এই যে জীবন, তুমি সব উজার করে দিচ্ছ আমায়, এর জন্য তোমায় কী আর বলি? মাঝে মাঝে বিশ্বাস হারাই। সবার মতই। মনে হয় যা শিখলাম, ঠিকভাবে শেখা হল না। সেভাবে ভালবাসতে পারছি না কাউকে। কোনদিন পারিনি। লিখতে গেলে কলম চলে, কিন্তু লেখা চলে না। তবু লিখে যাচ্ছি, লিখতে পারিনা বলে। এক একটা ভাষা শিখছি, শিখতে পারছি না বলেই। কিংবা বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে অ্যাডভেঞ্চর খুঁজছি। পুরোনোতে ক্লান্ত হয়ে যাই অল্পেই। তাই অনেকে ভাবে, আমি মোটেই বিশ্বস্ত নই। সে কথা তো আমিও জানি। কিন্তু তুমি আমায় বিশ্বাস কর। সমস্ত ওলটপালট করে দাও, একান্তে, গোছাবে বলেই। হয়তো আমাকে গোছানো শেখাবে? আমাকে হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেবে যন্ত্রণার বর্ণপরিচয়, কারণ পৃথিবীর সমস্ত অক্ষরজ্ঞান আমার প্রাপ্য।
আমার কাছে তুমি আবশ্যিক সকালে এনে দাও। সে ফোন করুক যার কথা ভাবছি গত কয়েকদিন। নিদেনপক্ষে হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ। আর সে করেও তাই। আমাকে তুমি এনে দাও আলু-ভাতে ডিম সেদ্ধর পর ঘুমের দুপুর। স্বপ্নে আসুক সেই নির্দেশক, যার সাথে কাজ করব বলে গত দশ বছর ভেবে গিয়েছি। বিকেলে তার ফোন আসে। আমাকে এনে দাও আমার আরবি শিক্ষকের ভাষার প্রজ্ঞা। এইসব, যীশু, তোমাকেই বলি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। তারপর এরকম কোনদিন সন্ধ্যেবেলা হলে তিনি টেলিগ্রামে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। বলেন, আখি(ভাই) স্বর্ণদীপ, আমার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য আরবিতে একটা সেল্ফ-ইন্ট্রোডাকশন রেকর্ড করে দেবে? ও হ্যাঁ, আর তোমার গজলগুলো কিন্তু ভালো হচ্ছে। আমি বলি, ওয়া লাকিন সৈয়দীঈ(কিন্তু স্যার), আমার উচ্চারণের কী হবে?
আসলে তুমি আমার বিছানার একপাশে আছ। আমি তোমায় এখনও দেখতে পাই। মাঝে মাঝে অভিমান করি, আর ভাবি দেখব না। কিন্তু তুমি অবশ্যম্ভাবী। তুমি আমায় অশেষ করেছ প্রত্যেকবার। জীবন বাবুমশাই, তোমাকে আর কী আর বলি?
২৯ মে, ২০২৩
Comments
Post a Comment