এরিক ক্লেপটনের ওয়ান্ডারফুল টুনাইট শুনে এক ভদ্রমহিলা অঝোরে কেঁদে চলেছেন। জন্ম সম্ভবত এডিনবার্গে। স্বামী মারা গিয়েছেন ১০ বছর আগে।
ক্রিসমাস আসত এক সময়। আসত কমলালেবুর কেক, আসত গিটারে ডি এফ-শার্প, ডি এফ-শার্প। ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হত। আর ক্রিসমাস ইভে গাইতেন ভদ্রলোক এই গান।
সেসময় কলকাতায় শীত পড়ত। ময়দানে দেখা যেত আশ্চর্য ঘোড়া। চায়ের কাপ হাতে হেঁটে যেত তুহিন ও তুহিনার বান্ধবীরা। আজকাল অনলাইন ক্লাসে কোন বন্ধু হয়না। আজকাল কলেজে কোন মানবিক প্রেম হয় না - সবটাই মেটাভার্সে, সবটাই ভার্চুয়াল। কমলালেবুর ঝুড়ি নিয়ে কেউ বসে না ময়দানে অলীক দুপুরে উৎপল কুমার বসু কিংবা ফার্নান্দো পেসোয়া পড়ে শোনাবে বলে।
অথচ সারা পৃথিবী জুড়ে নামবে এমনই জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। অঞ্জন দত্ত ভাববেন, "হয়তো বরফ পড়বে কলকাতায়"। রোগগ্রস্ত হয়ে যাবেন আমাদের পৃথিবীর শেষ সুস্থ মানুষ। এমন সময় এডিনবার্গের এক আস্তানায় এই মানুষটি ওয়াইনে চুমুক দিতে দিতে অঝোরে কেঁদে চলবেন ক্লেপটনের ওয়ান্ডারফুল টুনাইট নিয়ে। দার্জিলিঙে কিছু বেমক্কা টুরিস্ট বরফ দেখে ছবি তুলবে স্নোম্যানের সাথে, যারা জীবনে কোনদিন এক্সপ্লোরার হতে শিখবে না।
সবকিছুই চলবে। কোন কিছুই বদলাবে না। কিন্তু এই ভদ্রমহিলার কী হবে? এই ভদ্রমহিলার ঘরে একটা সিসিটিভির মত যে লেখক ১০ বছর ধরে সাজিয়ে চলেছিলেন প্রত্যেকটা মুহূর্ত, প্রত্যেকটা হাসি-কান্নার অন্তরঙ্গ বন্ধুতা - তার কী হবে? ক্লেপটন কি আসবেন অন্তত একবার এই ভদ্রমহিলার জন্য এডিনবার্গে শো করতে? ভিড়ের মধ্যে, হাততালির আওয়াজের মধ্যে কোথাও কান্না চেপে ভদ্রমহিলা কি এই গানটার অনুরোধ জানাতে পারবেন?
সম্পর্ক তৈরি করা খুব সহজ। আসলে খুবই সহজ। কঠিন হচ্ছে একটা মনের মত সম্পর্ক তৈরি করা। ক্লেপটনকে জড়িয়ে এ ভদ্রমহিলা এই দশ বছরে যে সম্পর্ক তৈরী করেছেন তাঁর অত্যাগসহন স্বামীর সাথে - তাকে কী নাম দেব?
জানি না। শুধু কিছু স্বপ্নচারিণী ইচ্ছে, সামান্য ভাষা, মিতকথন আর ময়দানে অপূর্ব কমলালেবুর গন্ধ খুঁজে পাই আজও কোন বিপণ্ণ দুপুরে
কোথাও অযাচিতভাবে বেজে চলবে ডি এফ-শার্প, ডি এফ-শার্প
৬ জানুয়ারী, ২০২২

Comments
Post a Comment