Skip to main content

কীভাবে ভালবাসি?

কীভাবে ভালবাসি? অত বলে কয়ে নয়, জানান দিয়ে নয়। আড়ালে। অনেকটা নিজের মত করে। যখন ভালোবাসতে গেলেই ফেসবুক, ইনস্টায় জানান দেওয়া অপরিহার্য, প্রতি মুহূর্তে খবর নেওয়া অনিবার্য, ঘাড়ে ক্যামেরা ঝোলানো বা নিতান্ত একটা ফোনে নিখাদ ভালো ক্যামেরা থাকা একটা ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি, তখনই তফাৎ-এ দাঁড়াব। রুমালে কপাল মুছে নেব গাড়ি কেনার মানসিক অযোগ্যতায়। হয়তো তুমি আজ কলামন্দিরে গাইবে। আমি জানাব না, যে আমি যাচ্ছি। কিন্তু যাব নিশ্চিত। এ সপ্তাহে নন্দন ৩-এ তোমার ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিং ছিল। তুমি জানতেও পার নি; আমি কিন্তু এসেছিলাম। চরিত্রের রসায়নগুলো বেশ জমেছে, হ্যান্ডহেল্ড শটগুলো তো বেশ ভাল। অথচ ক্লাইম্যাক্স জমে নি কিন্তু। আমাদেরও জমত না কোনদিন।

আসলে কী বলত, ছিটকে পড়ছি। ক্রমাগত ছিটকে পড়ছি- আমাদের শ্রদ্ধার পারম্পর্যের থেকে, ভিন্নতার অধিকার থেকে, 'স্বপ্নে পাওয়া আঙুলের' আকর্ষের থেকে। কবিতা সিংহের কবিতার মত কোন বাসই এখন তেপান্তর কেন, নিদেন পক্ষে ময়দানেও যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোন লোকেরই কাছে পৌঁছে যাওয়া খুব সহজলভ্য। যে অভিনেতাকে বারো বছর আগেও দূর থেকে দেখতে, ভয় পেতে অটোগ্রাফ চাওয়ার আগে, এখন ঢুকে পড়ছ তারই অন্তরমহলে- শুধু একটা চার দেওয়ালে আবদ্ধ শূন্যতায় নয়, মনের প্রকোষ্ঠে। চেঁচিয়ে উঠেছ, "বয়কট, বয়কট"। সবাইকে বাতিলের দলে ফেলে আস্তে আস্তে নিজেই ছিটকে যাচ্ছ তুমি। নোংরারকম ছড়িয়ে ফেলছ! এখনও কি মনে পরে যাবে যে ভালবাসায় সম্মানের মত লেগে যায় সমান ব্যবধান?
তাই মাঝে মাঝে এমন ভালোবাসার কাছে ফিরতে হয়। নিখাদ স্বরে গাইতে হয় 'সা'। প্ল্যাটফর্মে রাত হয়। একটু একটু করে লোক কমে আসে। মধ্যরাতের কলকাতা আর কেউ শাসন করে না। কিছু মাতাল ভদ্রলোকদের সারাদিনের লুম্পেন হতে দেখতে দেখতে বীভৎস হয়ে ওঠে। রাতের ল্যাম্পপোস্টে বাংলা মদ হলুদ বমির মত ছিটকে পড়ে। এক একটা ট্রেন একটু একটু করে খালি হতে হতে এক সময় রেললাইনের হাঁসফাঁসটুকু শোনা যায়। তখনই একটা স্বগতোক্তির মত কিছু স্বর বেজে ওঠে। কানের কাছে পরিচ্ছন্ন গলায় শুনতে পাই, এমন ভালবাসার কাছে ফিরবে বুঝি? তাহলে তো আগে নিজের ভালোবাসার কাছে ফিরতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬