Skip to main content

কোজাগরী

 সকাল থেকেই মনে হচ্ছিল, এবার কি কেউ খিচুড়ি খেতে ডাকবে না? একটু প্রসাদ? পাঁচালি শোনা? ধর্মে নেই তো কি? উৎসবে তো আছি।

বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। পাটুলি পেরিয়েই নাকে ধূপগন্ধ। তারপর আরেকটু দূর। আরেকটু হাঁটা। পুজো শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতি-চন্দ্রের সহাবস্থানে কাল দেখেছি আকাশে এক আশ্চর্য উজ্জ্বল চাঁদ, তার পাশে ছোট্ট ফুটকি। বহুদিন পর কাল কলকাতার আকাশে এত তারা। এসব কি এমনিই যাবে?
রবীন্দ্র পল্লী পেরিয়ে ঘরের দিকে ফিরি আর ভাবি ,এবার তাহলে একটা আশ্চর্য কিছু ঘটে যাক। পুরোনো বন্ধু রাগ ঝেড়ে ফেলে একটা ফোন করুক। নিদেন পক্ষে না হয়, চায়ের দোকানের ছেলেটি আবার ৩ বছর আগের মত ছাঁকনিতে গরম জল ঢালতে ঢালতে হাংরি জেনারশেনের কিছু কবিতা আবৃত্তি করে শোনাক?
তখনই এই দুর্গা পুজোর খালি মণ্ডপকে ঘিরে দেখি কিছু লোক লুচি আর ফল প্রসাদ খাচ্ছে। উঁকি মারি। অত বড় বেদী ফাঁকা। ঘোলাটে আলোয় কয়েকজন প্লেট সাজিয়ে রাখছেন এক পুঁচকে লক্ষ্মী ঠাকুরের পাশে।
কাছে যেতে যখনই ইচ্ছে করে, তখনই অনিচ্ছা সত্ত্বেও পালিয়ে যাই কেন বারবার? কেন কথা বলতে, সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি না সাহস করে?
পায়ের গতি বেড়ে যাচ্ছে এবার। পালাচ্ছি। "ও দাদা, ও দাদা, প্রসাদ নিয়ে যান।" একটু করে পায়ের আঙুল ঘষটে ঘষটে চটিকে আটকে দিল এবার। জুতো খুলে মণ্ডপে ঢুকি, প্রসাদ নিই।
"মা, এই মিষ্টিগুলোও ভেঙে ভেঙে দিয়ে দেব?"
"হ্যাঁ, দে।"
"কাকু, কাকু, এটাও একটু নিয়ে নাও"



কাল রাত থেকে এই নিয়ে দু'জন ১৭-১৮ বছর বয়সী ছেলে কাকু বলে ডেকেছে!
আর কিছুই বেশিদিন লুকোনো যাবে না। বয়স ধরা পড়বে বহিরঙ্গে। যতই আলাদা হয়ে একা থাকতে চাও, এরকম বিকেলে কেউ কেউ স্টেশন চত্ত্বর পেরোলেই ডেকে বলবে, "চলুন একটা সিগারেট ধরাই।" পাশের বাড়ির সাথে আবার,,অনিচ্ছা সত্ত্বেও, সিরিয়াল উপেক্ষা করে বিজয়ার মিষ্টিমুখের গল্প নিয়ে বসা হবে । আবার পরবর্তী প্রজন্ম শুধু UPI 2তে transact করবে তা নয়, বরং বাটি চালাচালি নিয়ে আরও 'বেঁধে বেঁধে থাকতে' পারবে। এসব হবে। সুখের পায়রা ভেবে যাদের নিয়ে অন্যদের কাছে আর ফেসবুকে প্রতিদিন বিষের এক একটা স্থাণু গাছ পুঁতে যাচ্ছ, তারাও ক্লান্ত হতে হতে কোনদিন ভুল করে এক দুঃখের দিনে হাসপাতালের HDU সেকশনে দেখা করতে আসবে।
এবার একটু পাঁচালি পড়া যাক নিজে নিজে। অনেকটা হালকা লাগছে।
পুনশ্চ : এই লেখার কিছুক্ষণ পরেই পাশের বাড়ি থেকে খিচুড়ি সহযোগে সম্পূর্ণ প্রসাদের থালাও পাওয়া গেল। কাকতালীয়ভাবে, একটু আগেই এই লেখাতে বাটি চালাচালির কথা লিখেছিলাম । এরকম দিনে পৃথিবী কতটা ভালো, সে খুব সত্যি মনে হয়



Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬