এসব পাগলামি হয়তো। তবে, বসন্ত এলেই মহালয়া শুনি বেশ গত কয়েক বছর। এ আমার অকালবোধন। আকাশ জুড়ে বেজে ওঠে সমস্ত তারায় তারায় তোমার নাম, যেমনটা ওঁর মনে হত। ভাস্কর চক্রবর্তীর স্যারের। "আমি দশকের কবি, উনি শতকের" - এরকম টুকরো অমোঘ উচ্চারণ।
আমরা দুর্গাপুজোয় কাছাকাছি আসি। রাত জেগে কোনদিন কারও সাথে কথা বলি নি। ওই সোফা, কুশন, চাদরের হলহলে কামার্ত কোনা - সব রাখা আছে। তোমার জন্য এই রাতটুকু সংরক্ষিত রাখব আশরীর ভেবেছি। আজ শিবরাত্রি হোক। আমরা একসাথে মহালয়া শুনব। বছরের এই সময়টা আমাদের মুখোমুখি কফি হাউস বা ওয়াইজ আউলে বসার তিথি। পঞ্জিকায় ওসব থাকে না। ছাড়ো।
কিন্তু আমি এই যে লিখতে বসেছি, তার কারণ আমি জানি যে তুমি জেগে আছ। এখনও সেসব প্রাচীনপন্থা তোমার গায়ের দুধেল স্বাদে কিংবা ধূপ বা অগুরুর আকস্মিক গন্ধে আমায় আদর করে। উপোস করেছ, না? ওসবের দরকার ছিল না, কারণ, আমি সপ্তমীতে রাগ দূর্গা বা শঙ্করা গুনগুন করলে আদিযোগী ভেল্লাগিরী পাহাড়ের সানুদেশ অস্বীকার করে কলকাতায় নেমে আসেন।
শোনো। ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছি। একদম। সত্যি বলছি রে!
আসলে এভাবে কত অকালবোধনে আলো নষ্ট হল। মাঝরাতে ম্যাঙ্গো চিজকেক সুফলে, ভোরে রোস্টেড বেকন পাস্তা ইন হোয়াইট সস্, দুপুরে একটু স্টিমড্ ভেজ আর শ্রিম্প উদন স্যুপ - এভাবেই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে ফেলে দিয়ে অদ্ভুত অর্গাজমে কেঁপে কেঁপে উঠছি এখনও। মনে হচ্ছে, কাল সকাল হলেই রঞ্জিতাকে ইমন শেখাতে হবে।
আমার ছাত্রীদের এটুকু শিখিয়ছি যে, শুধু মনটুকু আগলে রাখতে হয়।
তুমি শিখেছ কি আজও? শিখছ আজও?
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
Comments
Post a Comment