Skip to main content

একটি অপ্রকাশ্য দৃশ্যকাব্য

 দীর্ঘসূত্র, দীর্ঘসূত্রী দিন

হঠাৎ দুপুর অসমসাহস মেঘে
ঘাস পেরোলেই এখন চমৎকৃতা
নিয়মমাফিক পাশের বাড়ির মেয়ে।
খানিক দুপুর, ভোরও বলা চলে
জলের আদর বিঁধছে ঘাড়ে, পিঠে
মেয়েটির নাম দুপুর, কাজল, রিনি?
বেলপাহাড়ীর বেভুল বর্ষা-শীতে।
বর্শা এখন বৃষ্টিতে খুব দারুণ
চমক শুধু, বুদ্ধি মনে মাথায়
চমৎকৃতা পাশের বাড়ির মে' তো ...
কাঁধ ক্লিভেজে সুঠাম পেশির হাতায়
এমন দুপুর কোথাও তো নেই কেউ আর
মেঘ-দুপুরে ধরছে পুঁটি গ্রামীণ।
কয়লাজমির খোকার হাতে রাখা
পরিণামের একশ' টাকা জামিন!
পায়ের মাসল্ আলগা হয়ে আসে,
এত সাদায় চোখের আরাম নামুক
লালের ছিটে, বিবর্ণ তার চোখে
জলের গতি নিছক পেলব শামুক।
সব দুপুরই দীর্ঘসূত্রে নামে।
প্রজাপতির পায়ের ফাঁকে জবাই
চিলেকোঠায়, কেউ কখনো মাঠে
অসমধারায় ভিজছে এখন সবাই।
চমৎকৃতা পাশের বাড়ির মে' তো
জিভের কামড় ঘাসের পশম কাটুক
ঘাস পেরোলেই অসমসাহস মেঘে,
দাঁতের আকার - চাবুক,
চাবুক,
চাবুক!
১৪ অগস্ট, ২০১২

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।