মনে হয়, আমায় সুস্থ রাখবে বলেই এসমস্ত শুরু করেছিলে তুমি। ২১ দিনের চ্যালেঞ্জ – বই, লেখা, সকালে একটু যোগাসন। তোমার নিজেরও সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। নিজে ভেঙেচুরে যাচ্ছিলে। আমরা সবাই যাই। অথচ, পৃথিবী দেখো- শুধু সম্পূর্ণকে স্বীকার করে। সবকিছু অপাপবিদ্ধ চাই। নিখাদ, নিটোল চাই। তোমার ভাঙাচোরা আদল নিয়ে তুমি তোমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকর্মীটির সহমর্মিতার কাছে দাঁড়াও। বন্ধুর কাছে, এমনকি মায়ের কাছে দাঁড়াও। একদিন, দু’দিন, তিনদিন। বল, ভেঙে যাচ্ছ তুমি। ভেঙে যাচ্ছি, শোনো!
নির্দ্বিধায়, তোমায় অসহ্য লাগবে।
না। শুধু ওদের নয়। তোমার নিজেকেও নিজের অসহ্য লাগবে। মনে হবে, সবই তো চলছিল ভালোয় ভালোয়। তাহলে, হঠাৎ ভাঙন কেন? এত আত্মকরুণা কেন? ভিড়ের মধ্যে এত অভিনয় কেন অবশ্যম্ভাবী?
সেসময়, কে তোমায় তুলে আনে স্বচ্ছ সরবরে? কে এনে দেয় পার্ক স্ট্রিটের বাঁশি আর বো ব্যারাকসের ক্রিসমাস কেক?
তোমার মূল্যবোধ – যাকে, যাকিছুকে ছোটবেলা থেকে তুমি কথা দিয়েছ। সেই আশরীর জাগানো গান, দু'কলম, ভরসা জাগানো কিছু বন্ধুত্বের দিনলিপি - যা লিখতে লিখতে তুমি আচমকা ঘুমিয়ে পড়েছ। আর, তোমার সুস্থতার আলো একদিন সকালে আমার বিছানায় এসে পড়ে। আমারও মনে পড়ে যায়, তোমার জন্য ডায়েরী লিখতাম। আলিয়ন্স যেতাম। শীতের ময়দানে কমলালেবু, রবার্ট ব্রাউনিং আর ফার্নান্দো পেসোয়া পড়ে শোনাতাম তোমায়। সেসব মরচে ধরা অমোঘ উচ্চারণ এখন স্থাবর মনে হয়? এত দূরে দূরে চলে গেছি তবে?
তোমার সুস্থতার আলো আমায় অজান্তে বলে, তোমাকে আবার লেখা যাক। আর লিখতে লিখতে আমাদের স্টেশন পেরিয়ে যায়। পরের স্টেশন পেরিয়ে যায়। ট্রেন ঢোকে গন্তব্যে – বলে, দয়া করে গাড়ীর কামরা খালি করে দিন। আর কত খালি হব?
তোমায় কথা দিয়েছিলাম গত শীতে। টালিগঞ্জে মোমো খাব। আর বাঁশদ্রোণীতে অর্গানিক ফার্মের একটা দোকানে তোমায় নিয়ে যাব। এবার হবে।
শীত পেরোক। সমস্ত সবুজ মনে হবে। অনেক মানিয়ে গুছিয়ে নিলাম। পৃথিবীকে আর ততটা উজবুক মনে হয় না। তোমার সুস্থতায় আমায় ভরিয়ে তুলেছ তুমি। এবার একটা কিছু হবে। দেখে নিও।
হবে।
হবেই।
Comments
Post a Comment