Skip to main content

পুরোনো জামা

 পুরোনো জামাটা হাতে নিতেই একরাশ টিন-এজ প্রেম লেগে গেল হাতে, পিঠে, গায়ে। গন্ধ নিলাম। কত পুরোনো হবে এই জামা? সে সব কথা থাক। এ কোনো বলিউডি পুরোনো জিন্স্‌ নয় যে লিখে ফেলা যাবে একতাড়া গানের লাইন, কিংবা নয় কোনো বাপ-ঠাকুর্দা সূত্রে পাওয়া গরদের পাঞ্জাবী বা ধুতি, যে বেশ হাতে গড়গড়া কিংবা হুঁকো (এখন শুধু hookah bar ই মেলে যদিও বা সহজে)- টিকে সাজিয়ে বেশ আয়েশ করে তামাক নিয়ে বসা যাবে এই প্রাক্‌-শীত সকালে। এ নিখাদ বাঙ্গালী ক্লার্কের প্রতিদিন পরিধেয় জামার মতই এক ফ্যাশন-অজ্ঞ টিন-এজারের জামা।

গন্ধ নিলাম। লেগে আছে কিছু নিজের গায়ের গন্ধ? যেরকম বহুদিন আগে ছেড়ে যাওয়া আলমারিতে ঠাকুমার শাড়ীতে পাওয়া যায়? "আমি তখন নবম শ্রেণী।" সোনালি দুঃখের আমেজটা মরে আসছে, আর যখন তখন মনখারাপ বা আত্মহননের ইচ্ছেটা আসে না। মনে হয় না আর, এই আগামী ১৫ মিনিটে কাউকে আদর না করতে পারলে মরে যাওয়াই ভালো। লেগে আছে কিছু সেই আমি? কাঁচা অনুভব? তীব্রতা? একটুও সেরকম আমি?
বদলাই নি খুব একটা। কিন্তু বদলেছে অনুভবের আরাম, কবিতায় ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য, দুপুরের অলস বইয়ের ওপর ঘুমের স্বভাব - এইসব বদলে গেছে। সেই মনে পড়ে তারাপদ রায়ের কবিতা? এতগুলো বছর থেকেও তোমার সাথে আমার কিছুই মিলল না কলকাতা ; শুধু জামা-জুতোর নম্বর বদলে গেল? আমার মিলেছে। খুবই খাপে খাপ আমি আর এই শহর। কিন্তু সেই জামার নম্বরটুকুই বদলালো না, জুতোও না। বদলে গেল যেটা বদলানোর ছিল না : অনুভব।
অফিসে এক অবাঙ্গালী সহকর্মী শার্টের প্রশংসা করতেই ভাবলাম - কী আশ্চর্য। এতদিনের পুরোনো হালফ্যাশনের জিনিস ২০১৬ র কর্পোরেট জগতে এত প্রশংসিত কীভাবে হতে পারে? কত বয়স হল, শার্টের? সে জিজ্ঞেস করতেই গুনে ফেলি - ১০ বছর তো হবেই।
"সব ইতনা লাকি নেহি হোতে হ্যায়, ভাই", সে বলে।
Context আলাদা, কিন্তু আমি গড়িয়ে যাচ্ছি ২০০৬ সালে। ভাগ্যবান নাকি? সত্যিই এই ফ্যাশন-অজ্ঞতা, কম complexity এসব ভাগ্যবানের পুরোনো জামার মত ছায়াসঙ্গী?
হবে হয়তো। জামা বদলায় নি। আর মানুষটা? কী জানি !

25 October 2016

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬