১
রাত দেখা যাচ্ছে না।
ভোর দেখা যাচ্ছে না।
মনে হচ্ছে অসহ্য অধিকারীবোধে অন্ধকার
আলোকে আলোকচিত্র বলে চালিয়ে দিতে পারে।
মনে হচ্ছে, সবই অন্তর্গত –
আনন্দলোকের পেজ ফোর বোধের পরিমিতধরণ।
ভোর, আলো, আগুন, কাঠকয়লা আর
জিভ-উৎসুক বউয়ের ডালের স্বাদ
রাত –
গভীর, গভীরতর ঘুম, আর অযথা
কলিংবেলের আওয়াজে জেগে ওঠা,
এসবই তোমরা বলবে typo বা,
মুদ্রণপ্রমাদ?
২
দৃক্-সিদ্ধান্ত মতে, এখনও শুক্লপক্ষের চাঁদ
থেকে যাবে মিনিটখানেক।
সূর্য-সিদ্ধান্তবাদীরা বলছেন –
এখন রাত কত?
ওদের বলতে বল।
ওরা বেশি বোঝে।
এভাবেই মেরুকৃত হয়ে যাব,
আমরা,
যাদের কিনা জীবনের মেরুতে মেরুতে
দ্বিখণ্ডিত সহাবস্থান নিয়ে কথা হয়েছিল।
এভাবেই মেরুকৃত হয়ে যাব সমাজমাধ্যমে
অপ্রাপণীয় মিথ্যের খোঁজে।
৩
পাঁউগুঁড়ো ছড়িয়ে রেখেছ
তাই, সম্ভব অলীক অলীক।
এটুকু মুহূর্ত রাত –
শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিং,
সোনু, শানু, রফি, সব
প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে রাতে শুনে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাসে
কতটা তোমার আশরীর দিনলিপি
চোখের না-ঘুমে অনাহূত কাজল কাজল ছাপ,
জিভেতে শূয়োর খাওয়া অপরিপক্ব স্বাদ,
দাঁতের হলদে ভাব,
বিয়ার-গন্ধ উঠে আসে?
৪
দীর্ঘ দীর্ঘ রাত
নাতিশীতোষ্ণ ঘুম, আর
মধ্যবয়সে আঁচলছায়া –
এসব নিয়েই আমাদের প্রজন্ম কেটে গেল।
আর তাই
বেজে ওঠে আশরীর ডিসকর্ড ইলেকট্রিক গীটার।
মনে হয় গান না-হওয়াই ঠিক গান :
এক একটা স্টেটমেন্ট– রূপম, লিঙ্কিন, এসি ডিসি
আলফাল
শব্দদৈত্যরাই
আমাদের সাষ্টাঙ্গ দেবতা।
গড় করি বট্-ঠাকুর, শোনো বলছি
জনান্তিকে, একান্তে এ কথা
ঐদিন কেন একটা অটোগ্রাফ দিতে
পূর্বপুরুষটুকুর পরিচয় উড়ে গেল, বাল?
৫
ফোন আসুক অভিনেত্রীর।
ফোন আসুক আমার প্রাক্তন, বা,
পুরোনো ক্রাশের।
ফোন আসুক বসের থেকে,
যে কিনা লাথি মেরে একদিন
বলেছিল – দুপুর, দুপুর, এই দুপুর আছেই শুধু ;
খেয়ে নাও ক্যান্টিনে বিরিয়ানি,
ডবল ডিম চিকেন অমলেট।
কাল থেকে রুটি আর তড়কা জুটে গেলে জেনে নিও
অফিশিয়াল আইডির অ্যাক্সেস ফিরে পেয়ে গেছ।
এই ভেবে দুপুর গড়িয়ে যায়,
সন্ধ্যেয় স্প্যাম কল বসে বসে দেখি, আর,
সন্ধ্যে গড়িয়ে গেলে ভাবি,
এবার রান্না করি খিচুড়ি, পাঁপড়ভাজা।
ফোন নয়, কলিংবেল বাজে –
বড়মা এবার দাদা।
২০০ নয়, ৩০০ নয়,
ব্যানার্জি নাইট তো হবে এবার।
স্বচ্ছলতা নিয়ে ঐ বটুয়া চলবে না তো!
চাঁদা, চাঁদা,
ক্যাশ আনুন:
চাঁদা, চাঁদা, চাঁদা, চাঁদা,
চাঁদা।
৬
প্রেম, মোহ, পোস্টম্যান –
এইসব শব্দবন্ধ নিয়ে আমাদের ডাকহরকরা
ডিমভাজা রুটি খেয়ে অনেক পেরিয়ে গেছে
রানিং দাসানুদাস,
পর্ণমোচী আর আবহাওয়া এফোঁড়-ওফোঁড় করা
হেমন্তের বন।
এটুকুতে জিভ কাটি।
আর শুধু মনে হয় তোমার আদিবাসী
হেমব্রম স্বচ্ছ দাঁতের মায়া,
শাল দিয়ে মুরগির ভাপা আর
বেহুলার বিষের মহুয়া।
এসব ব্যবসাদারী ছেড়ে এস,
রাই আমাদের।
দেখ কীভাবে আযোজন বৃন্দাবন আয়োজন
তোমার, তোমার লগে। জেনে নাও,
সৃষ্টির আজানু প্রলম্বিত যোনিপথ শরৎকালের নয়,
হেমন্তের অরণ্যে আদিম।
কলকাতা ইডেনে একদিন এরকমই অ্যাডাম আর ইভ
বলেছিল আদিম রিপুর স্বাদ,
ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, কালাজ্বরে
কতই না সুকুমার গেল।
আসলে স্ব-অর্থেই
"আবোল-তাবোল শিশু দেখিনি আমরা
আমরা অরণ্যের চেয়েও আরো পুরোনো অরণ্যের দিকে চলেছি ভেসে।"
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
Comments
Post a Comment