Skip to main content

ব্যাকুলতা, বাতুলতা মাত্র

 একটা বিয়ার নিয়ে যদি Mags-এ বস, তাহলেই বুঝবে কেমন মন কেমন করা হাওয়া দিচ্ছে পার্ক স্ট্রিটে। এ বছর কলকাতায় বর্ষা নামবে না। তা হোক। গত বছর বহুৎ ঢেলেছে। শতদ্রু, পার্ক স্ট্রিট বুড়ো হচ্ছে। আমরা আর সিগারেট খাই না Moulin Rouge-এর সামনে। সেই যখন তুমি সুস্থ ছিলে, একবার St. Xaviers-এ আমরা Macbeth দেখতে এসেছিলাম। মেয়েদের অসম্ভব সুন্দর লাগছিল। তারপর ইন্টারভালে একটা দোকানে আমরা রোল খেলাম। বললাম, "দাদা টাকাটা নিন"। "লোকটা অনেকক্ষণ ধরে কিছু করছিল। টাকাটা দিলাম না। তারপর দে ছুট। পালিয়ে গেলাম।

এভাবেই আমরা পালাচ্ছি, শতদ্রু। আমরা অনেকেই পালাচ্ছি। টিন এজের চুমুর থেকে, ভয়ানক সম্ভাবনার থেকে, আমাদের যেটুকু করা প্রয়োজন বা এই মুহূর্তে যেটুকু জীবন আমাদের বলছে 'করো, দেখো, এক্ষুনি করো' - এইসবের থেকে। আমরা যখন যখন একটু বড় হয়ে উঠতে পারছি, একটা বিয়ার নিয়ে, একটা Smirnoff আঁকড়ে ধরে তখনই অন্য আরেকটা আমি আমাদের কাঁকড়ার মত আমাদের কামড়ে ধরছে, পেছনে ফেলছে আমাদের। বলছে, 'নামো, নামো' এখনই নয়। সোফায় পেছনে উল্টে থাকো। বলো বিছানাই বন্ধু।
অথচ শতদ্রু, এখানেই ফিরতে হবে। এই বিরাট বিছানাকেই বন্ধু করতে হবে। এই দুই মেরুর টানাপোড়েন রয়েছে বলেই, তুমি রয়েছ এখনো বেঁচে আছো এত অসুস্থতা সত্ত্বেও। আমি পার্ক স্টিটে বসে মদ খাচ্ছি। "এভাবেই, এখানেই, চিরকাল", অঞ্জন দত্ত লিখেছিলেন। সমস্ত ফুরিয়ে যায় না।
রফি আহমেদ কিদওয়াই স্ট্রিট। রাত এগারোটা।
একটা parking lot থেকে একটা একলা bike, follow করতে থাকে আশ্চর্য স্বপ্নিল এক BMWকে।

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬