Skip to main content

"তরঙ্গ যায়, তরঙ্গ ফিরে আসে"

 কলকাতায় শীত কমে আসছে। এমন বেমক্কা দিনে পার্ক স্ট্রিটে বেলুন‌ শুকিয়ে যায়। একটা এমন দোকানের কথা, রাস্তার কথা মনে পড়ে যেখানে মনে হয় আমরা কোনদিন একসাথে গেলে ভালো হত। যেমন, জীবনদীপের পাশে Fire and Ice Pizzeria ; যেমন, থিয়েটার রোড বা লিটল্‌ রাসেল‌ স্ট্রিট। তোমার অফিস পাশেই তো ছিল। আমিও কতবার এ পথে হাঁটব ভেবেও এখনও হাঁটিনি‌ । ঢুকতে গিয়েও Fire and Ice -এ একদিন আমার দরজার কাছে পা পিছলেছে। বুঝেছি, এখনও হয়নি সময়। অন্য কোনদিন যাওয়া যাবে।

এই অন্য কোনদিন, অন্য কখনও কোনদিন, হঠাৎ কিছু আকস্মিক হয়ে যাক - এসব ভেবে ভেবে আমার আর কোনদিন কিছুই করা হয়ে উঠলনা। আমাদের সাথেই কলকাতার শীতের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। রক্তের ঝাঁঝ কমছে। ওসব বিশ্ব উষ্ণায়ন বাজে কথা, জানো? তাহলে বেদুইনদের প্রেম শুকিয়ে যেত। Wind, Sand and Stars কিংবা The English Patient-র মত ক্রমাবর্তক বইগুলো কোনদিন লেখাই হত না। আমাদের ভেতর তীব্র থেকে তীব্রতর অসুখ ফুঁসে উঠছে রাসেল‌ স্ট্রিটের পার্কিং স্পেসে দাঁড়িয়ে থাকা মার্সিডিজ বেঞ্জের ফার্স্ট গিয়ারের আওয়াজে, অধিক গভীরগামী আলস্যে জারানো বিয়ার মাগে। আমরা দেখছি আমাদের চেনা‌ লোকেরা এখনও অফিস যেতে ভালোবাসে। Automation আর artificial intelligence-র বাজারে ChatGPT-র‌ মত বিপ্লবের পরেও কী সাধ্যাতীত সাহসে ওরা চায়ের দোকানে সিঙাড়াকে ভুলে গিয়ে 'সামোসা' তুলে ‌আনে। বলা ভাল‌ সমস্যা ভোলার খুচরো ইচ্ছেগুলো তাদের এখনও বেশ টানে।
এর মধ্যে তোমায় লিখছি। আচ্ছা, আমরা কি আর‌ কোনদিনও অ্যাকাডেমী ক্যান্টিনে ডিম-আলু রোল খেতে যাব? এর‌ পাশেই এক সময় নান্দীকারের জন্য, বহুরূপীর জন্য আলাদা পোশাকঘর ছিল, না? আজ জঙ্গল উপচিয়ে তবুও জানান‌ দেয় - আছি, আছি। তবে, অক্সফোর্ড বুকস্টোর এখনও বেঁচে আছে চা-বারের‌ রেভিনিউয়ে। শুধু পার্ক‌ স্ট্রিট নয়, বরং সমস্ত কলকাতা থেকেই সাহেব বাঙালি লোকগুলো আর কিছু দিনেই ডোডোপাখি হয়ে যাবে। ট্রামের মিউজিয়াম দেখে ও পাড়ার বাচ্চারা একটু চিপস্ ছড়াবে, কফি ফেলবে কার্পেটে। পার্ক স্ট্রিটের রেস্টুরেন্টগুলোতে ল্যাভেন্ডারের গন্ধ, লাল‌ সোফা, বুড়ো বেয়ারাদের চোখে পঞ্চাশ বা একশোর নোটের চিকচিক, ক্যালকাটা বা বেঙ্গল‌ ক্লাবে যাওয়া আন্তর্জাতিক ভিক্টোরিয়ান বাঙালিকে টপকে আমাদের দামী ধাঁচের সস্তা কৃষ্টি আর অভদ্রতার উৎসব নিয়েই থেকে যাবে একুশ‌ শতকের survival of the fittest. কলকাতা তখন, জানো, নিজের শহর নয়, একটা জান্তব tourist spot হবে। খুব শিগগিরই হবে।
ভালো থেকো।






Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬