Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2026

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬

এবার ফেরাও

আমার শব্দমালা বাঁচাও আমাকে। আমাকে ফিরতে হবে, সেই দুপুরের রাজনীতির স্লোগানে যেখানে সাচ্চা আমি, সোচ্চার  আমার সৃষ্টিকণা আঁজলা আঁকড়ে বাঁচি। যা চাই, যেভাবে চাই,  অ্যাকাডেমি চত্বরে হরিদার চায়ের দোকানে, ঠিক তখনই লিখি বা গাই। মঞ্চ কাঁপাই, বাবুর বাগানে। আমার শব্দমালা, আমার প্রেমিক-ঈশ্বর, আমাকে আবার দাও মশমশে জুতো  আর খাগের কলম।  আমাকে হিঁচড়ে আনো, কলেজ স্ট্রিটের গলিতে গলিতে, একতাড়া প্রুফ নিয়ে কলেজ‌ স্কোয়ারে। আমার শব্দমালা, আমাকে পাইয়ে দিও বাবুয়ানি ভোর; যে ভোর খিদের মতো লিখিয়ে নেয় সাদা পাতা, পাতা, পাতা... গত রাতদুপুরের ভার নেমে আসে জ্যোৎস্না তরলে, আর ভরে যায় কবিতার খাতা। ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬

লেখার আলো

মনে হচ্ছে লেখাই জরুরী। কারণ, লেখা দীপ্তিময়, গতিময়, বাঙ্ময়। লিখলে মাথার ওলটপালট থিতু হয়ে আসে। আমরা শান্তির কাছাকাছি নেমে আসি। অপার শান্তি, অনন্ত শান্তি। লেখার আশ্চর্যের কাছে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে বসলে মনে হয় সিগারেটের প্রয়োজন নেই। সকালের রোদ কোলে নিয়ে আদর করলে মনে হয় – "এমনি করে যায় যদি দিন, যাক না।"  তারপর দিনের আলো জোড়ালো হয়ে আসে। মনে হয় আমাদের খেলার মাঠে এখনও মর্নিং ওয়াক হয়। বিকেলে নিরর্থক, বুদ্ধিহীন আড্ডা বসে। বুদ্ধি এখন জীবিকা নয়; হাতিয়ার। নির্বুদ্ধিতার উদযাপন এখন অপাংক্তেয় নয়, বরং পাত পেড়ে ছাঁটের ঘুগনি আর রাম খাওয়ার প্রয়োজনীয় অনুপান। মেধাবী হওয়ার আস্ফালন নয়, আস্তে আস্তে মাথায় পচন ধরিয়ে সচেতনভাবে মধ্যমেধার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো এই উদার অর্থনীতির যুগে আমাদের অনিবার্য নিয়তি।  দিন যাবে; এভাবেই কি যাবে? এ শব্দমালা কোথায় পড়েছি ঠিক মনে করতে পারি না; যেমন পারি না মনে করতে, ঠিক কেন এই লেখার কাছে এসেছিলাম। মোবাইল হাতে দেড় মিনিট, তিন‌ মিনিট, পাঁচ মিনিট কেটে যায় আর তারপর হঠাৎ খেয়াল করি – আরে! ফোনটা খুলেছিলাম কেন‌, সেটাই তো মনে পড়ছে না আর। আমার, ব...

চন্দ্রবিন্দুর সোনামন শুনে

  দুপুর শেষ হলেই রোদ পাতলা হয়ে তির্যক পড়ে খাওয়ার টেবিলের পাশের জানলায়। আমাদের যাদবপুরের মাঠে চুমু খাওয়া ঠোঁট নিকোটিনে তীব্র, তীব্রতর হয়। মনে হয়, একটা সিগারেট কাউন্টারে আমরা ধার নিয়েছিলাম যখন আমাদের এমন কোন জান্তব সম্পর্ক হয়নি। সেটার শোধ দেওয়ার সময় এসেছে। গন্ধে। পেঁয়াজ, না-খাওয়া মাছের তেল- আঁশ, বা কালোজিরের পরে থাকা মৃদু ছোঁয়াচ যখন গোল্ড ফ্লেক লাইটের ফিকে হয়ে যাওয়া স্বাদে বিলুপ্ত হয়ে যায়, সেইরকম অ-রোম্যান্টিক, অস্বস্তিকর গন্ধে। আমাকে থুবড়ে ফেলে লম্বা ফ্লাইওভার, রাত একটায় সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার আলো। আমাকে হড়কে দেয় বাড়ির পাঁচিলের পাশে হঠাত্‌ চুমুর ফিসফিস। আমাকে আদ্যোপান্ত বাপান্ত করে ছাড়ে যেসব সূর্যাস্ত এখনও অতীত নয় Annie Ernaux-র সেই বদলে যাওয়া মানুষীর গল্প যে ৫৪ বছরে প্রেমে পড়ে ১৮ বছরের কারো ; যার মনে পড়ে যায় যে সে যখন অষ্টাদশী ছিল তার জীবনেও এসেছিল এক ৫৪ বছরের পুরুষ। এমন বেমক্কা, বেয়াক্কেলে রোদ তির্যক হয়ে এসেছে এখন খাওয়ার টেবিলে। “মেঘ বলেছে ‘যাব, যাব।‘ হয়তো রাতও চলে যাবে। কিন্তু দুপুরের এই অবাধ্য, অলৌকিক রোদ? তোমায় “সোনামন”-এর কাছে ফিরিয়ে দেবে না কি? দেবে না। নির্ঘাত গুরুচণ্ডালী কি...