Skip to main content

নির্ভেজাল

 সেভাবে দেখলে অনেক সামাজিক সম্পর্ক বাকি থেকে গেল। পাড়ায় পাড়ায় সপ্তমীর ক্যুইজ কন্টেস্ট চলছে; অন্তাক্ষরী প্রতিযোগিতা, মিউজিকাল চেয়ার - আরও কত কী! সপ্তমীর পুষ্পাঞ্জলি শেষ হয়েছে সকালে। অলক্ষ্যে কোন সকালে পাড়ার ভীড়ে নিজেকে গুঁজে দেব, কতবার ভেবেছি। যাই নি। আজ বাড়ির পুজো হচ্ছে, তাই ব্যাপারটা ঘটে গেল আর কী।




কয়েকদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করছিল, কিছু হয়ে ওঠা হল না বলে আফসোস হয়? না তো। তবে, হ্যাঁ। টিনএজে একবারও ওলটপালট করে কাউকে ভালোবাসা হল না, এমনকি আজও হয়নি বলে মন খারাপ হয়, আফসোস হয় বৈকি! যে সম্পর্ক প্রথম কথা না বলার সাহসে কোনদিন জন্মায় নি, যেসব বিদেশ দেখা হওয়া ছিল প্রায় নিশ্চিত, অথচ থাকার খরচের ভয়ে কোনদিনই হয়ে উঠল না, শুধু ফোন করতে অনীহার কারণে যেসব সন্ধ্যেবেলা তেমন আর সম্ভাবনাময় বলে মনে হচ্ছে না আজও - এসব নিয়েই থাকতে হবে। আমাদের সবাইকেই থাকতে হয়।

কিন্তু, এই থাকার মানে পিছিয়ে পড়া- সেটা নাও হতে পারে। আসলে, এসব লিখতে লিখতে নিজের সাথে একটা অসেতুসম্ভব বোঝাপড়া হতে থাকে। এমন অনেককে চিনি, যাঁরা নিজে আদ্যপান্ত পপুলিস্ট কাজ করে যেতে চেয়েও আসলে মেধাবী কবিতা লেখেন। সাউথ সিটিতে একটা ফ্ল্যাট বা অন্তত মাহিন্দ্রার নতুন SUV কিনতে চেয়েও তার কাজের ধরণের কারণে পয়সার সাথে আপোস করতে করতে খুব একা হয়ে যান। পারিপার্শ্বিক ও আন্তরিক বিরোধই যে(কষ্ট হলেও সত্যি)এই পরস্পরবিরোধী দুটো ঘটনার সহাবস্থান আটকে দেবে বারংবার - একথা মেনে নিতে আর মনে নিতে তাদের বেশ অসুবিধে। শুধু তাই নয়, 'আমি মেনে নিতে পারছি না, jealous হচ্ছি না চেয়েও' - এই সহজ বোধের কাছাকাছি আসতেও একটু মাথা থেকে পা টলে যায় তাদের। এর শেষটা মারাত্মক- এক অসংবেদী রাগ থেকে ক্রমশ ডার্ক হয়ে যাওয়া, আমার পথ যে নেয়নি তার সম্বন্ধে প্রতি মুহূর্তে অলক্ষ্যে নীতি পুলিশের শুনানি দাগিয়ে যাওয়া। নিজেকে আলাদা করতে করতে কতদূর যাবে তুমি? এত বিষ কোথায় রেখেছ?

আসলে, সব কিছু খুব তাড়াতাড়ি পুরোনো হয় আজকাল; Alvin Toffler তার Future Shock বইয়ে এটা অনেক আগেই ১৯৭০-এ বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। তাই যখন পুজোতে একটু বুদ্ধিদীপ্ত লেখা খুঁজতে গিয়ে পুজোয় বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের বা ডোমেদের কেমন কাটে - এসব পড়তে হয়, তখন একটুও মন কেমন তো হয়ই না, বরং এই লেখা কেন লেখা হয়েছে সেটা ভেবেই হাসি পায়। স্রেফ হাসি পায়। মনে হয়, কবে নিজের ভাষায় আন্তর্জাতিক মানের কিছু লেখা পড়ব? একটা সিনেমা দেখব যা শুধু চিত্রকল্পে তৈরি?

এসবে খুব বাজে ভাবে এমন ভাবে মাঝে মাঝে আটকে পড়তে হয় যে, সত্যিই 'সতত নির্ভুলভাবে সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না' এখন।


Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬