বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে যেটুকু ব্যাবধান, অষ্টমী আর নবমীর সন্ধিপুজোর মধ্যেও তাই। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বেশ খানিকটা যেন বদলে গেল। তোমাকে এতদিন নিজের জানতাম, বন্ধু বলে ভাবতাম। এখন ঘনীভূত হচ্ছে সন্দেহ। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছে, এতদিন তুমি যা ছিলে আমার কাছে, সেই ইতিহাসটা ভুল। তোমার একটা কথা, একটা আচরণ তোমার সমস্ত অতীতকে আমার কাছে ঘেঁটে দিয়েছে। পুজো নিয়ে আমাদের যে পাগলামিটা এই অষ্টমী অবধি চলছিল ছিল তার আলোটা এখন একটু নিষ্প্রভ। পুজো-পুজো ভাবটা তুঙ্গে ছিল; এবার হঠাৎ ফিকে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আর তো মাত্র একটা দিন, বা মেরে কেটে দেড়।
সেসব না হয় একটু পরে হবে। আপাতত ভোর ভোর প্রস্তুতি। কারণ, অঞ্জলির সময় এবার অনেকটাই সকালে। স্নান, পাঞ্জাবি বা শাড়ি পড়া, মেক-আপ, এসব অনেক কিছু বাকি আছে। তারপর কোনোরকমে একটা পুজোর ছাপ কপালে লাগিয়ে, বাড়িতে এসে কবজি ডুবিয়ে অষ্টমীর সকালের খাওয়া। পুজো মণ্ডপ বাড়ির কাছে হলে আবার মণ্ডপে খানিক গল্প, আড্ডা, চোখে চোখের মত আরো খানিক নিভৃত বা প্রকাশ্য উদযাপন। দুপুরে লুচি ভোগ। তবে আমার প্রিয় পাড়ায় খিচুড়ি বা পোলাও, সাথে বেগুন ভাজা, একটু ঝুরি আলুভাজা, লাবড়া, সম্ভব হলে একটু নারকেলের কুচি দিয়ে আলুর দম, খেজুর-আমসত্ত্বের চাটনি আর পাঁপড়। ভিড় ভালো লাগছে না? এবছর সুইগি তার একটা উপায় বার করেছে। আপনার পছন্দের মণ্ডপ থেকে আপনি আনাতে পারেন অমৃতভোগ যাতে একটা মিনি ভার্সন পেয়ে যাবেন। সাথে উপরি পাওনা হিসেবে থাকছে মা দুর্গার একটা মুখ, আর সিঁদুর। আমি এসবের পরে ক্ষীর দই খেয়েছিলাম। বিকেলে ছিল নির্ভেজাল আড্ডা। রাতে তন্দুরি রুটি আর চাপ।
এত ঘোরা আর খাওয়ার পর এখান ক্লান্ত লাগে। তাতে ঘুমটা হয় বড় আরামের। মনে হয়, আশ্চর্য আমাদের কলকাতা। এত মৃত্যু, বইয়ের স্টল নিয়ে এত গোলমাল, অথচ তারপরেও এত হই হই। "ছিল, নেই" – এর শব্দের পরে একটা বৃত্ত তৈরি হয়; আবার একটা হওয়া প্রবলভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে – এটাই অষ্টমী। পাড়ায় পাড়ায় গান, ক্যুইজ কন্টেস্ট, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, এসব এখনও অকিঞ্চিৎকর হয়েও বেঁচে আছে। তাই আমাদের আবার একবার সন্ধি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, এখনও আছে।
আমরা এই সম্ভাবনার আলোর দিকে নবমী সকালে তাকিয়ে থাকি।
২০ অক্টোবর, ২০২৬
Comments
Post a Comment