Skip to main content

"এভাবেই হোক না হাঁটা"

আজকাল বৃষ্টি হলেই পাটুলির গলির ভেতর ছাতিম ফুলের গন্ধ পাই। প্রত্যেক চলাচলের পথের একটা নিজস্ব গন্ধ থাকে। দিল্লির পরান্ঠে ওয়ালে গলির পোড়া তেলের গন্ধ, লক্ষ্ণৌয়ে মোহন মার্কেটে তুন্ডে কাবাবির গন্ধ, বেনারসের গলিতে গোময়ের সোঁদা আরদ্ধ গন্ধ - এসব তো পরিচিত, জানা। কিন্তু সেই সমস্ত বিকেলের কথা মনে পড়ে, যখন বাগবাজার ঘাটে, ময়দানে অথবা আলিয়ঁস ফ্রঁসের সামনে দাঁড়ালে একটা নির্দিষ্ট গন্ধ পেতাম। 

আমার অনেক ঘুরতে যাওয়া আসলে শুধু ছবি নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কিছু গন্ধ আর শব্দের স্মৃতি।


পাড়াতে সাইবার কাফে মাত্র একটিতে এসে ঠেকেছে। আজকাল ও পথ মাড়াই না ; মন খারাপ হয়। সেই ডেস্কটপগুলো দেখতে পাওয়া যায়। ওগুলো আর চলে না ; তবে রাখা আছে। তেমনই মন খারাপ হয়, হাইল্যান্ড পার্ক মেট্রোপলিস মলে এখনও সিনেমা দেখতে গেলে। ডলার স্টোর ছিল বোধহয়। আমেরিকার সেরা কোক কিংবা সেরা ক্যান্ডিটা কলকাতায় ওখানেই পাওয়া যেত। তবে আমার এ কথা স্মৃতিমেদুরতার আবেগে জবজবে ন্যাকামি নয়। আমার মনে হয়, সবই তো যাবে। যাওয়ারই কথা। কিন্তু, এভাবে ভেঙেচুরে দিয়ে কেন চলে যাবে? দোকান বন্ধ পড়ে আছে। আইনক্সের স্ক্রিন ওয়ান দিয়ে বেরোলেই দেখা যাবে ফলস সিলিং ভেঙ্গে এসির জল পড়ছে। বালতি রেখেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এস্কেলেটরের গায়ের রুপোলী কোটিং চটে গেছে।


তার থেকে পুরনো গেল, নতুন এল।‌ কিংবা, পাশাপাশি সহাবস্থানে বেঁধে বেঁধে থাকা গেল। উত্তর কলকাতার বাড়িগুলো একটু রেনোভেট করা গেল। সেন্ট্রাল কলকাতায়‌‌ না হয় তৈরি হল একটা ৪২ তলা হাইরাইজ। প্রবীণদের এভাবে শিরদাঁড়া না গুঁড়িয়ে দিয়ে, দুটোর একটা মেনে নিলে হয় না? 


দুর্গাপুজো আসছে। পাড়ায় বাঁশ বাঁধা হচ্ছে। তবে এভাবে কদিন হবে, সে কথা ভাবি। যা কিছু যায় তার কিছু কিছু থেকে যায়। যেমন এটুকু এখনও আছে। আমাদের‌ ধৈর্য্যচ্যুতি হচ্ছে অল্পতেই। ভিন্নরুচি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা কমছে। মধ্যমেধার অসভ্য উৎসব বেড়ে চলছে প্রতিনিয়ত। মনে হচ্ছে এটাই স্বাভাবিকতা। আমাদের বিশ্বাস করানো হচ্ছে যে এ.আই ভবিতব্য। নতুন মোড়কে শেখানো হচ্ছে তাই, যেটুকু আমরা জানি বা শিখতে চাই। 


আর, এর মধ্যেও বিকেলে বন্ধুর সাথে দেখা হয়। জিজ্ঞেস করে, কিরে ছুটি আছে না কাল? চল্। কাল সকাল সকাল তোর বাড়িতে সেই স্কুলের দিনের মতো আসছি। রান্না করবি? কী করবি বলিস। আমি বাজার করে আনব।


১ অক্টোবর,‌২০২৩


Comments

Popular posts from this blog

অনাদায়

  ১। যে আঁচেতে পুড়ে যাওয়া একটু একটু করে, সে আগুন তোমার তো নয় জানি। তবে? বসুধা কুটুমবাড়ি, অতএব পুড়ে যেতে হবে। কোথায় জ্বলছে পেট, কোথায় চাকরি, বাড়ি, যেদিকে তাকাই সবাই ছুট্টে আসে, জন্মপঞ্জি নিয়ে। মা বাবার পরিচয় চায়। ওরা বলে, দেখছ না? একই তো পেটের ফল। আর বল্‌, পাপ নিবি কি না? এই পাপ আমাদের একা করে কোন খাদে নিয়ে যাবে, এখনও জানি না।       ২। এমন করলে কেন? বুঝেছিলে মৃত্যু আসীন? এ প্রশ্নে একটি রক্তবাণ বিদ্ধ করে, সমস্ত দিন, সমস্ত রাত নির্ঘুম। দিনে রাতে পেয়াদার ডাক, আড়ং ধোলাই আসে আকাশকুসুমে, থাক থাক, আর মেরো না খোদাতালা, প্রভুর দাসেরে। বল সুবিনীত হবে? হব, তবে তোমার জন্যে এই টক্সিক উপোস-কানুন নেশা জানিনা কিচ্ছুটি, শেষ হবে কবে।     ৩। নিজের দূরাত্মীয়, সেই হল এখন প্রথমা। ভেবেছিলে সেটাই দায়িত্ববোধ। একবার হাত পাতলে সেই হাত ফিরে ফেরে, সেটা জানতে না বুঝি? বলেছিল তোমার আত্মজ। আসল আত্মীয় কে? অন্য কেউ? দুরাত্মা? জারজ?     ৪। এটুকু কিছুই নয়। ঢের বাকি আছে। সামাজিক অপমান , পুলিশ , আদালত , পাড়াছাড়া। র...

পাড়া ক্রিকেট

  নিয়ে আয় খেলোয়াড়ি বল, উড়ুক তুফানে উইকেট‌; আগেভাগে পিচটিচ ঠিক কর তোরা – আমার উদ্যানে। বাড়ির সামনে চেঁচা উত্তাল - "ভাই, ভাই ওটা পায়ে‌ লেগেছিল", ভেঙে ফ্যাল আমাদের নিশ্চুপ পাড়ার বিকেলঘুম, নিজের দিকেতে শাসানির চারটে আঙুল, আর বিরুদ্ধতার তর্জনী। আমাদের শীতকাল, বয়স বিরুদ্ধতা জুড়িয়ে উঠুক, জুড়িয়ে উঠুক সব বন্ধুতা বিচ্ছেদ, চাকরির অপলাপ এইচ-আর সালিশী সভা; আর জুড়িয়ে তুবড়ে দে, দে তো‌ দেখি, হিংসুটে দৈত্যের বাগানেতে অপ্রতিম কাঁটাগাছ, আর ভেতরেতে নুয়ে পড়া করুণ জবা। মধ্যবয়সে যারা বুড়ো ভাম, ভীমরতি প্রাপ্তির সামান্য দূরে – এটুকু মানতে পারি, আমাদের বাপ, মা, কাকারাই পাড়ায় পাড়ায় আদরে, বেনামে, কালো টাকা আর সবুজ উদ্যানে, ফেলেছে সিন্ডিকেট, নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাট, ফণীমনসার কাঁটা বেড়ার স্তবক। এখন বিকেল হল। আমার পাড়াকে তোরা টেনে আন উদ্যানে। আমাদের আওয়াজের ভদ্রতা ভয়টুকু ব্যাটেতে, বলেতে নাচা- "আউট, আউট"। শেখা ঢের বাকি আছে নীতি বা সবক। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগানবিলাস

  তোমার সমস্ত উত্তরের সামনে নিশ্চুপ হয়ে বসি। এই দেখেছ বাগানে নিম তুলসি এই দেখো না মৌটুসী মেনে নেয় কেমন ফুলকপির ডাঁটে গড়ে ওঠে নিস্তব্ধ জবা। তোমার খোলা বুকের ফোঁটার দিকে তাকিয়ে থাকি আর মনে হয় এবছর শেয়ারবাজারে সারের ফলন হবে ভালো।