেশে ওঠে ক্রমাগত অসুখী বাতাসে। আর, মেঘেতে আঙুল রেখে মনে হয়, অন্তত এবছর আমাদের সুস্থ থাকার কথা হয়েছিল। 28 October 2022

বিষণ্ণ চাংওয়াহ্

  কিছু না করা ও তো একটা করা দেখছি দুপুর দেখছি দশ বছরে পাল্টায় নি কিছুই স্কুল না যাওয়া কলেজ না যাওয়া অফিস না যাওয়া হেমন্তে গড়িয়ে যায় সরল মদ বিষণ্ণ চাংওয়াহ্ কিছু না হওয়াও তো একটা হওয়া। 29 October 2020

A Lonely Crow

  A lonely crow and its gnawing caw Dripping everywhere - Like an amnesiac guitar player Groping for the chord. If my eyes be true, The crow dates back to a decade ago - A room at terrace and a torrential storm, A dying afternoon in October-end, Multani mist, stretching afar An intime door, kept ajar, A tune and a mind that coalesced to fit, You ruptured, bled anew, innit? What was that? A teenage lust? I miss your voice, I miss your first. 30 October, 2022 (Photo collected)

মিতকথক

  পৃথিবীতে বড় কথা বলে আর কিছুমাত্র নেই। বরং তা মনগড়া, অক্ষম করুণাপ্রবাহ স্তুতিও বলতে পারো, অলস আত্মাভিমানে সেই প্রদেয় বাড়তে থাকে অনিয়ম, অলক্ষ্যেতে কারও। ছোট কথা লিখি তাই; বড় কিছু বহু বার শোনা কুয়ো থেকে খালে যাই, পুকুরের পাড়ে যাই, নদী বা সমুদ্রের সাময়িক স্থবিরতা নোনা বলে, এসব ঘটনাপ্রবাহ আর আমাদের কখনই কথার অভিঘাতে আর আনতে পারেনা। গুঁড়ো ফুল একলা পাহাড়ে, জলে কোন ছবি আঁকড়ে ধরেনি আর ফোনের ঝলকে, অথচ ফুলের ঘাঁটি দিগন্ত ভেসে ওঠে, গোলাপী-হলুদ ঝিরি মাইল ফলকে। ১ নভেম্বর, ২০২২

A Flyer

  This evening, Mags looked like a deserted pub. It reminded me of the music room of Ray's Jalshaghar, denuded of its vibrance and echoing musical vigour. The waiters were glued to a CRT T.V screen which broadcasted some insipid political harangue. At the counter, I could only see the tip of a bald head, approaching its retirement. The intense somnolence of this place trickles down slowly to his blood as he informs the kitchen is closed. There was no other customer. Voilà, a story that needs no explanation. This is how Park Street will end. This is how we are going to die. Yesterday, a friend asked me, "Are you afraid of death? Or more precisely, do you ever think that we will die sooner or later?" I said, no. But, of course, I see how things around us are silently dying and not many of us are consciously still living out of what remains. There will be no flutist at Park Street after a few years. To which extent our street children can improvise the ballons to sell? I don...

স্তব্ধতা

  স্তব্ধতা কী? আমি বলছি। স্তব্ধতা নিঃসীম আকাশের রাগ। যে হৃদয় পেরিয়ে এসেছ, তার সাথে বোঝাপড়া ভাব। স্তব্ধতা উত্তরের অপেক্ষা রাত ; একসাথে রেঁধে খাওয়া, পেড়ে রাখা পাত অফিস ফেরার পর, একসাথে আলুথালু ঘুম শিশির স্বস্ত্যয়নে ঘাসের ওপরে নিঃঝুম। মুখের কষাটে স্বাদে চোখের ওপরে ঠোঁট ওম্‌ আরও আছে? আত্মহনন থেকে বেঁচে ফেরা জোনাকির আত্মার কাছে। ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

হেমন্তে একটি স্বপ্ন

  এই যে সমস্ত আলো দিয়ে জড়িয়ে রেখেছ এত অবিশ্বাস -- প্রত্যেক মুহূর্তেরা ছোট হয়ে যায়। আমাদের চুলের জড়তা আমাদের একান্ত হোটেলে ব্ল্যাক কফি এখন সব, ব্ল্যাক আউট। আশ্চর্য অথবা অলীক মনে হয়। রাত ১টা ১০ বাজে, অথচ সময়িত হতে হবে। অথবা চুমু খেতে খেতে মনে হবে সময়িতা-র জীবনে এ জীবনে আর আসা হল না। একটি আশ্চর্য বিড়াল গুটিসুটি হয়ে বসেছে, খাওয়ার টেবিলে। আমি ওর লোমে হাত রাখি ছিনিয়ে নিই ওর রাত্রি কামার্ত ওম। ওর গায়ের গন্ধ আমাকে সেই পুরুষের কথা মনে করায় যিনি বলেছিলেন, বাজারে আলুর দাম বেড়েছে, আলুর খোসার উপকারিতা, টমেটো কেন বিলিতি দ্রব্য, ইত্যাদি। অথচ এই অবিশ্বাস, প্রত্যেক মুহূর্তে ছোট হয়ে যায়। ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইবুক এসব স্বপ্নকল্প। শেখাবে কাকে? কে মেনে নেবে শিক্ষিত বাউল? চারুকেশী, খাম্বাজে স্মিত একতারা? সমস্ত পৃথিবীর দিগন্তরেখা বয়ে, আজ শুধু জ্ঞানের পাহারা। ৬ নভেম্বর, ২০২১

কলেজ স্কোয়ারে

  এরকম হেমন্তের সন্ধ্যেবেলা আকাশপ্রদীপ জ্বলে ওঠে নাকি? ওঠে তো। নকুড়ের চকোলেট সিঙ্গাড়ায় কামড় দিতে দিতে যখন মান্না দে'র গলায় শুনতে পাই, "কুয়াশার অগোচরে, কে গো তুমি গেলে সরে?" - তখনই তো, তখনই তো! "এখানে জানিস তো, মান্না দে থাকতেন", সুশান্ত দা আজ বলছিল জলভরা সন্দেশ হাতে। এখনও মান্না দে গেয়ে যাচ্ছেন এ পাড়ায়, শেষ জীবনের 'স্বজনের কটু গঞ্জনা' উপেক্ষা করে। এসব সন্ধ্যেবেলা আশ্চর্য হতে ইচ্ছে করে। সেন্ট্রালে নামি আমরা। হেঁটে পুঁটীরামে পৌঁছে একটু কচুরি-ডাল আঙুলে লাগিয়ে গল্প করি খানিক। 'আর কত ছোট হবে, হে ঈশ্বর?', শঙ্খ ঘোষের শব্দগুলো বদলে নিয়ে, কচুরির চেহারা নিয়ে একটু মজা করতে করতে ভাবি এ শহর, আমাদের চারপাশ আর আমাদের আশ্চর্য হতে শেখায় না। কালিকায় ফিস ফিঙ্গার নিই দুজনে; সাথে একটু কাটলেট। আমাদের জন্য কোন আশ্চর্য মুহূর্ত আর অপেক্ষা করে নেই। কলেজ স্কোয়ারে ঢুকে যাই। "এটা আমার ছোটবেলার পাড়া; বহুদিন পর এলাম রে, ভাই।", এই বলে হঠাৎ দেখি "Members Only" লেখা swimming club-র একটা দরজার দিকে হাঁটা লাগিয়েছে। "আরে, দাঁড়াও। কোথায় য...

L'Ombre

  Dans ma mémoire, Je te veux Sans m'arracher d'une histoire Débile. Je te veux en solitaire, À l'île Tout abandonnée, En chair et en os, jamais touchée Dépouillée de l'âme tranquille. Le passé s'enfuit Comme une ombre construite De silhouette du temps, À l'insu. Où que tu ailles À la mer, en montagne Je te suis - un cauchemar Jamais vu. 8 nov 2022

আরেক শিশুমহিলাকে নিয়ে

  বিকেল এমন বজ্জাত হয়েছে মিলিয়ে দিচ্ছে কিছু সতেরোর শিশুকাল। অথচ হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় শরীরের গন্ধ বর্ধমান কথার বাঁধন দুর্নিবার শব্দকল্পে গড়া ব্যক্তিগত প্রিন্সেপে নৌকোবিহার। বিকেল এমন বেয়াক্কেলে যে বায়নাক্কা না করে আঙুল উঁচিয়ে বলছে এই যে তিরিশের বিবাহিতার সবুজ আদরচুল ওতে তর্জনী মাপো। সপাটে সোফায় আনো বাসুকীর ফনা জেগে উঠুক স্বাগতে, বিন্যাসে বিকেলেরা এত হায়াহীনা যে নিজের ছায়াও আজ সুশোভন, পাশে দাঁড়ালে ভয়েতে দেখি সতেরোর কিশোরীর হরিণ চোখের আলো কে যে ভোলালো? কেই বা নেভালো সব্যসাচীর মত অনেক বার্তা-জানালায়? আমিও কি নই নাকি আরেক পান্ডব? ভাগেতেই মিলে যায় যে সব অস্থায়ী যোগাযোগ তাতে তুমি সৃজিত সৃজনী সমস্ত ভাবনা, হায়া যাক যাক চুলো বা চুল্লিতে তবু আমিই পুরুষ জেনো। আজও কেন এতটা এভাবে, তোমার দিঠির কাছে ঋণী? ২ জুন, ২০১৮

গণিকা

  এই সমস্ত প্রগলভতা পেরিয়ে আমাদের সন্ধ্যে নামে। আমাদের নামে, স্বগত উচ্চারণে নেমে আসে বুকের ভাঁজের মত রাত। আমি মনে মনে ডেকে নিই লিখেছেন যারা আমাদের আগে- শঙ্খ, সুনীল, শক্তি বা মুখুজ্জ্যেরা এসো ; লাইনে দাঁড়াও নেমে এসো আমার শব্দত্বকে, রোমে আর জেনে নাও, কিভাবে মেট্রোগলির বারে প্রত্যাশী, দাঁড়িয়ে থাকে বিষণ্ণ বিয়ার বোতলেরা। ১৩ নভেম্বর, ২০২১

শব্দজাত

  একটি শব্দের উপর ভর করে মাঝে মাঝে বিকেলকে দৈব মনে হয়। সাবলীল, ভূমিষ্ঠ, সদ্যোজাত শব্দের ডানা - একটি অবশ্য বাক্য যেন ; অথচ এত মিত হয়ে গেছি এ সমস্ত বিভেদ-বিচ্ছিন্নতা আর কোনোভাবে পরোয়া করিনা। এখন যতির স্বর, মৃদু তাপ আকাশে অনিন্দিত অষ্ট বসু দেখেই বিছানা ছুঁই, ক্ষণশীল মনে মনে দ্বিধাপ্রসু। ২৭ মে,২০২২

Sad Eyes, Old Age

  These days, my mom’s eyes are looking intensely sad. She was born with despair in her eyes. But so far, it was that sort of melancholy and anguish you would surely overlook amidst the bustle of her agile daily chores. Sometimes, you don’t additionally try to conceal your feelings; you just do it because you don’t feel it anymore. A powerful emotion takes time to percolate. You don’t have enough time to let it drip in. Life won’t allow certain emotion to take the front seat as it would disrupt its equilibrium. It’s still there, only to be found nowhere. It pokes you or pinches you at the oddest hour, but you have no idea out of what it originates. I think, most people grow sad as they age. The finality of life is tumultuous and quite discomforting. Apparently, it seems to be the fear of death, or rather the physical pain that accompanies death. But at a deeper psychological level, it’s more profound. This sadness is a product of sudden epiphany of the utter futility of their life ...

শীত এলেই এইসব মনে পড়ে

  শুনছি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কেটে কলকাতায় শীত নামবে আগামী সপ্তাহে। এর মধ্যেই বো-ব্যারাক সেজে উঠবে একটু একটু। যুগাবতার অথচ শীর্ণ ও নিঃসঙ্গ বাড়িগুলোর সামনে ফুটপাতে বসবে একটা দুটো চেয়ার-টেবিল, খাওয়ার দোকান। রাস্তায় খেলতে খেলতে মুখ থুবড়ে পড়বে জর্জিনার ছেলেমেয়েরা, আর জর্জিনা ginger wine বানাতে বানাতে বাড়ির বারান্দায় ছুটে এসে চিৎকার করবে, "Will you stop meddling with Goldie's tail? Come inside, I say!" ফুলিয়া থেকে ছানা এসেছে আজ J.N Barua-র দোকানে। রতনবাবুর সহকারী বললেন, "দাদা গরম লাগছে আপনার? ভেতরে এসে বসুন।" "না, ওই কলেজ স্ট্রিট থেকে হাঁটছি কিনা।" "আরে আসুন না। প্যাটিস গরম হচ্ছে ; বসে খান।" "হ্যাঁ, শীতই তো পড়ছে না কলকাতায়", আমি বলি। প্লাস্টিকের কাপে চা আসে ওঁদের জন্য সামনের কোন বাড়ি থেকে। আমি বলি, "ছানার কেক হয়েছে?" "এই তো আপনার সামনেই এল। কাল পাবেন। কাল থেকে আর দাঁড়ানোর জায়গা পাব না, দাদা। দোকান ভর্তি কার্টুন।" ততক্ষণে রতন বাবু ছানার হিসেব-নিকেশ শুরু করেছেন করেছেন। আমি চিকেন প্যাটিস শেষ করে হাঁটা লাগাই ডে...