Skip to main content

Posts

তোমায় 'ফেলুদা' দিয়েছিলাম

  ভালোবাসা, - এইটুকু সমস্ত উপচিয়ে সন্ধ্যা, শশী, বন্ধু হয়ে যায়। নিজস্ব দুপুরবেলা, ঘুমন্ত নরম আভা, সূর্যের পর্দা ছুঁয়ে দীর্ঘসূত্রী আলো মনে পড়ে। ওসব কাকাবাবু, চাঁদের পাহাড় ঘেরা, রহস্যে খুনের লাল, ব্লকবাস্টার - সব বেকার উপমা। এখানে চারুলতার মত ঘড়িটা সাত কি আট মিনিট ধরে স্থবির বা স্থাণু হয়ে আছে। কোন কিছু ভুল‌‌ নয় - ব্যক্তিস্বাছন্দ্য শুধু একুশের অলীক প্রেরণা। এত দূরাগত হয়ে যেয় না, যেন! এখনও বিরিয়ানী,‌ লঙ্কা চিবিয়ে রোববার ভাতঘুমে, একটু দেখলে কখনও বা, তাড়িয়ে তাড়িয়ে ওঠে আমাদের ফেলুদার সবুজ গাড়িতে ওঠা মধ্যকলকাতার সমস্ত ওলটপালট প্রেম, নিউ মার্কেট, প্যারাডাইস, গড়পার- অবাধ্য চাহিদা। 26 February, 2023

যা কিছু যায়

  না থাকলে‌ টের পাওয়া যায়। পাড়ার পুরোনো বুথ, ভাতের হোটেল; Zomato,Swiggy আর কী কী যেন, গোগ্রাসে গেলে। "আমি চলে গেলে‌, বুঝবি তখন" - ও‌ বলত, মা-ও। কাগজে ফিচার লিখে আঙুলের রাগটুকু উগরিয়ে দিতে, ইন্ডাকশন গ্লাস-টপ আর গরম বোতাম, পাশ কাটা বেপরোয়া অডি‌ ভেবে ঠুকে দিলে। এখন সকাল‌ প্রায় হয় হয়। রান্না হবেনা। তুমি! এসব প্রবোধ ভেঙে তবু লিখো, মূল্যবোধ মোটে নেই। গোল্লায় গেছে সব কর্পোরেটেতে, আর গুজু সন্ত্রাসে। ওহ্ আর তুমি! এসব প্রবোধ ভেঙে তবু শুধু ফিরে ফিরে যেও, আয়ুর্বেদের প্রসাধন আর, বৈদিক গ্রামে।‌ পুরোনো দিনের অভ্যাসে, অলৌকিক খোঁজে যখন থাকে না কিছু, যে বোঝার সেই শুধু বোঝে। ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

মসিজীবী

  এ সমস্ত আবহমান - অর্জিত ফসল কিছুটা। ধুলোর রোদেরা ওড়ে এখনও দুপুরবেলা, আলো ধারাবাহিকের পর ধুয়ে নিই কলম, পাতাটি অসহ্য মনে হয় আমাদের দেউলিয়া জীবন-জীবিকা। বইও তো বিক্রি খোঁজে। ছাপাখানা, বিপণনকারী দারিদ্র্য মিশুকে নয়, দর্শনে বুরিদানী গাধা অকৌতূহলী হয় - পেশা না লেখার দিকে যাবে? অথচ বিকল্প খোঁজে সবাই রোদের কথা বলে। ও.টি.টি ধরেছি আর সিরিজে লিখছি, টাকা আসে। সিরিজ লেখার পরে কী-বোর্ডে, স্যানিটাইজারে লেগে থাকে শুদ্ধির গ্লানি, মিশকালো। বইমেলা সাক্ষরে আরও তো বিক্রি করা বাকি, ধুলোর রোদেরা ওড়ে এখনও দুপুরবেলা, আলো। ৪ মার্চ, ২০২২

আজন্ম

  পরিপক্ব নয় - এমন‌ একটি ফলের‌ নিখাদ ত্বক ছিঁড়ে নিতে গিয়ে নখেতে পাপ‌ লেগে যায়। এখন এই না-পাক হাতে আজন্মা ব্যাধিগ্রস্থ হয়েও, নিপাট ভদ্রতায় আমাকে মাংস ছিঁড়ে খেতে হবে নিজের বিয়ের রাতে, হানিমুনে ব-দ্বীপে, মোহনায় ৭ মার্চ, ২০২৩

প্রার্থনা

  লিখছি। এ আমার নামাজের কাল। আমাকে ছেড়ে যাও, দিনানুগ রোদের চাহিদা আর আদেখলাপনা। আমাকে ছেড়ে যাও, গত রাত এক্সেল শীট আর ক্যাশের হিসেব। আমাকে মুক্তি দাও - অসহন অভিনয়, সাজঘর, বহুরূপী চরিত্র সাজানো, আর শম্ভু মিত্র আর বিজনদাদের ভারে অসফল ভুরুর সুষমা। এটুকু আমার ভার, কলমেতে নিবিড় রেখেছি। পরের বাক্যটুকু এঁকে রাখি তাই, দ্বিধাপ্রসূ, আঁটো, জড়সড়। এখন তোমরা থামো। আমাকে তো ওদেরকে ছুঁতেটুকু দাও? চুপ করো। প্লিজ, চুপ করো। ১২ মার্চ, ২০২২

সাবলম্বন

  অন্ধের যষ্ঠি রাখি না। বোজা চোখে মুঠো করে মেপে নিই চাল আর জল। ফ্রিজ খুলে নিপুণ বিশ্বাসে সসপ্যানে ঢেলে রাখি দুধ। ই.এফ.এলে পড়াশুনো করি, তাই আজকাল চোখও ঠিক ভরসা করেনা। অথচ, ওদের কারোর কাছেই কিছু বাকি রাখব না বলে, আজন্ম এ কলমা আওড়ে গিয়েছি শুধু - কারও কাছে নেই কোন দায়। এখন‌ এ মহা দায়, আমাকে নিংড়ে নাও। হিঁচড়িয়ে নিয়ে চল খোঁড়া পায়ে হাসপাতেলেতে, একা ; দোকানেতে, গুমঘরে‌। ও ফেরেশতা? ১৫ মার্চ, ২০২৩

শিল্প ও বাজার

  সেই পুরনো গল্পটা আবার শুরু হয়েছে। অস্কার জালি। মনোনয়ন ঠিক ভাবে হয়নি। পয়সা দিয়ে সবই কেনা যায়। খিস্তি ; পাল্টা খিস্তি ; ইত্যাদি ইত্যাদি অথচ বুক বাজিয়ে বলতে পারি, এদের মধ্যে অধিকাংশই RRR দেখেননি। আর দেখলেও এরা মূলধারার(mainstream) ছায়াছবি বা গান কেন তৈরি হয়, কেন তার তৈরি হওয়ার প্রয়োজন এই জায়গাটাই ধরতে‌ চাননি।নাটু নাটু শুনেছেন, কিন্তু গানটা 'কোথায়' ও 'কেন' তার (Ramkrishnite-দের ভাষায়) স্থান-কাল-পাত্রের কোন বিচার করার প্রয়োজনই মনে করেন নি। এই ছবি আজ থেকে বহু বছর আগের শ্যাম বেনেগল কিংবা নিদেনপক্ষে আশুতোষ গোয়ারিকর করলেও সান্ত্বনা পুরস্কার ভেবে ব্রডওয়েতে গিয়ে দু পাত্র মেরে আসতেন এরাই। এটাও এরা বুঝবেন না যে, অস্কার আসলে একটা mass appeal-এর কথা বলে। তার অস্তিত্বের কথা বলে। এরা ক্রিস্টোফার নোলান মন দিয়ে দেখেন না। Martin McDonagh আর Edward Berger এর শৈল্পিক ভিন্নতার জায়গাটাকেই স্বীকার করেন না। মনে হয় ,দর্শনের খুব গোড়ার কথা এদের কানের কাছে গিয়ে বলে আসি - you cannot compare apples with oranges. একদম অন্য কথা এবার : বাংলা ভাষা 'ভালোবাসেন' এমন এক সম্প...