Skip to main content

বইমেলা

 এই শহরে তর্ক করার মত মানুষ কমছে। যাঁরা আগে তর্ক করতে উৎসাহ দিয়েছেন নিরন্তর, তাঁরাও প্রশ্ন করলে বৃত্ত থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন আস্তে আস্তে। পারস্পরিক বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা কমে আসছে। বইমেলা গেলেও আর আগের মত লাগেনা। এর কারণ অনেকটা আমাদের মধ্যেই।টেকনোলজিসর্বস্ব একটা সময়ে আমাদের পড়ার orientation পালটে‌ যাচ্ছে ।‌ ধৈর্য‌্য নেই; সব কিছুই এখন তাৎক্ষণিককে‌ বোঝে।

বইমেলায় তাই ঠিক ঠিক সময়ে প্রকাশকরা আর বই বাজারে আনতে‌ পারছেন ‌না।‌ "কেউ কথা রাখেনি", আর রাখছেও না। এক মননশীল প্রকাশনীর স্টলে আমার পছন্দের দার্শনিকের যে নতুন বই এবার মেলায় বেরোনোর কথা ছিল, তার খোঁজ নিই।
"আরে‌ দাদা, দু'পাতা, চার পাতা করে লেখা দিচ্ছে।‌ এভাবে বই হয়?"
বোঝ!
"আর ঐ গল্পসংকলনটা?"
"না, ওটাও এখন আর বেরোবে না।"
প্রসঙ্গত বলি, এই দ্বিতীয় লেখক আর বেঁচে নেই।
লিটল‌‌ ম্যাগাজিন টেবিলেও এক অবস্থা। "বলতে পারছি না, কাল আসতে পারে‌। নতুন বই তো!"
এর পরেই আরেক স্টলে আমি ঢুকতেই দেখি, এক ভদ্রলোক অনেকগুলো বই‌ হাত‌ থেকে‌ নামিয়ে রেখে বেরিয়ে যাচ্ছেন। দোকানি ভদ্রলোক তাকে জিজ্ঞেস করেন, "এগুলো নেবেন‌ না?"
"না। আচ্ছা অমুক বইটা কোথায় পাব? আপনাদের নয় তো বোধহয়, তাই না?"
"বলতে পারছি না।"
আমি ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দোকানি ভদ্রলোক ক্যাশ কাউন্টারে তার সহকর্মীকে বলেছেন এবার - "এরা বই কেনার লোক? নকশা করে গেল‌ এতক্ষণ ধরে।"
এসব পেরিয়ে একটু আলাদা হয়ে দাঁড়াই। জারি বোবাযুদ্ধের টেবিলে যাই।‌ অপরিচিত জেনেও Lala Boba আমার সাথে‌ একদম নিজের মনে করে কথা বলেন মিনিট খানেক। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে যাই। Sajjad Hussain -র সাথে দেখা করি। আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রথম দেখাতেই।‌ আমরা কফি খাব শিগগির আগামী সপ্তাহে - একটা অশ্রদ্ধা আর বিশ্বাসভাঙার পারিপার্শ্বে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের কথা দিই।
তারপর মনে হয়, Anjan Dutt -র নতুন সিনেমা রিভলভার রহস্য বেরিয়েছে কাল। সেও তো‌ এই বিশ্বাসের কথা বলে। S9-এ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে জানলার ধারে বসে এক একটা বই উল্টেপাল্টে দেখি। ওদের শব্দের আশ্বাস‌‌ শীতের শেষ বিকেলের নরম রোদের মত আমার গালে এসে পড়ে। আদর, শুধু এটুকুই হল‌‌ সুখ... সুমনের গান বেজে ওঠে কোথাও। আর, "কবীরা" বইটায় হাত‌ রেখে মনে হয়- এখনও জান আছে, তাই গান আছে।

4 February, 2023

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সুসংবাদ, এসো

সুসংবাদ আর আসেনা  আর সত্যিই আসেনা আমার এই দিনানুদিনে। অতএব, আমি তো সত্যিই এই ঝাকানাকা অতীতবিলাসটুকু ভাঙিয়ে খাই‌। আর মেয়ে পটাতে গিয়ে বলি, মাত্র পনেরোতে,  মানে তাও তো পনেরো হল, সুনীল গাঙ্গুলী আমাকে একদিন পিছলে পড়ে স্কচ খাইয়ে, নাকি কৃত্তিবাসে কবিতা ছাপিয়ে দেবে বলেছিল। হেঁ, হেঁ... কেউ কথা রাখেনি। কেউ কি রাখে? তাও তো হাফে... হাফ হাতা, শালা,  হাঁটুর বয়সে... খুশি। খুশি, মেড়ো মাল  নতুন বাংলা লিখা শিখেছে হাঁটুর বয়সে,  এই তো ইদ্রিস ওর হাঁটুর বয়সে, ব্যথা, বিয়ে হবে ওদের।  প্রজাপত্য। আর লেখা ছাপা হবে আনন্দ...আনন্দ, দেশ, আমাদের দেজ... এসো, সীমাহীন সুসংবাদ, এসো সুসংবাদ, এসো! ১৮ এপ্রিল,‌ ২০২৬