আলো নিভে আসছে। সমস্ত তেমাথা আলোর এখন ঘুমিয়ে পড়ার সময়, ডানা জুড়োনোর সময়। বহু আলোর মধ্যে থেকেও অনন্য যেটুকু, তাই চোখের বিশ্রামে নরম লেপ্টে আছে সাদার্ন এভিনিউয়ের ফুটপাতে। এই পথটা আমার চেনা, কারণ এক সময় সন্ধ্যে একটু নিবিড় হলেই গোলপার্কের ক্লাস সেরে ওর সাথে বেড়িয়ে পড়তাম কখনও Indthalia তে garlic sausage আর mocha আবার ওর মাসের শেষের দিকে চায়ের দোকানে। তখন আমার বরাদ্দ সাকুল্যে ১২৫ টাকা/ ঘন্টা। আমি আর কিই বা খাওয়াব? তবুও new year-এ একটা CCD-র notebook দিয়েছিলাম।
সেইসব তরুণ, তরতাজা আলো পেরিয়ে যেতে যেতে মনে পরে, কলকাতায় তখন তেমাথা আলো ছিলনা। লেক রোডে Naturals ছিলনা। এই মিশ্র সংস্কৃতির পাড়ার গলিতে গলিতে তখনও এতগুলো কফিশপ, ফ্লুরিস, হ্যাং-আউট কর্ণার তৈরী হয়নি। কেবল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সড়গড় হচ্ছি বলে, একদিন গুগল ম্যাপে Xrong Place খুঁজে না পেয়ে পাড়ার এক ট্যাঁশ কাকুকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি দেখিয়ে দিলেন আর বললেন, "But don't drink too much, han?"
সেই রাতে সাড়ে এগারোটায় গুরুজী (পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী) যখন দরবারী গাইতে বসছেন S.R.A-তে, আমারা তখনও পৌঁছে উঠতে পারিনি। অথচ, যাওয়ার জন্যই ওর গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলাম। ৬টা লার্জ Bacardi White খাওয়ার পর শুধু মনে রেখে দিয়েছি, আমাদের দেশপ্রিয় পার্কের মোড়ে তুমুল ঝগড়া- আমি ওকে ফেলে অটো খুঁজতে চাইছি , কেন ও আমাকে আরেকটা পেগ নিতে দিল না তাই - এসব খুচরো কষ্টে। এ দিকে ওর ব্যাঙ্গালোরবাসী বয়ফ্রেন্ডের সমানে ফোন এসে চলেছে, "ব্যাপারটা কী তোমার? কোথায় তুমি?" ও কথা গোছাচ্ছে। আমাকে এক অষ্টম শ্রেণী S.R.A থেকে বারবার বলছে, "তুমি কী জালি! And here, I'm getting bored. আর গুরুজীর বিলম্বিত শেষ হচ্ছে এবার" । আমি কথা গোছাতে পারছিনা।
আমার অসৌজন্য এবার যখন মাত্রা ছাড়াচ্ছে, তখনই ও মোক্ষম কামড়টা দিয়ে বলল, "What the hell is wrong with you? রাত বারোটা বাজে, আর তুই এখানে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিস?" আমাকে কথায় এর উত্তর দিতে হয়নি। ভাগ্যিস! সিগন্যালের ওপারে ওর গাড়ির নাম্বার প্লেটটা এবার দেখতে পাচ্ছি। উত্তর দিয়েছিলাম গাড়ির ভেতরে - নিজস্ব স্ব-শরীরী ভাষার মুহূর্ত নির্মাণে।
রাত ১১টা বাজতে চলল।
যাই, একবার গোলপার্ক যাই- আরেকবার মুহূর্ত ধরে আসি এই বিপণনী আলোয় আর রাস্তার পরতে পরতে বিক্রি হয়ে যাওয়া আমাদের সস্তা মূল্যবোধের মৃত্যু-উৎসবে।
৩১ জুলাই, ২০২২
Comments
Post a Comment