Skip to main content

রতন টাটা

 রতন টাটাকে বুড়ো হতে দেখে আমার প্রজন্মের কেউ কেউ একটু নড়ে গেছেন। "I dedicate my last years to health" - এই বাক্যের বিভিন্ন ব্যাখ্যা LinkedIn এবং অন্যান্য মাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে। সেদিন ৮৪ বছরের টাটা অনেকগুলো কথা বলেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনের কিংবা শব্দের ভেতরের শব্দার্থ- এই নিয়ে আমরা খুব একটা ভেবেছি কি? লক্ষ্য করেছি কি তার যত্ন করে ভেবে ভেবে তৈরি করা এক একটা শব্দ এবং বাক্যের সম্পূর্ণতা আর বিষয়ের গভীরতা নিয়ে?

এসবই কথা ঘুরছিল কয়েকদিন ধরে। তারপরে আজ সকালে মনে হল অন্যভাবে লিখব কিছু -
রতন টাটা
--------------
বার্ধক্যে কেউ প্রবীণ, ভঙ্গুর হলেও
ক্ষীণজীবী হয় না কখনও।
এতদিনে তাঁর আগলানো আদর-জীবিকা
একটি গাছের সবুজের আলোর মত
উৎকর্ষ ফলিয়েছে।
সমস্ত আকাশ আজ বিকেলের হলুদ প্রকৃতি
মনে হয়।
অথচ ফিরে ফিরে দেখো,
সকালে সহজ ছিলে না।
সেখানেও লেগে আছে ডিমের হলদে ছাঁচ
টেবিল কভারে -
একটি কক্ষপথ ঘুরে ঘুরে গেছে
শুধু শতাব্দী জন্মাবে বলে।
এখন তুমিই বল - শব্দ ব্রহ্ম , শব্দ প্রতিমা।
কারণ, স্বাস্থ্য ব্যাপারটুকু সময়ের অভিঘাত
আর কিছু নয়।
তোমার কক্ষপথে উপগ্রহবৎ ঘুরি ;
প্রজন্ম পার।
এখন তুমিই বল,
প্রকৃতি, বীজেতে, ধানের বিষণ্ণ শীষে
কতটুকু চুবে আছি
শিল্প
আর সংসার?
৭ মে, ২০২২

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬