Skip to main content

অনাদায়

 ১।

যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে,

সে আগুন তোমার তো নয় জানি।

তবে?

বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে।

কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই

সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে।

মা বাবার পরিচয় চায়।

ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌,

পাপ নিবি কি না?

এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে,

এখনও জানি না।

 

 

 

২।

এমন করলে কেন?

বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন?

এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন,

সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক,

আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক,

আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে।

বল সুবিনীত হবে?

হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা

জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।

 

 

৩।

নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা।

ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ।

একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি?

বলেছিল তোমার আত্মজ।

আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ?

দুরাত্মা? জারজ?

 

 

৪।

এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে।

সামাজিক অপমান, পুলিশ, আদালত, পাড়াছাড়া।

রাস্তায় প্রকাশ্যে থাপ্পড়, মুখে-হাতে নিগ্রহ দাগ,

সে জন্য প্রস্তুত তুমি?

 

অসম্ভব, আমার বাড়ি তো এটা। মাতৃভূমি,

এ পাড়ায় বেড়ে ওঠা, সব ভাই ভাই।

 

ভাই রে, কেচ্ছাটা জানাজানি হলে কে তুমি?

ভাই, দাদা কারা?

সমাজ-মাধ্যম জুড়ে রক্তবমি আর নরম পেছনটুকু মারা

তাতেই মাখন আসে। সকালের  পাউরুটি খাওয়া হয়ে যায়।

হাজার বছর ধরে এভাবেই বেঁচে গেছে পাপের ভাগীরা ভাতে ভাতে।

এটুকু কিছুই নয়। আগুন জ্বলছে দেখো ধিকিধিকি বুকে, রাস্তাতে।

 

 

 

 

 

৫।

মনোস্তত্ব বলে – অবান্তর ক্যাটাস্ট্রোফাইজিং।

আসলে তুমি,

সমান্তরাল এক পৃথিবীতে চলে গেছ। এসব কিছুই হচ্ছে না।

 

সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হল সব ভেবে বাকি থাকে যেটা।

 

কত লাখ? ওহ্‌, তা না হয় দিয়ে দেওয়া যাবে।

স্নো-বলিং জান তো? একটা ডেডলাইন মিস হলে চাকরি যায় না, শোন,

ভিটেমাটি চাটি তো দুরস্ত।

এখন চারটে বাজে। এবার ঘুমোতে যাবে?

নাকি এক্টু চা, কফি খাবে?


২৬শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬। বিকেল চারটে।



৬।

পুজো পাঠ আর নষ্টামির আদপেই আঁতাত নিবিড়।

প্রায়শ্চিত্ত লাগে, তাই কপট দেখনদারি, উপোসের নিয়মকানুন

খুব ধার্মিক ভাবে মানি, আমি বা তুমি।

ভয়ের বেসাতি করি – তোর সাড়ে-সাতি কাটা, বা হয়ে ওঠ গুরুচণ্ডালী।

কী করব দিদিঠাকুরণ?

শোন দিদি, সোনাগুলো দে আমায়। নাসিকে যাচ্ছি তো,

তোর নামে পুজো দেব। লাখের ওপর খরচ, জানিস তো সব।

 

এবার কে করবে ঠিকঠাক? কে দেবে কোর্টের খরচ? তোমার জামিন?

তোমার উপোসী বোন, ফেরারী?

কে কাটাবে এই ফাঁড়া? জেলের ঘানির পরব?

 

৭।

এত মিথ্যে বলে যাই প্রতিদিন, আমাদের ঠাকুর-দেবতা লাগে।

তুমি তো এসবে বিশ্বাস কর না। কী বুঝবে তুমি?

কে বলেছে? করি তো। আদ্যোপান্ত ঈশ্বর মানি। না মানলে,

আমার এত অবিশ্বাস, সুযোগসন্ধানী প্রার্থনা নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব হত না।

তবে? এভাবে বলছ কেন ঠাকুর-দেবতা নিয়ে?

বলছি কারণ, তোমার আর আমার দেবতা যে এক না।

সেই জন্য চার্চ? ও, ওহ! এবার বুঝেছি।

না।

না।

সম্যক না।

 

আছেন ঠিকই এবং শোনেন দেখেন সবই। তবে কি না

উপোস বা ঘুষের ভাষা ওঁর মোটে বোঝার কথা না।

আমরা কি ঘুষ দিই?

আলবাৎ। এত মিষ্টি, পাঁঠা ছেড়ে কুমড়ো বলি,

সোনার গয়না, গেঁজে ওঠা দুধ লিটার লিটার –

এসব কি ঘুষ নয়?

আর উপোস? সেখানে কষ্ট নেই আমাদের, নেই আর্তির স্নান?

না। সেটা শুধু ফাঁকতালে করলার রস খেয়ে সুগার কমানো।

 

তাহলে তুই কেন ধ্যান বা জ্ঞানে বসে যাস, কবিতা কপচিয়ে

যখন ঘরেতে জল, যখন ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ধূধূ?

ঠিক বলেছ এবার। এখানেই আমাদের মোক্ষম মিল আছে শুধু।

 

২৬ ফেব্রু.-26, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা


৮।

এখন সকাল ছটা। না না রাত।

সন্ধ্যে হয়েছে নাকি?

জানি না, জানি না কিছু। সময় গোলায়,

আর গা-ও।

আমাদের গাঁয়ে ছিল আলুথালু রোদ আর স্নানে,

কুয়োর নরম জল, আমরা মেখে নিতাম গায়ে।

 

অরোরা বরিয়ালিস, রাতেও ভয়াল আলো জ্বলে,

সময় গুলিয়ে যায়, গা-টাও গোলায় থেকে থেকে,

লিভারে পচন ধরে, আমি বা কদিন আছি বল?

বোন, বোন, এরকম করে দিলি? আমাদের গেলে দিলি ছেঁকে?

 

২৬ ফেব্রু.-26, রাত আটটা কুড়ি


৯।

বিশ্বাস কর। সব পাপ ধুয়ে নিতে চাই।

বিশ্বাস, বিশ্বাস? সত্যিই থেকে গেছে কিছু?

আমি তো পেটের বাবা মা-র।

তাই বলে এমন মার দিবি যদি জানতাম ঘুণাক্ষরে কোনদিন।

 

এখন রাত্রি হচ্ছে। মন থেকে চাই শুধু এ কলম

আর কলমা – সবটুকু নিখাদ, পবিত্র হোক।

মনের থেকে নেমে যাক দিনানুদিনের ভার, অবিমিশ্র বালি

অথচ সুচারু নেমে আসে গাঢ় গাদে বিষাদ

আর অকৃতজ্ঞতার কালি।


১০।

ওইটুকু ছেলে, আর ওইটুকু দুধ জল। এই সম্বল।

সেই নিয়ে ও পাড়ায় এ বয়সে যাবি?

কতটা কামাবি?

 

দেয়ালে ঠেকলে পিঠ তুইও যাবি, ষাটে।

 

কীভাবে দেখাব মুখ, এ তল্লাটে

সবাই আমাকে চেনে শিক্ষিত পরিবার, ঘরণী বলেই।

 

ও নিয়েই থাক তোরা। আমি শাড়ি খুললেই

লাইন দিয়ে যে ধরাধামে আসে প্রভু। ছি ছি! প্রভুর চেলারা।

 

এতটা নীচেতে নেমে গিয়েছিস তবে? ছেলেটার কী হবে?

কলেজ পাঠাবি বলে আমি দিয়ে গেছি মাসে মাসে পাঁচ

 

ওসবে আর কী বা যায়, বল বল? দেবদাসী হতে পারিনি তো

এখন আঁচল খোঁজে আমার একরত্তি ছেলেটুকু,

আমি খুঁজি কানামাছি,

আনাচ-কানাচ।

 

২৬ ফেব্রু.-26, রাত সাড়ে নটা


১১|


দেখা গেছে,

অনেক অনর্থ কাল পেরিয়েছি মনে,

শুধু মনে,

বাবা-মা, দূরেতে আমি।


আসল অনর্থ ওরা,

যারা নিজে ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে শুধু আঁচটুকু দিয়ে যায় 

আমাতে তোমাতে। 

টেনে নেয় আরাম বৃষ্টি রাত, পাশের বালিশ।

আমরা রাতের পর রাত জাগি,

পাড়া-পড়শি অথবা পুলিশের ভয়ে।

যে পুলিশ কখনও আসেনা।

অথচ, স্বপ্নে দেখি, একতলা, সোফা জলে,

ভাসছে হাওয়াই চটি, মগ, হাতা, বালতি বা শিশি।

আমরা ককিয়ে উঠি। কে‌ ডাকে? 

উকিল? উর্দিধারী নিশি?


১২|

ঠাকু্র আছেন, আর মা ঠাকরুন-ও।

তাই বাঁচি

অনেক দিনানুদিন মৃত্যু পেরিয়ে।

গেঁটে বাত, পঁচাত্তরে ওপর নিচেতে টানাটানি,

আরও বোঝা, ভুল বোঝা বাঁচানো,

দমিত শাসানি –

সব ঠাকুর আছেন বলে উৎরে যাচ্ছে ঠিকই,

তবে,

এবার মরণ হোক। 

ঠাকুর,ঠাকুর? শোনো – তুমি পারো।

হোক না একটা কিছু আচমকা, 

দৈববাণীর মায়া আলো? 

অগতির গতি, এবার লাগাম ফাঁস টানো,

আনো‌‌ গতি।

সকলের সব হোক ভালো।


২২ মার্চ, ২০২৬, রাত সাড়ে‌ নটা


১৩|

দেখেই মিলিয়ে যায় আমাদের ভোগের চাহিদা।

চাহিদা রকমফিরি। তার রাশ অল্পেতে টানা।

তবুও যেটুকু আছে বিরুদ্ধপথ তা তো জানা।

ঠাকুর দেবতা করে বুঝবিনা, এ কি অসুবিধা?


এখন‌ বৃত্তে ফের্। কথা হোক ঘরেতে অবাধে

চেয়েছি সুষ্ঠু সমাধানটুকু যাতে মেলে সমান সবারই

পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা প্যরয়োজন? না অদরকারি?

সস্তার অভিনয় করে যাই বাজারেতে, হাটে। 


কেউ যদি চিনে ফেলে? জিগেস করে, ফেরার? কই?

ফেরার কথাটা হোক এবার, ঈশ্বর। দাও তুমি

অভিমন্যুকে এক্সিট রুট, হেস্টিয়াকে যোজন ভূমি

আমরা সামান্যে বাঁচি। এর বেশি সুখ আর কই?

২২ মার্চ, ২০২৬ রাত ১০টা ১৫


Comments

Popular posts from this blog

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬