Skip to main content

আরও কিছু নীতি-পুলিশ

 এইমাত্র সকাল হল। টগর গাছের পাতা বুড়িয়ে যাওয়া মানুষের আঙুলের মত কাঁপছে। কয়েকদিন আগেই কলকাতায় শরত এসেছিল। সেসব আর কী! এখন শুধু ঘোলাটে আকাশ দেখছে ভেজা কাক। ময়লা ফেলার গাড়ি আজ খালিই চলে গেছে। ঘুম ভাঙেনি আমাদের।পাড়াতে নেড়া সবজির গাড়ি এসে পড়েছে আটটার আগে। আমার পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিবেশিনী দরদাম না করে কোনদিন আলুও কেনেন না। কিন্তু তারও আজ দরদাম করার ইচ্ছে নেই বোধহয়। সবজিওয়ালা ভদ্রলোকেটি ওঁকে দু-একবার ডাকে। তারপর একা চলে যায়।

আসলে কিছুই হচ্ছে না। কোন কোন দিন আশ্চর্য ঘটনাশূ্ন্য হয়ে যায়। আমাদের চারপাশের আওয়াজ, আলোড়ন, ট্র্যাফিক হর্ন, হাইওয়ের গুঞ্জন, রাস্তায় বিরোধীপক্ষের বিক্ষোভ - কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছতে পারে না। অথচ, ঘটনাগুলো পৃথিবীতে হচ্ছে না, তা নয়। সবই নিয়মমাফিক ঘটে যাচ্ছে সময় সময়। ক্লায়েন্ট কলে চেঁচিয়ে যাচ্ছে সবাই, কারণ নতুন কোড কাজ করছেনা কিংবা আপগ্রেডেড ভার্সনে একগুচ্ছ bugs খুঁজে পাওয়া গিয়েছে,তাই। ওদিকে চেঞ্জ ম্যানেজারকে বাপান্ত করে চলেছেন প্রোজেক্ট ম্যানেজার। নবান্নের সামনে বিক্ষোভের রক্তের দাগ এখনও দগদগ করছে। অটো সেভ এনাবেলড্ না থাকায় দেড় হাজার লেখা শব্দ উড়ে গিয়েছে এক লহমায় ; লেখাটা আজই দিতে হবে। এই সমস্ত ঘটনা, আপাত তুচ্ছ ঘটনা, দুর্ঘটনা আমাদের চারপাশে সবাই মেনে মেনে নিচ্ছে। বেঁচে থাকার আগে প্রতি মুহূর্তে কপ করে গিলে ফেলছে স্বল্পমেয়াদী দীর্ঘশ্বাস। অথচ, 'তুমি আছ একই অবিকল', অবিচলিত, স্থাণু।
আসলে তোমার রাগ সপ্তমে পৌঁছে যাওয়ার আগে পঞ্চমে খানিকটা শ্বাস নিচ্ছে। Another lull before the storm. এখনও গুমরে ওঠার আওয়াজ শোনা যায় নি, তবে যাবে। এই গুমোট হয়ে থাকতে থাকতে কেউ কফি নিয়ে বারান্দায় বসবে। পাঁশুটে রঙের আকাশ দেখবে। মৃত শহরের অশরীরী চাকুরেজীবীদের দয়া করতে করতে এই কথা ভেবে আফসোস করবে যে শহরের ও সমাজের কীভাবে চরিত্র বদলে যাচ্ছে বা ক্যাপিটালিস্ট entrepreneur-রা আমাদের সমস্তটা গিলে নিচ্ছে। কিন্তু তাদের প্রচ্ছন্ন দুঃখ আস্তে আস্তে বদলে যাবে পরশ্রীকাতর নখ-দাঁতে। 'পথ সেটাই যেটা আমার পথ'; একটু একটু করে শোনা যাবে নিরীহ মানুষের গজগজানি। নিখাদ খুনের পরিকল্পনার গোপন নির্মাণের কানাঘুষো ওদের মধ্যেই কেউ অকস্মাৎ বলে ফেলবে ফেসবুকে।
ব্যাস। মুহূর্তে বদলে যাবে এই সকালের চরিত্র; বদলে যাবে এই সকলের চরিত্র। একদল আপাত নিরীহ মানুষ দাগী আসামীর খসখসে হাত নিয়ে হিড়হিড় করে রাস্তায় টেনে আনবে কিছু বিশ্বাসঘাতক কেরাণী, শিক্ষক, ডাক্তার, উকিলদের অনেকাংশকে। তারপর জামা ছিঁড়ে নিয়ে বলবে, "শালা, স্বদেশী বোঝ? খোল তোর Hush Puppies জুতো। ওয়ে, দেখ মালটা LaCoste পড়ে বেরোয়, আবার! তোরই তো মা না, কাল ঐ সব্জির গাড়ির সাথে পটল নিয়ে সক্কাল সক্কাল চিল্লাচ্ছিল?" চোখে নারকীয় আগুন নিয়ে হাসতে হাসতে ওরা বলবে, "এই নে এবার। আমারটা মুখে নে। আর বল, hell with your capitalism."
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬