Skip to main content

ভাঙন

 পাড়ায় বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। ঝুরঝুরে হয়ে যাওয়া ইঁট, সিমেন্টের দেওয়ালগুলোর ওপর এসে পড়ছে হাতুড়ির ঠকাঠক। তারপর দু'একবার আরও ঝুরো হয়ে যাওয়ার, প্রতিরোধে বুড়িয়ে যাওয়ার নিষ্ফল শুনানি। আর শেষে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে রাস্তায় এসে পড়ছে বালি আর সিমেন্ট, মানুষের ছোটবেলা, স্কুল, কলেজ থেকে একটু একটু করে ছোট ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার স্মৃতি। কুড়ুলে ছেনে উড়ে গেছে প্রবীণ আমগাছ। আমাদের চারপাশে এইভাবে এক একটা মুহূর্ত খুব সময়ের প্রয়োজনেই খুন হচ্ছে। প্রয়োজন। প্রয়োজন বড্ড প্রয়োজনীয় হতে থাকে নিজস্ব সময়ের থেকে।

আসলে, এক একটা বাড়িতো ভাঙা হয়না। তার সাথে মানুষগুলোকে ভেঙে দেওয়া হয়। বা মানুষেরাই চান - ভেঙে যাই। না হলে, টিকে থাকা যাবে? আমাদের টিকে থাকতে দেবে? বরং একটু না মচকে ভাঙা যাক। তাহলে বলা যাবে ফেসবুকে, এ বছর মরিশাস যাচ্ছি কিংবা নিদেনপক্ষে কল্পা-কিন্নর? সেদিন এক রিকশাচালককে মোবাইলে বলতে শুনলাম, কী রে শ্যামাদার সিঙ্গারা আনব? ... আলাপন? কী আনব ওখান থেকে? মোমো?... আরে শোন, আরে, আরে হাফ পেলেট এগ চাউ আনি। এক দাম... রাতে ওরা এলে দেখা যাবে। রাখ এখন; গাড়ি চালাচ্ছি।
পাড়ায় বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু, আসলে সময়টাই বেমালুম উড়ে যাচ্ছে। মালদায় গিয়েছিলাম‌ গতবছর পুজোয়। শুনলাম, বাঘাযতীনের থেকেও ফ্ল্যাটের দাম বেশী। রানাদার সাথে পলতায় হাঁটছি তারপর গত মাসে। নাহ্। এখনও মফস্বলের বাড়ি, সন্ধ্যেতে একটা এখলা সরু গলির কয়েকটা পায়ের আওয়াজের জন্যে অপেক্ষা করা, পাশে ছোট নালা, সাইকেলের নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত- এসব এখন আছে।
থাক ওরা। বেঁচে বর্তে থাক হাতুড়ি আর কোদালের খসখসে ভেঙেচুরে দেওয়া আওয়াজ বাঁচিয়ে। চারপাশে‌ মাঝে মাঝে এত আওয়াজ বেড়ে যায়!
আমরা একটা সকালে জেগে উঠি এই হাতুড়ির আওয়াজ আর মজুরদের অবোধ্য চিৎকার আর ভোজপুরী ডিজেবক্সে গানের উল্লাসে।
৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।