ফ্যাতাড়ুরা উড়ছিল ফ্যাৎ ফ্যাৎ সাঁই সাঁই করে। আর কিছু ফোকলা ফক্কড় বাচ্চা তাই দেখে দিচ্ছিল পা-তালি।
হ্যাঁ, এদের প্রবাসে দৈবের বশে সেইসব বাবা-মার থেকে জন্ম যারা চল্লিশে চালশে পেরোনো, হনুমান চালিশা, মাদুলি তাবিজ করে শেষ অবধি একটা জড়ভরত এক ধরনের বাচ্চাদের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এদের হাত ও পায়ের দৈর্ঘ্য সমান। এরা শুধু সব্যসাচীই নয়, এদের দু হাত দু পা সমান চলে। এদের বাবা, মায়েদের কেরিয়ার গ্রাফ সদা কুল, সদা বুল মার্কেট, চমৎকার। আর সেই চমৎকারের সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে গাইনোকোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিশিয়ান, ডায়েটিশিয়ানদের চমৎকার সব নির্দেশের সৎকার।
বাচ্চারা পা-তালি দিচ্ছিল। আর বাচ্চার বাবারা খুলতে বসেছিল শ্যাম্পেনের বোতল। শ্যাম্পেন খোলার সাথে সাথেই আকাশ থেকে ফ্যাৎ ফ্যাৎ, সাঁই সাঁই শব্দটা বদলে গেল। টেবিলে ছিল শ্যাম্পেনের সাথে খাওয়ার জন্য স্যাটাস্যাট করে চটজলদি বানানো একটা কুমড়োর ঘ্যাঁট যার পোশাকি নাম পাম্পকিন গ্যালেৎ। হঠাৎ স্যাঁৎস্যাঁৎ করে টেবিলে রাখা গ্যালেৎ-এর ওপর ছলকে পড়ল শ্যাম্পেন আর আকাশের রং বদলে গেল। বাতাসের গন্ধ হয়ে উঠল স্যাঁতস্যাঁতে। বাচ্চারা পা-তালি থামিয়ে এক মুহূর্তে থমকে দাঁড়াল। আর বাবা-মা, তাদের বন্ধু-বান্ধব দেখতে পেল আকাশ থেকে নেমে আসছে বীভৎস দর্শন কিছু প্রাণী। না, প্রাণী নয়। সাক্ষাৎ মৃত্যু। তাদের সৎকার করতে। তাদের কেরিয়ারের সৎকার, ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের সৎকার, বসকে বা ক্লায়েন্টের ভিপি লেভেলের কাউকে bl*wj*b দিয়ে একটা সস্তায় bid পাইয়ে নেওয়ার সৎকার। জন্তুগুলো নেমে আসছে আর আকাশ থেকে স্যাঁৎস্যাঁৎ শব্দে নেমে আসছে অ্যাসিড বৃষ্টি।
বাচ্চারা এবার কান-ফাটানো আওয়াজ করে পা-তালি দিতে শুরু করে। বাবা মায়েরা ও তাদের বন্ধুরা অবাক হয়ে দেখে এই জন্তুগুলো তাদের বাচ্চাদের মতই দেখতে কিন্তু একটু বড়। বাচ্চাগুলো আর বছর কুড়ি পরে এরকমই দেখতে হয়ে যাবে। হাত সমান, পা সমান। বয়স পঁচিশ পার।
এখন উল্টে পড়া শ্যাম্পেনের গন্ধটা হিসির মতো মনে হচ্ছে। হিসিটা ঐ জন্তুদের নাকি, তাদের বাচ্চাদের, তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। একদিন, প্রতিদিন, সমস্ত দিন। তাদের সমস্ত চমৎকারের ওপর স্যাঁৎস্যাঁৎ করে সৎকার।
Comments
Post a Comment