Skip to main content

আমাদের সামান্য যাতায়াত

 তুমি নেই‌। ছিলেনা কখনও। তবু এরকম আকাশ‌ উৎসব হয়ে উঠলে কেন‌ জানি মনে হয়, এই মাত্র ছেড়ে চলে‌ গেছ। "ছিল, নেই - মাত্র‌ এই"। ব্যাস্, এটুকুই‌ তো‌ সুখ চলার পথ। অফিস টিমস্-এ লিখি, "সরি। নট অ্যাভলেবল্‌ ফর দ্য মোমেন্ট ডিউ‌ টু পাওয়ার কাট্।" সামাজিক ছেদ মেনে‌ নিই। আমাকে তুমি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট‌ করার‌ আগেই নিজের ঝলমলে ঘরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করি। স্ট্রিং লাইট অফ্ হয়ে যায়। মনে হয়, বেঁচে গেছি এ যাত্রায়।

কিন্তু, আরও অনেক খতরনাক, বিষ‌মাল তুমি। এভাবে মারবে যদি জানতাম! কলম হাতড়ে নিই ; খসে যায়। একটা বই? একটা বই? এই তো পেয়েছি। এক মিনিট, দু'মিনিট, তিন মিনিট ; খসে গেল চোখ। জ্বালা করছে। ডানদিক একটু ফুলেছে মনে হয়। ঘাড়ে ব্যথা। অফিস কেটেছি, তা হলে "দ্য হোয়েল" দেখে আসি। এবার ক্যারামেল পপকর্ণ নেব - মিডিয়ম। কোকটা তবে লার্জই চাই, দু'ঘন্টা চুমু, না‌ না, চুমুকে চালাব। সেই কফি কিস্, মনে আছে? "কী আজব নাম!" সেটা বোধনয় আইনক্স রাখেনা এখন‌ আর। স্নান করি। একটু নিম বেগুন, পালং ঘন্ট, তারপর? চোখ টেনে আসে। দুপুরে আজকে তবে ঘুম চাই। সিনেমা দেখার কথা বললে যে? তা হয় তো বলেছি এখুনি; তবে, এরকম হাওয়া আজ। উৎসব, উৎসব। শুয়ে থাকি বিছানা জাপটে। আর সিনেমা দেখতে যাওয়া? তোমার টিনএজ ড্রিম? সাউথ সিটিতে সারাদিন ঘোরা? সেসব ইচ্ছে খসে যায়।
আমাকে খসিয়ে‌ তুমি পালিয়ে যাচ্ছ বারবার। তবে, তুমি ছিলেনা কখনও। কারা‌ চলে আসে তাহলে হঠাৎ এমন? কারা ঢুকে যায়, ইচ্ছেগাছ কুড়ে খায় সকাল-বিকেল? একদিন, প্রতিদিন, বিকল হয়ে আছি হাত-পা জড়িয়ে। মাঝে‌ মাঝে দুপুরের ঘুমে দেখি, সাধ্যাতীত ভালোবাসায় আমরা এখনও ময়দানে ঘুরি। বাগবাজারে সূর্য ডোবার আলো আমাদের এখনও শিশুর হাততালির মত লাগে। আর কখনও, ভুল‌ করে, মনে হয় - এসব এখনও করে, আরও ভুল করে গেছি। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনিবার্যভাবে ঢেকে দিচ্ছি সূর্যের অবাধ যাতায়ত। ভিটামিন ডি কমে গেলে ব্যথা বাড়ে উত্তোরত্তর।
কাট্!
ল্যাপটপ অন করি। লিখি- "হ্যালো মেটস্। পাওয়ার ইস ব্যাক। অ্যাম অ্যাভলেবল্ নাও।"
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬