Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2023

The Death of a Street

  I am writing this because I am angry and disgusted. Nowadays, I restrain my urge to be vocal about every single instance that perturbs my intellect and logical sense of being. I started accepting why a particular way of living makes sense for many, why capitalism is needed for the mass and why rationality and common sense are not abundant. Though I hardly subscribe to the worldview that people around me endorse, I simultaneously accepted that here is the essence of life – in diversity and in the difference of perspectives. You have a topic to ponder upon and question only when you are surrounded by people who think differently. Life offers you a myriad of mindful or even mindless exchanges that slowly make you a thinker and executor. Such an approach, though empirically true, is nevertheless unacceptable when it collides with the truth that your idol or your dear people advocate. I have no qualms in acknowledging the difference between an individual or two, but any hegemonic endo...

রিভলভার রহস্য - আদৌ গোয়েন্দা গল্প?

  প্রথমেই কোন রাখঢাক না রেখে বলি, "রিভলভার রহস্য" একটি ভালো বাংলা সিনেমা। ডিটেকটিভ গল্পের কথা না বলে প্রথমেই বাংলা সিনেমার কথা কেন বলছি? কারণ, শুধু হিন্দী-আধিপত্যবাদের জন্য নয় বরং খুব খারাপ লাগলেও একথা স্বীকার না করে উপায় নেই যে, আমরা শুধু আন্তর্জাতিকতা হারাচ্ছি না, খুব সাধারণেতর সাধারণ বলিউড বা দক্ষিণী সিনেমার কাছেও বিষয় হোক, নির্মাণশৈলী হোক বা বহিরঙ্গের চাকচিক্যে হোক - বাংলা সিনেমা কিছুতেই ধোপে টিকতে পারছে না। আমাদের সিনেমা লোকে দেখছেনা কেন, এই বিষয়ে Independent Bengalকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে একথা অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় তুলে এনেছেন যে, অন্য ভাষার সিনেমা শুধু পয়সার জোরে জিতছে কিনা একথা ভাবার আগে আমাদের নিজেদের একটা আত্মসমীক্ষণ খুব প্রয়োজন। এরকম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে অঞ্জন দত্তের "রিভলভার রহস্য"-র মত একটা সিনেমার খুব দরকার ছিল, যা শুধু মেধায় নয় বরং নতুন একটা বাংলা রহস্যগল্প ভিত্তিক সিনেমার ভাষা তৈরী করবে। এবার সিনেমার প্রসঙ্গে আসি। সিনেমাতে তিনটি আলাদা আলাদা জায়গার কথা উঠে এসেছে - কলকাতা, বারাসাত এবং দার্জিলিং। দার্জিলিং যে অঞ্জন দত্তের ছবিতে শুধু মাত্র একটা l...

বিষাদ

  সমস্ত বিষাদ নিয়ে বিকল্প লিখি না হয়? কলম আনি নি। সমস্ত বিভোর নিয়ে তোমার কাছেতে যাই, আদরে পোড়ানো। আমার যত্নটুকু আমার সজীবতাই - মলম রাখি নি। পৃথিবী এখনও খুব জীবনযাপনময়, ফুঁ দিয়ে ওড়ানো ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বইমেলা

  এই শহরে তর্ক করার মত মানুষ কমছে। যাঁরা আগে তর্ক করতে উৎসাহ দিয়েছেন নিরন্তর, তাঁরাও প্রশ্ন করলে বৃত্ত থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন আস্তে আস্তে। পারস্পরিক বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা কমে আসছে। বইমেলা গেলেও আর আগের মত লাগেনা। এর কারণ অনেকটা আমাদের মধ্যেই।টেকনোলজিসর্বস্ব একটা সময়ে আমাদের পড়ার orientation পালটে‌ যাচ্ছে ।‌ ধৈর্য‌্য নেই; সব কিছুই এখন তাৎক্ষণিককে‌ বোঝে। বইমেলায় তাই ঠিক ঠিক সময়ে প্রকাশকরা আর বই বাজারে আনতে‌ পারছেন ‌না।‌ "কেউ কথা রাখেনি", আর রাখছেও না। এক মননশীল প্রকাশনীর স্টলে আমার পছন্দের দার্শনিকের যে নতুন বই এবার মেলায় বেরোনোর কথা ছিল, তার খোঁজ নিই। "আরে‌ দাদা, দু'পাতা, চার পাতা করে লেখা দিচ্ছে।‌ এভাবে বই হয়?" বোঝ! "আর ঐ গল্পসংকলনটা?" "না, ওটাও এখন আর বেরোবে না।" প্রসঙ্গত বলি, এই দ্বিতীয় লেখক আর বেঁচে নেই। লিটল‌‌ ম্যাগাজিন টেবিলেও এক অবস্থা। "বলতে পারছি না, কাল আসতে পারে‌। নতুন বই তো!" এর পরেই আরেক স্টলে আমি ঢুকতেই দেখি, এক ভদ্রলোক অনেকগুলো বই‌ হাত‌ থেকে‌ নামিয়ে রেখে বেরিয়ে যাচ্ছেন। দোকানি ভদ্রলোক তাকে জিজ্ঞেস করেন, "এগুল...

জ্বালা

  বলছ? আমি তো‌ আমার হাতে কিছুই রাখিনি। প্রতিবার, প্রতিবার - আশরীর, ঠোঁটের পরিধি খুঁটে খুঁটে, শেষমেশ খুবলিয়ে - তুমিই নিয়েছ! তবুও অতিমানবীয়, ধুর ,ধুর, বায়বীয় (নাকি দানবীয়?) - চুপ করো! - কিছু না ‌একটা দেখ, হয়ে গেছে। দেখ, দেখ! ভালো? হুম্, ভালো। মানে বেশ ভালো। বলছ? এখানে সমস্ত কিছু সীমা-পরিসীমা মেনে যেন বলা হয়। সময়ের নিয়মই তো এমন। ওই! শোন, শোন ; ভুল বুঝোনা। ও না - খুব ভালো। আমার জন্য ঠিক খাপেখাপ। শোন শোন, একদম, প্লিজ, ভুল বুঝোনা ওকে। কেমন? উফ্! কীঈ হল? জ্বলছ? ঠিক বলেছি না? এখনও ঠিক এভাবেই জ্বলছ? ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Exit Plan

  প্রতিটি বয়স্ক প্রতিবেশীর এভাবে চলে যাওয়া, আমাকে বাবার আসন্ন‌ মৃত্যুর আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। আমি রুমাল কপালে রাখি; বাড়ি ছেড়ে ছিটকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবি শ্মশানবন্ধু হওয়ার দায়িত্ব এড়াতে। কিন্তু এই বেয়াড়া বুকের ব্যথাটা, শালা, গত সপ্তাহ থেকে বহুৎ জ্বালাচ্ছে। সিগারেট ছাড়ো তো! উঁহু, কমাবো কমাবো। তবে, তার আগে, মদটা ছাড়তে হবে। ঐসবে কিছুই হয় কি নাকি? রাজাদা চল্লিশে চালশে‌ পড়ার আগে চলে গেছে গতকাল। নিরামিষ খেত। সকালেতে প্রাণায়াম। ধুর! আর বুঝি, মনকে শান্ত রাখার দায় থেকে প্রতিদিন আমাদের পালানো হবেনা আর। জন্মে মৃত্যুদাগ থেকে‌‌ যায়। স্বভাবে স্বভাব বাড়ে। ওদিকে ওপরওয়ালা খিল্লির মা-বাপ করে শুধু আসামী দাগিয়ে দেয়। এসবের মনোপলি চালাবে? চালাক ও! ওসব হবে‌না, বস্। বাবা কেটে পড়বার আগে, আমিই পালাব। ৬ ফেব্রুয়ারী,‌ ২০২৩

খোঁড়া

  "ভিক্ষুকঃ পাদেন খঞ্জঃ" - শুধু এই একটি বাক্যের কথা ভেবে আমি সারাদিন কাটিয়ে দিতে পারি। কারণ ছোট থেকেই আমি - শব্দ ব্রহ্ম মানি ; বাক্য ব্রহ্ম জানি। আসলে এ কোন‌ সামান্য বাক্য নয় - অনেক প্রতিবন্ধক আঙুল খসালে তবে বাক্যের গায় অমোঘ এমন‌ এক তৃতীয়ার‌ পাপ লেগে যায়। পূর্বজন্মের কথা ভাবি - সামান্য ক্ষমতা কিছু কেড়ে নেয় গাড়িদের অবাধ চাহিদা। পণ্যবাজারের হলহলে জিভটুকু শিশ্নের ডগায় মোবাইল স্ক্যামে ঘোরে। লিকড্ তবে পর্ণো বাজারে? ভিখিরি তবে কি আমি? মর্গের মগজেতে মর্টগেজ ভরা? এ কোন অসমান ব্যাকরণজীবির দিনগত পাপ মনে হয়। শব্দ ব্রহ্ম - তবু, দায়িত্ব নিয়ে তুমি ভিক্ষার ক্ষমতাটুকু তার সপাটে থাবড়ে নিয়েছ। আর যতটুকু বিভক্তি-গ্লানি, তার শুকনো‌ রক্তদাগ, তোমার পাপের ভাগ, ন্যাংটো অস্থিমজ্জায়, কেন বল, লেগে থাকে বেজন্মা ভিখিরির পায়? ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

ভাঙন

  পাড়ায় বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। ঝুরঝুরে হয়ে যাওয়া ইঁট, সিমেন্টের দেওয়ালগুলোর ওপর এসে পড়ছে হাতুড়ির ঠকাঠক। তারপর দু'একবার আরও ঝুরো হয়ে যাওয়ার, প্রতিরোধে বুড়িয়ে যাওয়ার নিষ্ফল শুনানি। আর শেষে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে রাস্তায় এসে পড়ছে বালি আর সিমেন্ট, মানুষের ছোটবেলা, স্কুল, কলেজ থেকে একটু একটু করে ছোট ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার স্মৃতি। কুড়ুলে ছেনে উড়ে গেছে প্রবীণ আমগাছ। আমাদের চারপাশে এইভাবে এক একটা মুহূর্ত খুব সময়ের প্রয়োজনেই খুন হচ্ছে। প্রয়োজন। প্রয়োজন বড্ড প্রয়োজনীয় হতে থাকে নিজস্ব সময়ের থেকে। আসলে, এক একটা বাড়িতো ভাঙা হয়না। তার সাথে মানুষগুলোকে ভেঙে দেওয়া হয়। বা মানুষেরাই চান - ভেঙে যাই। না হলে, টিকে থাকা যাবে? আমাদের টিকে থাকতে দেবে? বরং একটু না মচকে ভাঙা যাক। তাহলে বলা যাবে ফেসবুকে, এ বছর মরিশাস যাচ্ছি কিংবা নিদেনপক্ষে কল্পা-কিন্নর? সেদিন এক রিকশাচালককে মোবাইলে বলতে শুনলাম, কী রে শ্যামাদার সিঙ্গারা আনব? ... আলাপন? কী আনব ওখান থেকে? মোমো?... আরে শোন, আরে, আরে হাফ পেলেট এগ চাউ আনি। এক দাম... রাতে ওরা এলে দেখা যাবে। রাখ এখন; গাড়ি চালাচ্ছি। পাড়ায় বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু, আসলে সময়টাই বেমালুম উড়ে যা...

অথৈ কাথারসিস

  বেরোচ্ছে বেরোচ্ছে। চোখ ফেটে পেন ফেটে গলা ফেটে দগদগে কালো গাদ বেরোচ্ছে। আমার প্রথম খাওয়া সপাট থাপ্পড়, স্টেজেতে গান ভুলে যাওয়া অপমান, বাসেতে‌ পকেট‌ টান, (দরজায় দাঁড়াও, জল, এখনি এসো‌ না) পাবেতে পকেটে টান, তৃতীয় ডিভোর্স, বাড়িতে পুলিশ, আর উফ্, না না! বেরোচ্ছে যাক! সব বেরোচ্ছে। দু'বোতল ভদকা গিলেছি। এখন সবুজ বমির মতো (উফ্, জল, দাঁড়াও না) পূণ্যতোয়া স্বচ্ছ যমুনা‌ নয়, গোমতী নয় (বারবার, এমন‌ করতে নেই, জল ; তফাতে দাঁড়াও। তবে কেন হরিদ্বারেতে গেলে ডাকো? আহা, সে‌ তো...) প্রামাণ্য পাপের মত বসন্ত দরজায় এলে, আমাকে গঙ্গাজলে ধুয়ে নিতে হয়। কেউ কেন বুঝল‌ না, বল্? জল? জল? কী রে? বল? কিনারা কোথায় তোর? ছলাৎ? অতল? ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

আমাদের সামান্য যাতায়াত

  তুমি নেই‌। ছিলেনা কখনও। তবু এরকম আকাশ‌ উৎসব হয়ে উঠলে কেন‌ জানি মনে হয়, এই মাত্র ছেড়ে চলে‌ গেছ। "ছিল, নেই - মাত্র‌ এই"। ব্যাস্, এটুকুই‌ তো‌ সুখ চলার পথ। অফিস টিমস্-এ লিখি, "সরি। নট অ্যাভলেবল্‌ ফর দ্য মোমেন্ট ডিউ‌ টু পাওয়ার কাট্।" সামাজিক ছেদ মেনে‌ নিই। আমাকে তুমি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট‌ করার‌ আগেই নিজের ঝলমলে ঘরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করি। স্ট্রিং লাইট অফ্ হয়ে যায়। মনে হয়, বেঁচে গেছি এ যাত্রায়। কিন্তু, আরও অনেক খতরনাক, বিষ‌মাল তুমি। এভাবে মারবে যদি জানতাম! কলম হাতড়ে নিই ; খসে যায়। একটা বই? একটা বই? এই তো পেয়েছি। এক মিনিট, দু'মিনিট, তিন মিনিট ; খসে গেল চোখ। জ্বালা করছে। ডানদিক একটু ফুলেছে মনে হয়। ঘাড়ে ব্যথা। অফিস কেটেছি, তা হলে "দ্য হোয়েল" দেখে আসি। এবার ক্যারামেল পপকর্ণ নেব - মিডিয়ম। কোকটা তবে লার্জই চাই, দু'ঘন্টা চুমু, না‌ না, চুমুকে চালাব। সেই কফি কিস্, মনে আছে? "কী আজব নাম!" সেটা বোধনয় আইনক্স রাখেনা এখন‌ আর। স্নান করি। একটু নিম বেগুন, পালং ঘন্ট, তারপর? চোখ টেনে আসে। দুপুরে আজকে তবে ঘুম চাই। সিনেমা দেখার কথা বললে যে? তা হয় তো বলে...

একটি তারুণ্যের মৃত্যু

  ফিরে ফিরে আসে। উত্তুরে ট্রামের দুপুর প্রত্যাশী ঘুঘু। ফিরে ফিরে আসে ফেরিওলা, ট্রামের দুপুর। ফিরে ফিরে আসে, পার্কস্ট্রিট ২০১২ মিউজিক ওয়ার্ল্ড, প্রত্যাশা হাজারো "তুমি কথা দিয়েছিলে ৭টায় ঢুকবেই আজ..." সেইসব প্রতিধ্বনি, বিপণ্ণ তরুণ কোলাজ হাতজোড়, দোয়া আর সেন্ট পলস্, সাউথ সিটিতে দক্ষিণাপন, লেক, ফার্স্ট-ফ্লাশ, পেয়ালা-পিরিচে যোগাযোগ মেপে নেয় ঐশীর বুকে ঘন শ্বাস "এভাবে গুছিয়ে রাখো?" বিছানা, চাদর জুড়ে, দুপুরেতে তত্ত্ব-তালাশ। ফিরে ফিরে আসে সব ফেরিওলা স্বর আর ট্রামের দুপুর শপথ পিছলে যায়, শব্দ কবচে রাখি প্রগাঢ় চুমুক। ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

বাড়ি আছ?

  তোমার সাথে ফেসবুকে যেদিন প্রথম কথা হয়েছিল,‌মনে‌ আছে, সেদিন পাটুলীর নার্সারী থেকে কিছু গাছ‌ কিনেছিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, কী বই পড়ছ এখন। তুমি বলেছিলে, ইলিয়াসের 'চিলাকোঠার' সেপাই। তোমার সেই আঞ্চলিক উচ্চারণে বইটির নাম বদলে যাওয়া মনে আছে। সেদিন লেক রোডে সন্ধ্যেবেলা হাঁটছি। শীত শুরু হবে হবে। বাতাস শুধু উৎসব উৎসব হয়ে আছে। নজরুল মঞ্চে রূপম ইসলাম বাংলা রকের নির্মাণ-বিনির্মাণ করে চলেছেন। রাক্ষসবাদ্য গিলে নিচ্ছে লেকের নিবিড় দুটো ছেলেময়ের হাতের অপরাহ্নতা, ঠোঁটের চুমুকের শব্দ-গন্ধ।‌ এ পাড়ায় সন্ধ্যে হলে‌, এখনও পাখি ফেরার আওয়াজে গাছ আর আকাশ ঝমঝম করে ওঠে। তবে, আজ শুধু রূপম গাইছেন - "ভেসে যাচ্ছি এবং,/ভিজে যাচ্ছি আবার/এক অপূর্ব অসম্ভবে/শোনো তুমি কি আমার হবে?/আজও তুমি কি আমার?" মনে আছে। কলেজ স্ট্রীটে‌ একদিন‌ আমরা (সত্যি নয়, মনে‌ মনে) হেঁটে‌, ঘেমে নেয়ে, ধুলোস্নানের পর‌ প্যারামাউন্টে বসেছি। তোমার অগোছালো চুল, চব্বিশে কপালে বলিরেখা সামলে তুমি অর্ডার দিতে গিয়ে জানতে চাইছ, ডাব মালাইটা হবে? না। এবার সামনে রাখা মেনুকার্ড মুহূর্তে সাদা হয়ে যায়। তুমি চশমা সামলে নাও। মনে হয়,...

মডেল

  আকাশে গ্রহণ নয়, অস্থির আগুন লেগেছে। গড়িয়াহাটের ফ্লাইওভার পেরিয়ে বাসের অবাধ্য থামা। "ও‌ দাদা, ঘর থেকে তুলে‌ আনবেন নাকি?" আর, কন্ডাকটরদের কঠিন বুকের দম কখনও কখনও আমার সাফল্য দিয়ে মাপি। আগুন ছড়িয়ে গিলে নেয়, শীতাতপ, জাড্য কলম - আর আমার বুকের দুরুদুরু। অকারণ, সব অকারণ, বাবা। কোমল গাছপালা আর জমায়েত নেকড়ে বন্ধুদল, দেয়াল, হোর্ডিং, ব্যানারেতে - ওর উরু আর ক্লিভেজ নরমটুকু, ফুঁ দিয়ে চেটে চেটে খায়। এভাবেই প্রতিদিন দেখি আমি অফিস ফেরত, আমার প্রথম প্রেম - তার শেঁকা শরীরটুকুও, গোলপার্কের‌ মোড়ে সাড়ে সতেরো হাজারে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায়, নেকড়ের চোখেতে বিক্রি হয়ে যায়। ১১ জানুয়ারী ২০১৩ (পরিমার্জন ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩)

হরগৌরী খেলা

  এসব পাগলামি হয়তো। তবে, বসন্ত এলেই মহালয়া শুনি বেশ গত কয়েক বছর। এ আমার অকালবোধন। আকাশ‌ জুড়ে বেজে ওঠে সমস্ত তারায় তারায় তোমার নাম, যেমনটা ওঁর মনে হত। ভাস্কর চক্রবর্তীর স্যারের। "আমি দশকের কবি, উনি শতকের" - এরকম টুকরো অমোঘ উচ্চারণ। আমরা দুর্গাপুজোয় কাছাকাছি আসি। রাত জেগে‌ কোনদিন কারও সাথে কথা বলি নি। ওই সোফা, কুশন, চাদরের হলহলে কামার্ত কোনা - সব রাখা আছে। তোমার জন্য এই রাতটুকু সংরক্ষিত রাখব আশরীর ভেবেছি। আজ শিবরাত্রি হোক। আমরা একসাথে মহালয়া শুনব। বছরের এই সময়টা আমাদের মুখোমুখি কফি হাউস বা ওয়াইজ আউলে বসার তিথি। পঞ্জিকায় ওসব থাকে না। ছাড়ো। কিন্তু আমি এই যে‌ লিখতে বসেছি, তার কারণ আমি জানি যে তুমি জেগে আছ। এখনও সেসব প্রাচীনপন্থা তোমার গায়ের দুধেল স্বাদে কিংবা ধূপ বা অগুরুর আকস্মিক গন্ধে আমায় আদর‌ করে। উপোস করেছ, না? ওসবের দরকার ছিল না, কারণ, আমি সপ্তমীতে রাগ দূর্গা বা শঙ্করা গুনগুন করলে আদিযোগী ভেল্লাগিরী পাহাড়ের সানুদেশ অস্বীকার করে‌ কলকাতায় নেমে আসেন। শোনো। ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছি। একদম। সত্যি বলছি রে! আসলে এভাবে কত অকালবোধনে আলো‌ নষ্ট হল। মাঝরাতে ম্যাঙ্গো চিজকেক সু...

নট ভৈরব

ভোর থেকে সকাল হওয়া আমরা তো অনেকেই দেখেছি শতদ্রু, কিন্তু তার পরে যে সকালটা জেগে ওঠে ; সেটা? আমাদের ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে অনেকেই রাত জাগছি আজকাল। এক একটা রাত হওয়া দেখছি ; দেখছি মানুষ কীভাবে নিজস্ব হয়ে ওঠে রাতের এক একটা পর্দার সাথে। এখন ফেসবুকে একটা কথা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে না যে, আমাকে চিনতে হলে আমার সাথে ভোর চারটে অবধি জেগে থাকাটাও আবশ্যিক? সে কথা অন্য কোনখানে হবে না হয় ; আজ তোমায় আমার সকালের গল্প বলি। যে কথা হচ্ছিল, এই রাত আমাদের ঘুমোতে দেয় নি বলেই আমাদের উঠতে বেজে যায় সকাল সাড়ে সাতটা, আটটা, ন'টা কিংবা তারও পরে। ভোরের কথা তো তুমি জান। ভোর কীভাবে হয়ে জন্ম দেয় এক একটা জলজ্যান্ত সকালের, কীভাবে নদীর জলের রং বদলে যায়, পাখিরা জেনে নেয় কাজের বিধিবদ্ধ রূপ আর জানিয়ে দেয় বাড়িতে বাড়িতে একা কালো কাক - এসব অনেকেই লিখেছেন। লেখা খানিক সহজও বটে। আমি তোমায় অন্য গল্প বলি। সেই সব সকাল যখন কেজো আমি-টার জন্ম হয় নি, আমি জেগে উঠতাম এক একটা কবিতা নিয়ে, গান নিয়ে যার সাথে জুড়ে যেত গত রাতের মেয়েটির হাসির আওয়াজ, কথা বলার নিবিড় গন্ধ, দু'জনের মেসেজ লিখতে লিখতে পড়তে পড়তে স্মিত হাসির স্নিগ্ধতা...'পৃথিবীর যত ...

শেষ বলে কিছু নেই - অঞ্জন দত্ত

 শেষ বলে কিছু নেই সিনেমাতে অঞ্জন দত্ত "আগুনের পরশমণি' গানটা ব্যবহার করেছিলেন। বহুদিনের অনভ্যাসের স্মৃতির ফোঁটা; তবু কপালে এখনো চড়চড় করছে।  আমি ২০১৪তে এক স্কুলে ফ্রেঞ্চ পড়তাম। একদিন ফ্রেঞ্চ টিচার্স রুমে আমরা কথা বলছি। পাশের মিউজিক রুম থেকে শুনতে পাচ্ছি প্রথমে একটা কাশি। তারপর একটা চিৎকার, তারপরে shriek. কান ফাটানো, কলজে ঠান্ডা করা একটা shriek. তার বেশ অনেক দিন পর 'আগুনের পরশমণি' গানটা সাথে যীশুর(অ্যান্ডির) অভিনয় দেখি।বিছানা কুঁচকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে। অ্যান্ডি ঘামছে। কপালে ঘাম, অসহ্য ছটফটানি, সম্পূর্ণ withdrawal অথবা seizure. অঞ্জন দার চরিত্র দূরে দাঁড়িয়ে। চোখ ভিজেছে, দপদপ করছে। এক মুহূর্তে ওই দুপুরের কথা মনে পড়েছিল যে, আমরা কীভাবে আমাদের মিউজিক টিচারকে নারকেল তেল বা মোজার ঘামের গন্ধ শুঁকিয়ৈ শান্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। ভাস্কর চক্রবর্তীর মত ওঁর(অঞ্জন দত্ত) চরিত্র কোথাও সিনেমার ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলছে, "শান্ত হতে হবে, আরও শান্ত হতে হবে।"  একসময় যীশু(সেনগুপ্ত)র ছটফটানি থেমে যায়। একটা দৃষ্টি; শূন্য দৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথ, অঞ্জন দত্তের সিনেমা...