দুপুর শেষ হলেই রোদ পাতলা হয়ে তির্যক পড়ে খাওয়ার টেবিলের পাশের জানলায়। আমাদের যাদবপুরের মাঠে চুমু খাওয়া ঠোঁট নিকোটিনে তীব্র, তীব্রতর হয়। মনে হয়, একটা সিগারেট কাউন্টারে আমরা ধার নিয়েছিলাম যখন আমাদের এমন কোন জান্তব সম্পর্ক হয়নি। সেটার শোধ দেওয়ার সময় এসেছে। গন্ধে। পেঁয়াজ, না-খাওয়া মাছের তেল- আঁশ, বা কালোজিরের পরে থাকা মৃদু ছোঁয়াচ যখন গোল্ড ফ্লেক লাইটের ফিকে হয়ে যাওয়া স্বাদে বিলুপ্ত হয়ে যায়, সেইরকম অ-রোম্যান্টিক, অস্বস্তিকর গন্ধে। আমাকে থুবড়ে ফেলে লম্বা ফ্লাইওভার, রাত একটায় সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার আলো। আমাকে হড়কে দেয় বাড়ির পাঁচিলের পাশে হঠাত্ চুমুর ফিসফিস। আমাকে আদ্যোপান্ত বাপান্ত করে ছাড়ে যেসব সূর্যাস্ত এখনও অতীত নয় Annie Ernaux-র সেই বদলে যাওয়া মানুষীর গল্প যে ৫৪ বছরে প্রেমে পড়ে ১৮ বছরের কারো ; যার মনে পড়ে যায় যে সে যখন অষ্টাদশী ছিল তার জীবনেও এসেছিল এক ৫৪ বছরের পুরুষ। এমন বেমক্কা, বেয়াক্কেলে রোদ তির্যক হয়ে এসেছে এখন খাওয়ার টেবিলে।
“মেঘ বলেছে ‘যাব, যাব।‘ হয়তো রাতও চলে যাবে। কিন্তু দুপুরের এই অবাধ্য, অলৌকিক রোদ? তোমায় “সোনামন”-এর কাছে ফিরিয়ে দেবে না কি? দেবে না। নির্ঘাত গুরুচণ্ডালী কিছু একটা না হয়ে গেলে দেবে না। আমাদের বছর পনেরো, কুড়ি হারিয়ে যাওয়াটাই একটা নিতান্ত দুর্বিপাক। জঞ্জাল। মায়ার নয়। দায়ভারের। যে দায়ভার আমাদের মুহুর্মুহু মনে করিয়ে দেয় – সোনামনের বাইরে একটা জগত আছে। এইসব প্রেম, আসলে প্রত্নপ্রেম – relics of the past । আর তার আলো এখন নিবু নিবু। পঁয়ত্রিশে কিছুটা ঝাপসা। কিছুটা হাতে লেগে থাকা কলেজ স্ট্রিটের জীশানের বিরিয়ানির গন্ধের মত, যেখানে আমাদের আর কোনোদিন দেখা হবে না।
কিন্তু কলেজ স্ট্রিট গেলেই একবার এখনও ৬টাকার ট্রামে চড়তে হবে, কারণ গুঞ্জনের নুডল্ স্যুপ বা কালিকার ফিস ফ্রাই খেয়ে ধ্যানবিন্দুতে বই দেখে এখনও একটা অযাচিত ritual। যাদবপুরের সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে নতুন কোনো মেয়েকে চুমু খাওয়া এখনও আবশ্যিক। কারণ, ‘১৮ বছরের রোদের রিনরিনে কুমারীর ব্যথা ডাকের সোহাগের ডাক’ শুনতে গেলে কানখুস্কি নয়, একটু কানের চর্চার প্রয়োজন। শরীরকে দিতে হয় নরম সবুজের ক্লোরোফিল, বা টাইপোতে ক্লোরো-দিল।
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। মেঘ ধুয়ে কি নামবে আমাদের লেখার টেবিলে কোনোদিন কুমারীর ঘ্রাণ দিনমান?
Comments
Post a Comment