Skip to main content

হরিদ্বার - বুকে চিনচিনে ব্যথা

 এক একদিন এমনভাবেই আসে। রাস্তায় অযথাই সন্ধ্যেবেলা নান্দনিক গীটার বেজে ওঠে। বুকে চিনচিনে ব্যথা মনে করিয়ে দেয়,নতুন বছরের resolution ছিল, মদ খাওয়া কমাতে হবে। দিনে মাত্র দুটো সিগারেট, ব্যাস! পাশের টেবিলে যে দু'জন বসে আছে আজ ম্যাগস্-এ ওরা কি থাকবে কোনদিন এক ছাদের তলায়? অ্যামদাবাদ ছেড়ে আমেদাবাদ উচ্চারণ করতে শিখবে অতর্কিতে এই মেয়ে? বাঙলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় কথা বলবেন কোন মিডিয়া চ্যানেলে এদের নিয়ে? পার্ক স্ট্রিটে সন্ধ্যে হলেই মনে পড়ে, কাল গণেশ পুজো। এখনও Accenture Kolkata বিশ্বাস করে, এইদিন floating leave অর্থাৎ ইচ্ছেমত ছুটিই যথেষ্ট। আমার পাড়ায় বেনিয়া সংস্কৃতির ও যাদের কালো টাকা লুকোতে ধর্মের আশ্রয় নিতে হয়, সেই লুম্পেনরা এটুকুই ভাবেন যে, গণেশই তাদের প্রাথমিক দেবতা। একসময় এ পাড়ায় তিনদিন ধরে আমরা সরস্বতী পুজো করতাম, গানবাজনা করতাম,কবিতা পড়তাম। সংস্কৃতে "আদিপূজিত পাদপংকজমাপদামপঘাতকম্" গাইলেই তখনই শিশু-কিশোর এরা বলত, "ভাই, একটু বলিউড হোক।"

দীর্ঘসূত্র দিন, দুপুর, সন্ধ্যের অলীকযাপন। গতকাল রাতে হরিদ্বার থেকে ফিরেছি। যেখানে মাসে দুবার গেলেও মনে হত, হরিদ্বারকে তেমন বুঝিনি তাকে কেন এত ফিকে লাগছে, এবার তাকেই মনে হচ্ছে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলার কথা। স্মৃতি। স্মৃতি শুধু একটা প্রজন্মের জগৎ নয়, সমস্ত প্রজন্মের অখণ্ড বিস্মরণের ভয়। আমরা স্মৃতি নিয়েই বাঁচি - এ নিয়ে তুমি Black সিনেমাটা আরেকবার দেখে নিতে পার, পড়তে পার Julian Barnes-এর The Sense of an Ending. তুমি এখানে বসেই আমাকে বলতে পার, "কাল থেকে StanC তে join করলে তো তুই আমকে চিনিসই না। তোর নতুন একটা girlfriend হবে, তুই একটা C*** হবি" আমরা Mags- এ বসব না আর।
একদিন পঞ্চাশ পেরিয়ে আমরা failed and tarnished IIT/IIM- এর MBA ডিগ্রী নিয়ে কি হর কী পৌড়ীতে thyroid-এর ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়ার পর দেখা করতে পারি? আমারা কি সে'সব JW Marriott-এর সকাল বা দুপুর নিয়ে কথা বলব কোনদিন আমাদের চল্লিশে, যেদিন সেই ২০১৮-র আমাদের অলীক স্বপ্নকল্পে পার্ক স্ট্রিট বা হরিদ্বারে আমাদের property, আমাদের শিশু সাম্রাজ্য কেনার স্বপ্ন নিয়ে কথা হবে?

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬