Skip to main content

"শেষপর্যন্ত তোমাকে চাই"

 সমস্ত ভালোবাসাই যদি খাওয়ার মত বা এক কাপ চায়ের মত জিভেতে এমন এলিয়ে যেত! ভালোবাসার সাথে জিভের অবশ্য যোগাযোগ আছে। জিভে এলে ভালোবাসা ভিজে যায়, স্বাদু হয়, সতেজ হয়ে ওঠে। জেগে ওঠে শেষমেশ। খাওয়ারও তাই।

আসলে, ভালোবাসার সাথে খাওয়ার আর খাওয়ানোর‌ নিশ্চয়ই যোগাযোগ আছে। এটা ততদিন বুঝিনি, যতদিন‌ না এক সম্পূর্ণ ছাড়াছাড়ি হল। যতদিন জিভে স্বাদ লেগে থেকে আমাদের বিবেকানন্দ পার্কে খাওয়া দই ফুচকার, যতদিন নিজামের পাশের আউটলেটে জানুয়ারি পড়লেই একা একা বিফ রোল, কিংবা হালিম খেতে যাব, যতবার পার্ক স্ট্রিট ফিরলেই ওয়েসিসে ঢুকে গিয়ে মনে হবে, (আনিসুল আছে কি আজও?) বলা‌ যাক চিজ-চেরী-পাইন্যাপল্ আর তিনটে বিয়ার, ততদিন কীভাবে পুরোপুরি ছেড়ে চলে যেতে পারি?
এসব বুঝিনি। তবু আমার বাড়িতে এলেই তুমি আনতে পোস্ত চিকেন। হ্যাঁ, প্রথম তুমি। তোমাকেই বলছি। ওটাতেই সেরা ছিলে। ওহ্, না না! তোমার চকোলেট, অরগ্যানিক মধুর কেরামতি - সেসমস্ত মনে রেখেই আজ সসম্মানে স্বীকার করি, তোমার ঐ‌‌ পোস্ত চিকেনের কাছে এইসব কিছুই ছিল‌না। আমাদের কিচেনে ভাত করা, সেই, মনে‌ আছে?
ছাড়ো।
আর তুমি, অ-দ্বিতীয়, তোমার দ্বিতীয় হয়ে ওঠা হলই না আর। নিরামিষ হলে যা হয়! জেভিয়ার্স থেকে শেষে আশুতোষ অবধি হাঁটালে? স্যান্ডউইচের লোভে? হেঁটে নেব এরকম টোপ দিলে, এটা তুমি জানতে নির্ঘাত। বেড়ে লেগেছিল। ভাবছি এবার, আগত তৃতীয়কে তাই সামান্য ওখানেই নিয়ে যাব। তারপর হাজরা ক্যাফেতে বসা যাবে পুডিং সাঁটাতে। অপরাধ হবে?
শোন, এরকম করতে নেই। কারণ, তাহলে একের ওপর এক অনিবার্য জড়িয়ে যেতেই থাকে। আমরা দোঁ-আশলা লোক। আমাদের কত আসা-যাওয়া; পথের বয়সই বাড়ে না। এভাবে জড়িয়ে জড়িয়ে ছড়িয়ে ফেলব শেষে।একসাথে হাঁটা আর খাওয়ার আদরে এভাবে আটকে নেবে‌ কাছেও না থেকে? জন্মদিনেতে ছুঁড়ে দেবে বেমক্কা বেনামী বই? ফেসবুকে ছবি দিয়ে এভাবে জানান‌ দেবে, কতটা ভাল আছ? মেয়ের হাতেখড়ি হল কাল। তা, কী দিয়ে লেখালে যেন? ওহ্ সেই Pierre Cardin। এখনও প্রযত্নে তবে ওকেও রেখেছ কাছে?
এভাবে ভালোবাসতে আছে?

১৯ জানুয়ারী, ২০২৩

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬