Skip to main content

জান আছে তাই...

 নব্বই পেরিয়ে বিভা সেনগুপ্ত‌ গাইছেন "কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি"। গলায় বাজছে রবীন্দ্রগানের স্বরক্ষেপণের নিপুণতা আর সুরের পুঙ্খানুপুঙ্খ যত্নের প্রমাণ। ইদানিং আমাদের কারো কারো ফেসবুক টাইমলাইনে ঘুরছে এই ভিডিও। আমরা মোটামুটি সবাই গান বাজনা করি, অল্পস্বল্প বুঝি। আর তাই আমাদের অন্যদের চেয়েও অবাক লাগছে। সম্ভব? এই বয়সেও সম্ভব?

অথচ আমি জানি, এঁর নাম আমরা তেমন কেউ আগে শুনিনি। গান শোনা তো অনেক দূরের কথা। কেউ কেউ হয়তো দূরদর্শনে বহু যুগ আগে, কিংবা হালে হলেও শুনে গিয়ে ভুলে থাকবেন। তবু সামাজিকতার খাতিরে অপাংক্তেয় না হতে চেয়ে বলবেন - হেঁ হেঁ; হ্যাঁ হ্যাঁ, শুনেছি তো, শুনেছি তো। অথচ নব্বই অবধি অখ্যাতনামা থেকে যাবেন বিভা সেনগুপ্তেরা।
সবাই বাঁচে না নব্বইয়ে। তবু কী আশ্চর্য মানসিক দার্ঢ্যে এতগুলো বছর ধরে এঁরা সকালে উঠবেন, হারমোনিয়াম মুছবেন, রেওয়াজে বসবেন। আর তারপর ঘর সামলাবেন, ধুলো ঝাড়া, রান্না করা, কাপড় কাচা।‌ দুপুরে ভাত, একটু ডাল, ভাজা, নিদেনপক্ষে মাছ। তারপরে ঝিমধরা কলমে একটু শব্দছক, আনন্দবাজার। ব্যাস। এরই মধ্যে মাঝে মাঝে সুরের মত নেমে আসবেন রবীন্দ্রনাথ - শান্তির পারে।
আমি ওই মনটুকুর কাছে এসে বসি। আর ভাবি, কতটা স্বাভাবিকতা আর সহজাতভাবে এতদিন ধরে জীবনের থেকে কিছু না চাইলে এভাবে নব্বইয়ে এসে গান করে যাওয়া যায়। আসক্তি নেই, কোন প্রয়োজন নেই। উচ্চাশা? ছোঃ! কোন বড় হয়ে ওঠার ইচ্ছেও নেই। শুধু নিখাদ‌ পাতিত জলের মত গান গাওয়ার ইচ্ছেটুকু পড়ে আছে।
এভাবে একটা জীবন বয়ে আনা যায়? এতদিন? এতটা দিন? কিচ্ছু না চেয়ে?
২৫ আগস্ট, ২০২৩

Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।