Skip to main content

জাগরীর আলো

 এরকম পরিচ্ছন্ন সকাল দেখলেই এখনও রোদ আর অফিস উপেক্ষা করে বেরোই। দৃষ্টি স্বচ্ছ হয়। নিরবিচ্ছিন্ন ব্যস্ততার বাইরে, ধর্ষকাম আওয়াজের বাইরে যে একটা কলকাতা ট্রেনলাইনের ধারে, ডালহৌসি পাড়ার ফুটপাথে আর জগন্নাথ ঘাটের আসে পাশে এখনও একটা সকালকে একটু শান্ত হয়েই মেনে নিয়ে বেঁচে আছে - এসবকিছু একটু একটু দেখতে পাই। শিয়ালদাগামী সোনারপুর লোকালে এমন সকালে অতর্কিতে একটা সিট পাওয়া গেলেও যেতে পারে।

আমরা যারা এক সময় এ পথের ট্রেনে গেছি বারবার কিংবা এখনও যাই, তারা ভিড়ে বিরক্ত হই কারণ ঢাকুরিয়ার আগে বা পরে, ট্রেন একবার দাঁড়াবেই। ভেতর আরও ভ্যাপসা হয়ে আসবে; পাশের লোকের জামায় চিটকে থাকা ঘাম অনিবার্যভাবেই অসহ্য মনে হয় তখন।
ঠিক তখনই এইসব বস্তি থেকে তরকারি রান্নার, মাছভাজার গন্ধ আসে। জিভ সজাগ হয়ে শোনে মশলার ঝাঁঝের কিড়মিড়। নাক উশখুশ করতে করতে ভাবে- যেটুকু পাওয়া যায় হাওয়ার আনাচে কানাচে, সবটুকু সাপটে খাওয়া যাক । মনে হয় এই খাওয়ার লোভে, একটু সুরেশ থেকে মিষ্টি নিয়ে বিজয়া করে আসি ওদের বাড়ি। বন্ধুত্ব না হয় , একটা নিজের স্বার্থগন্ধী সম্পর্ক হোক।



সেসব হয় না কোনদিনই। যেমন প্যারিসে ঘুরতে যাওয়া হয়না; কোনদিন না গিয়েও আমায় স্বছন্দে ফরাসী বলতে শুনে পঞ্চাশোর্ধ্ব বেরনার আঁতকে ওঠে। আইটিসিতে যেমন গাওয়া হয়না একদিনও - তেমন এসবও কখনও ঘটবেনা। তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তবে Forest Gump -এর fictional জীবনের মত কোন miracle ঘটবেনা জেনেও, এই বস্তিতে একটা দোতলা তৈরি হবে। আর, টিকেও যাবে দশকের পর দশক, যতদিন না উন্নয়নের জন্য কেউ এদের উৎখাত করছে। লক্ষ্মী কোনদিন আসছেনা, তবুও মইয়ের সিঁড়িতে আঁকা হবে লক্ষ্মীর আলপনা কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে। যদি কোনদিন অলক্ষ্মী নিয়েও সে দৈবাৎ এসে যায়, কোথায় বসতে দেবে? একতলায়? না না। ওপরে বসুন আপনি। যান। যে পায়ের ছাপ আশা করেই যাচ্ছি কয়েক দশকে, দেখি একবার মাদুর ছেঁড়া জুড়ে সে নিজের জন্য ওপরতলার খাটের কোনায় নিদেনপক্ষে একটা সিংহাসন বানাতে পারে কিনা !

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬