এই সমস্ত দিনে বল, তোমরা বাড়ি আছ? আজ একটু সন্ধ্যেবেলা মিষ্টি নিয়ে যাই? সকাল থেকে বেয়াক্কেলে গরম পড়েছে। বাইরে বেরোওনি। ভালোই করেছ। আমি একটু ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলাম বটে, তবে দু একটা কোলা, তারপর বোম্বে গোলা, আর তারপর uber নিয়ে বাড়ি ফিরতে হল। ভীড়ে আর গরমে দম আটকে আসছে।
শরীর কেমন আছে? না জিজ্ঞেস করলেই ভালো হত বোধহয়। কালকে কাকুকে বেলভিউতে কখন নিয়ে যাচ্ছ ডায়ালিসিসের জন্য? আর এই যে, তোমাকে বলছি, অষ্টমীর সন্ধিপুজো পেরিয়ে এলেই মটনটা খেয়ো না বাবা। তাহলে পরের বছর তোমাকেও বোধ হয়...
অবশ্য আশি পেরিয়ে এ প্রজন্মে তোমরা ভালই আছ। সেভাবে বলতে গেলে, সুস্থই আছ। এদিকে দেখ?
আমরা
অভীকের সাথে কথা হয়েছে আমার। গত কয়েক বছর হয় নি, বোধহয় আগামী বছরও ওর হবে না। তবে ক্রিসমাসে আসতে পারবে মনে হয়, বুঝলে? তোমরা দু'জন সেই কলেজ লাইফে একবার বন্ধুদের সাথে শিমুলতলা গিয়েছিলে না? নাকি মধুপুর? এবার বরং অভীক এলে একবার ঘুরে এসো।
ছেলের সাথে ছোটবেলা।
লালমোহন গাঙ্গুলীর উপন্যাসের মতো মনে হচ্ছে না নামটা? অবশ্য তিনি নস্টালজিয়া নিয়ে ভেবেছেন বলে মনে হয় না।
আমার অক্সিজেন চলছে।
এই বছরটা কোনরকমে টিকে যাব আমি। শতদ্রুর মতো। গত বছর কত হাঙ্গামা, ওফ্! নবমীর রাত। এমন জায়গায় একটা বাড়ি কিনেছ তোমরা! সামান্য রাসবিহারী পেরোতেই তো মিনিট ৪০ থেকে গেল। আর সামান্য কম লাগলে বোধহয় ও এবছর পুজোটায় টিকে যেত। কী হাঙ্গামা! বাবারে বাবা!
তবে আমি হরিদ্বার যাব। শতদ্রুকে একটা ওপারে চিঠি পাঠাব পরের বছর। আমার ধারণা, এবছরটা আর পরের বছরটাও কোনোরকমে টিকে যাব আমি। অক্সিজেন নিতে হচ্ছে। তবে heart, মানে হৃদয়টা এখনও ছারখার হয়ে যায়নি।
ওসব কথা ছাড়ো। বুকের ব্যথাটা একটু কম আছে। একটু মিষ্টি নিয়ে যাই? মিষ্টির দোকানে আজ বলছিল, ওদেরও বিক্রিবাট্টা এবছর ভালো হচ্ছে না। রাতে পোলাও খাবে? সাথে ছানার কোফতা, বা আলুর দম?
নিয়ে আসছি। কেমন?
Comments
Post a Comment