Skip to main content

Feminism

 গান শেখাতে গিয়ে অনেক সময়ই বলে থাকি যে তোমার গানের গলা আর কথা বলার গলার আওয়াজ- এ দুটো যতটা কাছাকাছি হতে পারে, ততই ভাল। তাতে কানের আরাম, প্রাণের আরাম। কিন্তু এ কথা তো ঠিক, কোন কিছু শিখতে গিয়ে আমরা সেই মানুষটির কাছাকাছি হয়ে উঠতে চাই যাকে আমরা শ্রদ্ধা করি ; যার থেকে সত্যি কিছু শিখি। আমরা তাঁকে দেখাতে চাই অজান্তেই, যে আমরা তাঁর সমকক্ষ হয়ে উঠতে পেরেছি কিংবা নিজেকে এই বিশ্বাসে ভোলাতে চাই হয়তো।

আজ বিকেল বেলা হাঁটতে বেরিয়ে ছিলাম যথারীতি। বাঘাযতীন স্টেশনের প্লাটফর্মের উপর দেখলাম এক অদ্ভুত ব্যাপার। প্রায় ৫০ মিটার ব্যবধানে বসেছেন দুই সবজি বিক্রেতা। একজন মাঝ বয়সী পুরুষ হেঁকে চলেছেন, ''১ কেজি ১০ টাকা, ২০ টাকা -- ১ কেজি ১০ টাকা, ২০ টাকা'' আর কিছুক্ষণ পরপরই প্রায় একই রকম গলার একটা প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে অন্য সবজি বিক্রেতারটির কাছ থেকে।
আমি প্রথমজনকে পেরিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে দেখি, সামনের সবজি বিক্রেতাটি পুরুষ নন, তিনি মহিলা। তিনি এক নাগাড়ে পাল্লা দিয়ে হেঁকে চলেছেন প্রায় অবিকল একজন পুরুষের গলার আওয়াজে।
যখন লিঙ্গ বৈষম্যের কথা ওঠে, পুরুষদের নারীসুলভ কিংবা মেয়েদের টমবয় হওয়া নিয়ে নানা কথা academic thesis-এ লেখা হয়, খবরের চ্যানেলে আলোচনা হয়, তখন এমন আশেপাশে প্রত্যেক মুহূর্তে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো কী করে আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়-- ভাবি

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬