Skip to main content

লেখার আলো

মনে হচ্ছে লেখাই জরুরী। কারণ, লেখা দীপ্তিময়, গতিময়, বাঙ্ময়। লিখলে মাথার ওলটপালট থিতু হয়ে আসে। আমরা শান্তির কাছাকাছি নেমে আসি। অপার শান্তি, অনন্ত শান্তি। লেখার আশ্চর্যের কাছে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে বসলে মনে হয় সিগারেটের প্রয়োজন নেই। সকালের রোদ কোলে নিয়ে আদর করলে মনে হয় – "এমনি করে যায় যদি দিন, যাক না।" 


তারপর দিনের আলো জোড়ালো হয়ে আসে। মনে হয় আমাদের খেলার মাঠে এখনও মর্নিং ওয়াক হয়। বিকেলে নিরর্থক, বুদ্ধিহীন আড্ডা বসে। বুদ্ধি এখন জীবিকা নয়; হাতিয়ার। নির্বুদ্ধিতার উদযাপন এখন অপাংক্তেয় নয়, বরং পাত পেড়ে ছাঁটের ঘুগনি আর রাম খাওয়ার প্রয়োজনীয় অনুপান। মেধাবী হওয়ার আস্ফালন নয়, আস্তে আস্তে মাথায় পচন ধরিয়ে সচেতনভাবে মধ্যমেধার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো এই উদার অর্থনীতির যুগে আমাদের অনিবার্য নিয়তি। 


দিন যাবে; এভাবেই কি যাবে? এ শব্দমালা কোথায় পড়েছি ঠিক মনে করতে পারি না; যেমন পারি না মনে করতে, ঠিক কেন এই লেখার কাছে এসেছিলাম। মোবাইল হাতে দেড় মিনিট, তিন‌ মিনিট, পাঁচ মিনিট কেটে যায় আর তারপর হঠাৎ খেয়াল করি – আরে! ফোনটা খুলেছিলাম কেন‌, সেটাই তো মনে পড়ছে না আর। আমার, বা সামগ্রিক আমাদের বিস্মৃতির এই রোজনামচা খুলে‌ প্রত্যেকদিন দেখি – আমাদের একে, অন্যকে মনে‌ রাখার কথা হয়েছিল। কথা হয়েছিল, প্রতি‌ রোববার সকাল নটায় বাদাম বিস্কুট আর র-চা খেতে বাঘাযতীন মোড়ে দেখা হবে। আমরা এই বছর পয়লা জানুয়ারি নিজেদের কথা দিয়েছিলাম, লিখব সময় ধরে। বাইরে খাওয়া কমিয়ে নিজের জন্য আরো‌ বেশিবেশি রান্না করব। নিজের আরো কাছাকাছি এবছর আমাদের থেকে যেতে হবে। সব ভুলে গেছি। কিচ্ছু মনে পড়ছে না।


ওরা আমাদের অতীত, বর্তমান এভাবে ভুলিয়ে দিয়ে‌ যাবে দিনানুদিন, প্রতিদিন? তাই লিখে যেতে হবে। কুন্দেরা বলেছিলেন না - "ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম হলো বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির সংগ্রাম"? লেখা তো তাই। ক্ষমতার বিরুদ্ধ স্বর। বিস্মৃতির বিপ্রতীপে আশ্চর্য অ্যান্টিডোট। "লেখো আয়ু"। 'শষ্পমূলে ঘিরে‌ রাখো (আমাদের) আদরের সম্পূর্ণ মর্মর'। "চুপ করো, শব্দহীন হও।" স্মৃতিমানব হও।


৪ঠা এপ্রিল,‌২০২৬


Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।