তুমি যাচ্ছ,
আর তোমার পেছন পেছনে চলেছে এক একটা প্রজন্ম।
বর্ণসঙ্কর জাতির কখনও উৎসবের রঙ নিয়ে ভাবতে নেই।
তুমি জান নি,
দেখবে বলেও ভাব নি একবারও।
তোমার শেষ উৎসবে বাজছে আজান থেকে আগমনী,
ভাংড়া থেকে কলি-বলি-টলি
নিহারী থেকে রিসোত্তো
সব কিছু পেরিয়ে প্রজন্মকে টানতে টানতে তুমি নিয়ে চলেছ
বাগবাজার ঘাটে।
ঘাট একা জলের কথা জানে।
এরা কোনদিন ঘাট দেখে নি, বোধহয়।
সন্ধ্যে ৬টার ফেরী যখন এক দঙ্গল ঘেমো কেজোদের
হিঁচড়ে হিঁচড়ে ফেরায় বাড়ি,
তখন গঙ্গা জানে,
এই তো এসেছে ওরা।
ওরা আজও বাংলা বলে?
জল মানুষ চেনে না, প্রজন্ম চেনে না
শুধুই ভাষার কথা বোঝে।
শাড়ি শোনে আলমারির ফিসফিস।
১৫ বছরের পুরোনো শাড়ি
আজ এটাও জানে,
উঁইয়ের শব্দ বোধহয় এই ১৫ তলায় আসে না।
অষ্টমীর পরই কি কোনদিন আসে সরস্বতী পুজো?
আলমারি জেনে নেয় ব্যবহৃত
কুর্তার থেকে। টপ টিপ্পনী কাটে,
"তুমিও পুরোনো হলে"।
শাড়ি প্রজন্ম জানে, গন্ধ জানে
টপকে সে বলতে শুনেছে,
"গায়ের গন্ধটা বদলে যায় জানিস?
এটা ও নয়, সেটাই গন্ধই বলে
আর ওর সাথে ভীষণ স্বাদু গন্ধ ওর,
আমারও ভালো লেগে যায় এত!"
কীভাবে টানবে তুমি এত এত এত?
তোমারও ক্লান্তি আসে।
তাই দশমীর হাতে, যখন সুনয়না আদর
সিঁদুরে সিঁদুরে তোমার লাগে গালে,
তুমি ভাব "আমিই কি মা?
প্রতিমা একাকী নয়? কে কে আর
আমায় মনে রাখে? এই কয়দিনে
যা যা দিস তোদের হাতে,
আমি তা অঞ্জলি ভরে রাখি"।
একা নেমে যাও তুমি ধাক্কা পেরিয়ে
জলে,
প্রজন্ম হারিয়ে গেলে,
বলবে কে? শুনবে কে বাংলার শ্বাস?
জলই সব জানে।
সবাই জলকে বলে, প্রাণ
তোমারই মৃত্যু হয় আরোহীর স্বরে,
জল মানে নিপাট শ্মশান।

Comments
Post a Comment