Skip to main content

Posts

ভাঙনের কবিতাগুচ্ছ

১ রাত দেখা যাচ্ছে না। ভোর দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে অসহ্য অধিকারীবোধে অন্ধকার আলোকে আলোকচিত্র বলে চালিয়ে দিতে পারে।  মনে হচ্ছে, সবই অন্তর্গত – আনন্দলোকের পেজ ফোর বোধের পরিমিতধরণ। ভোর, আলো, আগুন, কাঠকয়লা আর  জিভ-উৎসুক বউয়ের ডালের স্বাদ রাত – গভীর, গভীরতর ঘুম, আর অযথা  কলিংবেলের আওয়াজে জেগে ওঠা, এসবই তোমরা বলবে typo বা, মুদ্রণপ্রমাদ? ২ দৃক্-সিদ্ধান্ত মতে, এখনও শুক্লপক্ষের চাঁদ থেকে যাবে মিনিটখানেক। সূর্য-সিদ্ধান্তবাদীরা বলছেন – এখন রাত‌ কত?  ওদের বলতে বল। ওরা বেশি বোঝে। এভাবেই মেরুকৃত হয়ে যাব, আমরা, যাদের কিনা জীবনের মেরুতে মেরুতে দ্বিখণ্ডিত সহাবস্থান নিয়ে কথা হয়েছিল। এভাবেই মেরুকৃত হয়ে যাব সমাজমাধ্যমে অপ্রাপণীয় মিথ্যের খোঁজে। ৩ পাঁউগুঁড়ো ছড়িয়ে রেখেছ তাই, সম্ভব অলীক অলীক। এটুকু মুহূর্ত রাত – শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিং,  সোনু, শানু, রফি, সব প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে রাতে শুনে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাসে কতটা তোমার আশরীর দিনলিপি  চোখের না-ঘুমে অনাহূত কাজল কাজল ছাপ, জিভেতে শূয়োর খাওয়া অপরিপক্ব স্বাদ, দাঁতের হলদে ভাব,  বিয়ার-গন্ধ উঠে আসে? ৪ দীর্ঘ দীর্ঘ রা...

গীতা

অম্বরীশের বাবার ফলের দোকান‌ ছিল। সেখানে আজ‌ জংলা গাছের আস্তানা। এই পথে অম্বরীশ আজও হাঁটে  যাতে জীবন জীবিকা নিয়ে আস্থা না  দুর্বল হয়ে পড়ে দিনকে দিন। দিনকাল ভালো যাচ্ছে না।  তাই মোটামুটি এক্সিট প্ল্যান একটা তৈরী করেই নেওয়া ভালো। তাতে মনের দায়িত্বভার কমে। ওরা তো মরেই আছে, তুমি তো নিমিত্ত শুধু – এইসব গীতা পড়ে গিলে নিতে হয়। মনের দায়িত্বভার কমে। ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

The Appartment of Many Colours

  Every house has a corner of sadness. The moment you step into its periphery, you can smell it. It seeps into your skin, telling you that you need to shake off your jovial self for a moment and embrace it for a while. Fortunately for me, it is not inside my apartment. It is waiting for me when I open the door at five in the evening to fetch drinking water from the municipal tap. It is immediately there, outside, beneath the staircase in the common passage. It spreads from there all the way to the collapsible gate, which I have to open before I can step out and turn on the tap. The reverse is also true. Every house has a corner where, the moment you breathe in, you feel happy. The sofa in my drawing room is that place. It is bright and relaxing, a place where I can close my eyes and feel that the pain is gone, the sun is still bright even on an overcast day, or sleep is tender. I think I should put a reading and writing table nearby so that I can write in a jovial light, one that m...

মণীন্দ্র গুপ্ত

এই নামটার সঙ্গে আমাকে পরিচিত করে দিয়েছিলেন সাম্প্রতিককালে আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্ত একজন লেখক – Parimal Bhattacharya । তখন তিনি যথেষ্ট পরিচিত; কিন্তু তেমন সেলিব্রিটি লেখক নন। তাই প্রায়ই যেতে পারতাম ওঁর ওয়েলিংটনে মৌলানা আজাদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের ঘরে। মনে আছে, প্রথম আলাপে ডিমের অমলেট আর চা খাইয়েছিলেন। সেবারই শুনি "অক্ষয় মালবেরি"-র কথা। বললেন, পড়েছ? আমি বলি, না তো। উত্তরে বললেন, আমার পড়া মনে রাখার মত লেখা। আমি তখনও "অপুর দেশ", "দার্জিলিং" – এইসব বই নিয়ে ওঁর সাথে কথা বলতে আগ্রহী। বলি – নিশ্চয়ই, পড়ে ফেলব।  তখন অ্যাক্সেঞ্চারে কাজ করি। পরিমলবাবুর অনেক বই যেমন আমার নাইট শিফটে পড়া, তেমনই মণীন্দ্র গুপ্ত। "অক্ষয় মালবেরী" পড়ে পরিমলদাকে বলেছিলাম, এর দ্বিতীয়ার্ধ তেমন নয়। অনেকটাই অতিকথন, পুনরাবৃত্তি আর কাব্যময়তার জন্য উৎরে গেলেও একটা ওভাররেটেড বই। উত্তরে পরিমলদা বলেছিলেন, এই বই আসলে বাংলা গদ্য পড়া নিয়ে একটা মুগ্ধতার দলিল। এরপরে অবভাস থেকে ওঁর উপন্যাস সমগ্র বের হওয়ার পরে পড়েছি "আলতামসী" বা "প্রেম, মৃত্যু, কি নক্ষত্র"-এর মতো ...

A Post Pujo Conversation

Hey, just saw your post. We look good together, no? Yeah, we do. But we can't. Why? Because, according to the BNS, any kind of... What the...! Cut the crap, bro! You approached me, remember? You're the one who stalked me and texted me first. I cropped your photo after I met you at that guided Bonedi Bari walk during Pujo. And you cropped our photo! I knew you'd claim it's our photo too. Of course I do. Look, I have a daughter. But still, I must have looked good at first sight. Otherwise, why would you, the quietest backbencher-lookalike guy, text me privately? You could've asked whatever you wanted in the main group. Because I thought we could talk. We could talk in the group. And we're doing that now as well. Well, in private, thanks to your creepy, cringey, lecherous self. Don't call me that. And you, don't remind me that I have a daughter. I didn't. You did. You did ask my age. It was an innocent question. Everything is innocent until you're o...

দশমী

  খুব ভালো থাকতে নেই। তাতে ভালো থাকাটা চলে গেলে, অবশ্যম্ভাবী ভাবে স্বাভাবিক থাকাটা বোঝা বলে মনে হয়। অনেকেই বলেন, অ্যালকোহল নেওয়ার পরে পরের দিন হ্যাংওভার থাক বা না থাক,‌ সকালে বেশ মন খারাপ লাগে। কেন হয়? খুব স্বাভাবিক হরমোন ঘটিত কারণে। সহজে পেয়ে যাওয়া ডোপামিন আমাদের আনন্দকে যেমন তুঙ্গে নিয়ে যায়, তেমন তার জোগান শেষ হলে চারপাশটা যতটা বেরঙিন, তার চেয়ে অনেক বেশি বেশি খালি খালি লাগে। আজ দশমী। সকালে ঘুরে এসেছি মুদিয়ালি, শিবমন্দিরের মত ওদিকের কিছু পুজো। লোকগান, বাদ্য, নৃত্য আমার তেমন ভালো লাগেনা। তবে মুদিয়ালি মণ্ডপের বাইরে ধামসার তালবাদ্য শুনে থমকে গিয়েছিলাম মিনিট পাঁচেক। সন্ধ্যেবেলা আবার বেরিয়েছিলাম। আমারই বাড়ির তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে কিছু পুজো হেঁটে দেখব বলে। সে সব হল। চিকেন মোমো খাওয়া হল। খাওয়া হল উৎকৃষ্ট মানের দার্জিলিং চা কাঁচের স্বচ্ছ কাপে। কিন্তু, তারপরেই হল বিপদ। এই সন্ধ্যেয় বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় যেটা মনে হয়নি, এবার সেটা আস্তে আস্তে মনে হতে শুরু হল। আলো ক্রমে নিভে আসছে। শব্দেরও তীব্রতা ততটা আছে কি? আমি জানি, এক ঘন্টায় হঠাৎ সব বদলে যায় না। আমারই দেখার ভুল, ভাব...

নবমী

  এবছরও পুজো প্রায় শেষ হয়ে এলো। বিগত চার, পাঁচ বছরের মধ্যে এবছরের পুজো আমার কাটানো সেরা পুজো। জানিনা কেন, গত কয়েক বছরে মনে মনে পুজোয় অনেক পরিকল্পনার পরেও সেটা ঠিকঠাক করে উঠতে পারিনি। সেটা খানিকটা নিজের দোষে, খানিকটা প্রকৃতির বা অন্যান্য কারণে।‌ এবারের পুজোটা অন্যরকম কেটেছে; বলা ভালো, অনেকদিন পর নিজের মনের মতন কেটেছে। যেসব পুজোমণ্ডপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তা মোটামুটি পেরেছি। রাস্তায় ভিড় ছিল। ঘামছিলাম। মেট্রোতেও কিছুটা ঠেলাঠেলি করতে হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সব মিলে কোথাও অসুবিধে তেমন হয়নি। আড়বেলিয়া ও ধান্যকুড়িয়ার জমিদার বাড়িগুলোর পুজো দেখতে গিয়েছিলাম সপ্তমীতে। সেদিনই একটু শারীরিকভাবে ক্লান্ত লাগছিল। বাকি দিনগুলো তেমন নয়। এমনকি আজও বাগবাজারের পুজো, শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো দেখতে দেখতে বারবার মনে হচ্ছিল, এ বছর আর পুজো দেখা নিয়ে কোন আফসোস রইল না। প্রতিমার সামনে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে আনয়ন দেখতে পেরেছি। অর্গানাইজড রিলিজিয়নে বিশ্বাস করিনা। কিন্তু ঈশ্বরে ও প্রার্থনায় করি। প্রার্থনা সব সময় শোনা যে হয়, তা নয়। কিন্তু সে কারণ আমাদের বোধগম্যতার বাইরে, এই দৈবে আজ আমি আস্থা রাখি। তা...

অষ্টমী

  বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে যেটুকু ব্যাবধান, অষ্টমী আর নবমীর সন্ধিপুজোর মধ্যেও তাই। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বেশ খানিকটা যেন বদলে গেল। তোমাকে এতদিন নিজের জানতাম, বন্ধু বলে ভাবতাম। এখন ঘনীভূত হচ্ছে সন্দেহ। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছে, এতদিন তুমি যা ছিলে আমার কাছে, সেই ইতিহাসটা ভুল। তোমার একটা কথা, একটা আচরণ তোমার সমস্ত অতীতকে আমার কাছে ঘেঁটে দিয়েছে। পুজো নিয়ে আমাদের যে পাগলামিটা এই অষ্টমী অবধি চলছিল ছিল তার আলোটা এখন একটু নিষ্প্রভ। পুজো-পুজো ভাবটা তুঙ্গে ছিল; এবার হঠাৎ ফিকে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আর তো মাত্র একটা দিন, বা মেরে কেটে দেড়। সেসব না হয় একটু পরে হবে। আপাতত ভোর ভোর প্রস্তুতি। কারণ, অঞ্জলির সময় এবার অনেকটাই সকালে। স্নান, পাঞ্জাবি বা শাড়ি পড়া, মেক-আপ, এসব অনেক কিছু বাকি আছে। তারপর কোনোরকমে একটা পুজোর ছাপ কপালে লাগিয়ে, বাড়িতে এসে কবজি ডুবিয়ে অষ্টমীর সকালের খাওয়া। পুজো মণ্ডপ বাড়ির কাছে হলে আবার মণ্ডপে খানিক গল্প, আড্ডা, চোখে চোখের মত আরো খানিক নিভৃত বা প্রকাশ্য উদযাপন। দুপুরে লুচি ভোগ। তবে আমার প্রিয় পাড়ায় খিচুড়ি বা পোলাও, সাথে বেগুন ভাজা, একটু ঝুরি আলুভাজা, লাবড়া, সম্ভব হল...

দুর্ঘটক

  অস্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না। লেখাও যায় না। কারণ, তাতে আমাদের ফাঁকিটা ধরা পড়ে যায়। গতকাল, মানে টেকনিক্যালি গত পরশু, চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবে একটা গন্ডগোল হয়ে গেছে। এবং মানবিকতার মুখ, যে মাধ্যমে যেমন, সেখানে ঠিক সেভাবেই ঘুরে গিয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়া, ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার খবরগুলো পড়লেই কয়েকটা বিষয় বোঝা যাবে—একদল উস্কে দিচ্ছেন আমাদের রাগকে, আমাদের ব্যর্থতাকে, ওই প্যান্ডেলে উপস্থিত না হতে পারা কিন্তু রিল দেখে উৎসাহিত হওয়া বহু মানুষের ব্যর্থতাকে। ব্যর্থতা কেন বলছি? সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য। আরেকদল বলছেন, কীভাবে এই ব্যর্থতা আসলে সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং কর্মকর্তারা কীভাবে তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন বা করেন নি। এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিমার খুঁত এবং তার শৈল্পিক বিশ্লেষণ নিয়েও ব্যথিত। আর শেষ দল, যাদের আজকাল তেমন কেউ পাত্তা দেন না কারণ তাঁরা তো একদিনের পুরনো খবর পড়েন, তাঁরা বলছেন চক্রান্ত আরও গভীর এবং তাঁরা অনেকেই ভাবছেন যে বৃষ্টিতে পদপিষ্ট হওয়াটা বৈজ্ঞানিকভাবে কেন সম্ভব/সম্ভব নয় বা রাজনৈতিকভাবে কেন সম্ভব/সম্ভব নয়। এর সাথে সাথে জুড়ে গেছে একথাও যে, বইয়ের দোকানের ওপর আ...

সপ্তমী

  এই যে হঠাৎ এক অকল্পনীয় ভালো লাগা ছড়িয়ে যাচ্ছে বাতাসের আদরে আদরে, এসবকে নষ্ট করে দিতে ওরা আসবে। অনেক কিছুই আসবে। অফিস থেকে ফোন আসবে, বলবে এক্ষুনি লগ ইন করা দরকার, কারণ এক জরুরি রিসোর্স আজ শিফটে ডুব মেরেছে। না চাইতেই কোথাও বেজে উঠবে অ্যাম্বুলেন্সের হুটার আর মনে করিয়ে দেবে, পুজো সবার জন্য নয়। রাস্তায় ভিড় ঠেলে যখন ভেতরে বসে থাকা লোকগুলো ভাববেন মানুষ এমন অমানুষ হয়ে যাচ্ছে কেন যে অ্যাম্বুলেন্সকেও রাস্তা ছাড়তে চায় না, হাসপাতালে সময়ে পৌঁছানো যাবে তো, তখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্যান্ডেলের উদ্যোক্তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁদের ভিআইপি গেট, ভিভিআইপি গেটের ব্যারিকেড খুলে দিয়ে বলবেন— "এদিক দিয়ে যান, তাড়াতাড়ি!" আমাদের পুজো আসলে বিভিন্ন মুহূর্ত নির্মাণের পুজো। একটা নোংরা আমি, একটা খারাপ আর কোরাপ্ট আমি রাতারাতি ভালো হয়ে যাবে, তা তো হয় না। কিন্তু একটু এদিক-ওদিক তাকালেই দেখা যাবে, পুজোয় সমস্ত মুহূর্ত ঠিক রিলস বানিয়ে ধরার নয়। কারণ সেটা করলে, হয় সে মুহূর্তটা খাটো হয়ে যাবে, কিংবা রিলটা ততটা দেখতে ভালো লাগবে না। এই মুহূর্তগুলো এতটাই কম সিনেমাটিক, এতটাই সাধারণের থেকেও সাধারণ। আর...

ষষ্ঠী

  আলো তীব্রতর হয় ষষ্ঠী চলে এলে। পুজোর আমেজ হয়ে ওঠে তীক্ষ্ণ, আরো তীক্ষ্ণ। পাড়ার প্যান্ডেলে একটু একটু করে 'ফুটফল' বাড়তে থাকে। দুটো হাত আরো জোরদার হয় – তা সে প্রণামের হোক বা আঁকড়ে ধরে থাকার। এ বছর মনে হচ্ছে পুজো ভালো কাটবে। খানিক আরামে ঘোরা যাচ্ছে। এই নিয়ে দুটো বাংলা সিনেমা দেখা হয়ে গেল। খুব আহামরি কিছু নয়, তবে পুজো কিনা? এটুকু করা যায়। আর পেট পুজো হচ্ছে জমিয়ে। ষষ্ঠীর সন্ধে নামতেই চারপাশের ওই তীব্র আলো আর মাইকের গমগমে আওয়াজ হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে মনে করিয়ে দেয় – দিনগুলো বড্ড দ্রুত গলে যাচ্ছে। প্যান্ডেলের মুখে আলোর রোশনাই যত বাড়ে, মনের ভেতরের অচেনা অন্ধকারটাও কি ততটাই গাঢ় হতে থাকে? হয়তো বা। তবে এবার ভিড়ের মধ্যে সেই চেনা অস্থিরতাটা কেমন যেন উধাও। আগে কত কী চাওয়ার থাকত – নির্দিষ্ট কারও উপস্থিতি, একটা সূর্যোদয়ের মত সাক্ষাৎ, কিংবা নিখুঁত কোনো ষষ্ঠীর সন্ধে। এখন বুঝতে পারি, এই 'আহ্বান' পর্বটাই আসলে আসল। এটাই তো‌ ষষ্ঠীর prologue. ছবি দেখা বা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার এই যে ছোট ছোট ফাঁকিগুলো দিয়ে নিজেকে ভুলিয়ে রাখা – এটাও তো এক ধরনের আত্মরক্ষা। মানুষ আসলে সারা বছর ধরে এই কয়েকটা দিনের...

পঞ্চমী

  পঞ্চমীতে এক একটা প্যাণ্ডেল হেঁটে পেরিয়ে যাচ্ছি, আর যথারীতি, গান আমায় ডুবিয়ে দিচ্ছে আদ্যোপান্ত নির্লজ্জ নস্টালজিয়ায়। "তোমায় পড়েছে মনে আবার শ্রাবণ দিনে" – পুজোয় কিশোর কুমার গেয়ে চলেছেন। পুজোয় শ্রাবণ দিন? কেন? কেনই বা হবে না? বৃষ্টি তো এবার পিছু ছাড়ছেই না। কলকাতায় কাল দুপুরে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে, আর আজও। "একলা বসে নিরালায়"? সেটাও খানিক সত্যি, জানো? বেশ কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছে পুজোতে নিরালায় না থাকার এক অভূতপূর্ব উপায়। তুমি তোমার পছন্দের ছেলে বা মেয়ে বন্ধু 'ভাড়া' করতে পার। ব্যাস্। আর 'একলা বসে নিরালায়' থাকার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু এসব করে তোমাকে মনে পড়া আটকানো যাবে কি? কথাটা তো সেটাই। পঞ্চমী দুপুরে যোধপুর পার্ক, সেলিমপুর, বাবুবাগানের মন্ডপ, এত ফাঁকা হতে শেষ কবে দেখেছি? এটুকু নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি করোনার সময়েও এর থেকে খানিক লোক বেশি ছিল। তাহলে কি আমিও বলব যে, এ বছর ঠিক পুজো-পুজো মনে হচ্ছে না? না তো। কোথায়? তোর সাথে সেই পুজোয় একসাথে থাকার অনুভবগুলোকে তো এই 'শ্রাবণ দিনে' এড়ানো গেল না! আমরা শ্রেয়া ঘোষালের প্রোগ্রাম ...

চতুর্থী

  "চতুর্থী সর্টেড" করে দেওয়ার অবশ্য একটা সোজা উপায় আমাদের অনেকের জানা আছে। জয় বাবা ফেলুনাথ দেখে ফেলা। “পরশু তো ষষ্ঠী…” ইত্যাদি ইত্যাদি। আমিও সেটা প্রতিবারই রিচুয়ালের মত করি। এবারও করব। তবে বিকেলে কফির পর। আজ দুপুরে আরেকটা সিনেমা দেখব। সেটা একেবারে অন্যরকম – ক্লোয়ে ইন দ্য আফটারনুন, এরিক হ্রোমারের সিনেমা। কেন? পুজো ঠিক এসে পড়ার আগে আমি ঠিক একটা দিন বেছে নিই, যেটা আমার নিজস্ব দিন। যেদিন আমার ‘কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই’। এই সিনেমাটা যখন শুরু হয়, তখন আপাতত ফ্রেদেরিককে, মানে মূল চরিত্র যে, খানিকটা সেরকমই লেগেছিল আমার। ফ্রেদেরিক বড় শহরকে ভালোবাসে। পারী তার বেশ পছন্দের। এখানে সে বহুজনতার মাঝে অপূর্ব একা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এ শহরে কেউ বুড়িয়ে যায় না। তাকে কারও সাথে জোর করে মিশে যেতে হয় না। কিন্তু সেটাই তাকে ঠিক একাও থাকতে দেয়না। ফ্রেদেরিক একজন ফ্ল্যানর (flâneur) ঠিকই কিন্তু তাকে ঠিক উদ্দ্যেশ্যহীন ফ্ল্যানর বলা যাবে না। আসলে পারীর রাস্তাঘাট, ক্যাফে, পথচারী, সব কিছু বিবাহিত ফ্রেদেরিকের কাজে এক অভূতপূর্ব সুযোগের খনির মত কাজ করে – তার স্ত্রী, উচ্চবিত্তীয় জীবিকা এইসব ছেড়ে না পাল...

তৃতীয়া

এ বছর তৃতীয়া হতেই দেখি বেশ কিছু পুজো সংখ্যা পড়া হয়ে গেছে। ভালো লাগে। Binod Ghoshal -র 'তুমি কি আমার গোলাপ হবে?' বা অনুপম মুখোপাধ্যায় -র 'চাঁদের চেয়ে দূর' - কী ভালো দুটো লেখা! এরাই আমার পুজো। আমার লিখতে শেখার অঞ্জলির ফুল। বই শুধু পরে না থেকে যদি মাঝেমাঝে পড়া হয়ে যায়, তখন মনে হয়, একটা মনের মত কাজ অন্তত হল। অনেকে শুনেছি, ছোট থেকেই বেশ এক মাস ধরে তারিয়ে তারিয়ে এই পুজো সংখ্যাগুলো পড়েন। তাতে তাঁরা আরও এক মাস আগের থেকেই বুঝতে পারেন, পুজো আসছে। অপেক্ষা করেন। স্রেফ অপেক্ষা। আজকাল কেউ কি কারও জন্য অপেক্ষা করে? কেউ কি কিছুর জন্য অপেক্ষা করে? চটজলদি পাঁচ মিনিটে বাড়িতে আসে নিত্যপ্রয়োজনীয়র সাথে অফারের লোভে অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ভাবি সাশ্রয় হবে, কিন্তু এই অপেক্ষাহন্তারক সিস্টেমটি এমনভাবেই তৈরি হয়েছে যে, আমাদের খরচ বাড়াতেই তার মোক্ষ -- আমাদের অপ্রয়োজনীয়কে সে বুঝিয়ে দেয় আবশ্যিক, আর লাক্সারীকে করে তোলে নিতান্ত প্রয়োজনীয়। এই সেদিনই এক প্রিয় অভিনেত্রী বিজ্ঞাপনে বলছিলেন – আপনিও যদি আমার মত মনে করেন যে জল আরও ‘ইয়াম্মি’ হতে পারে, তাহলে এই ফ্রুট ওয়াটারটা আজ থেকেই জলের বিকল্প হিসেবে খা...

দ্বিতীয়া

বিকেল হলেই পাড়ায় আলো জ্বলে ওঠে। ঝকঝকে হতে থাকে অপরিচ্ছন্ন চপের দোকানগুলো আর দোকানীদের চোখ। এর পাশাপাশি যাদের আর্থিক ক্ষমতা আরেকটু বেশি, সেইসব রোল, চাউমিনের দোকানে আমরা কেউ কেউ যাই। পুজো মানেই বাজার; আর্থিক শ্রেণী বিভাজন আরেকটু স্পষ্ট ঠিকই, কিন্তু অর্থনীতি চাঙ্গা। লম্বা খেলা বাকি আছে পুজোর দিনগুলোয়। আর সপ্তাহ তো কেবল শুরু। এসব ভেবে পেটকে সামান্য আরাম দিই। মিক্সড ক্যান্টনিজ্‌ নুডলস্‌। কিন্তু, আমার সাথের জন এত অল্পে খুশি নয়। সে বলে, সাথে একটু ড্রাই চিলি চিকেন হবে না? হোক, আমি একটা বা দুটো ম্যাক্স। তার বেশি কিন্তু নয়। পানাহার পর্ব এ সপ্তাহে মারাত্মক। আমি তাই আরেকটু সমঝে চলব। কিন্তু, সে সেখানেই থামে না। প্রথমে, এখন একটু ফিস ফিঙ্গার বা পকোড়া হয়ে যাক?  কী যে হয়! পুজো এলে আমাদের কেন যে এত বেখেয়াল আর বেহিসেব চেপে বসে! তবে, ফিস ফিঙ্গার শেষ হয়ে গেছে। পকোড়াও। অতএব, আমাদের একটু এগিয়ে যেতে হয় ওই ভাজাভুজির দোকানগুলোর দিকে। তারপর ঠোঙা ভরে ফিরি।  দ্বিতীয়া আর একাদশী, দ্বাদশীর বিকেল-সন্ধ্যেগুলো বাইরে দেখতে একরকম। প্যান্ডেলগুলো প্রতিমাবিহীন। কাঠ, বাঁশ অর্ধনগ্ন। এইমাত্র যেন তাদের আব্রুহরণ হয়েছে। ক...

When Someone Dies

When someone dies, he dies with our memories. Our childhood flees like an undone palimpsest with the demise of his green celestial light. When someone dies, he kills the decades within us, and the “us” inside us could still whirl into the tumultuous, turbulent void that was snatched away overnight. When someone dies, he robs us of the mutual self we once inhabited, of the symbiosis, the backup server. All is mutilated: the natural chain of failover and failback. We die living, standalone. 13 October, 2026

প্রতিপদ

  প্রতিপদে সে এসেছিল। সুখবর। একা আসে নি। অনেক অন্য সুখবর নিয়ে এসেছিল। যে বন্ধুরা সারা বছর একটু হিসেবী, তারাই এখন বেহিসেবী হয়ে যায়। বলে, চল্‌, তোকে অনেকদিন কোথাও খাওয়ানো হয় না। তারপর আমরা লাইন দিই কলকাতার সেরা এক বাঙালী রেস্তোরাঁয়। দেখতে থাকি, আমাদের কলেজ লাইফের ঝারিশিল্পীত প্রতিমাদের শাড়িতে। আমাদের বা তার পরবর্তী প্রজন্মের বাঙালী মেয়েদের, বিশেষ করে তিরিশের নীচের মেয়েদের, কেন জানি না, কোনোদিনই আমার শাড়িতে পছন্দ নয়। মনে হয়, সেই ম্যাকবেথের ‘মিসফিট গারমেন্টস’-এর মত এও তাদের মা, কাকিমা, বা অন্য কেউ জোর করে পরিয়ে দিয়েছে। শাড়ি তাদের এঁচোড়ে পাকা করে দিচ্ছে বাইরে, কিন্তু তারা কিছুতেই শাড়ির আভিজাত্যের মাপে উঠতে পারছে না। এখনও তাই। শাড়ি পরে তাই তাদের পোজ দেওয়ার থেকে চোখ সরিয়ে নিই, যেমন এত বছর সরিয়ে নিয়েছি। আমার নীরা, বেলা বোস, বা বনলতা সেনকে কি আমার আশপাশের কলকাতা আর তাদের ইন্সটা রিলে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার তাগিদ এভাবে ওয়ানা-বি বা একজন কুচুটে লেডি ম্যাকবেথ করে দেবে? সে বাস্তবে এত কম আকর্ষণীয় কেন? তার বমির রং হলদে কেন? কেন তাকেও হুইলচেয়ার নিতে হবে? এসবের থেকে পুজোর আমি বা আমরা অনেক আলাদা। সে কদিন আ...

The Greenhouse Ideal

  It is a green house that nests the sapling until it branches out, teaching the small roots how to crawl across the airy viscerals of its own yard. It is always a mother who trickles through you like morning sun, a cat's rough kiss, the comfort of mashed potato warm against the rolling tongue. Yet her ultraviolet dignity, her heavy carbohydrates, draw a strict radius around your plate: Eat the fermented rice our forefathers loved,she says, and write for those who share it. Do not pine for continental delicacies, for imported oils, and the rich, ungrounded starches of the wider world. She will shelter you through every season until the morning you are invited to the feast abroad. Then she locks the garden gate against your coat, refusing the fruit that has tasted other soil, and says – Write for the low-key, or learn the quiet cost: the prize, the fame, the wide and breathable air are only for those who never outgrew the pot. 11 October, 2026

A Sonnet about Freedom

When time unspools without a clock or grid, And formal duty drops its heavy tether, The mind unravels where the self was hid, Unmoored and lost in loose, unpatterned weather. A ghost-force works against my clean design: I seek my core, yet drown in abyss and cold; Each hollow dream erodes this name of mine, Where empty space breeds voids a hundredfold. Yet man still craves the work that makes him whole: To write at dawn, to cook for care, to gather In pub or play, to feed a larger soul, And thread his day with those who truly matter. The city blazes neon down the street: I come back home content, famished and free. 10 October, 2026

Grey Dusk

I have a dire love for this hazy afternoon. I look out of the window and sense the many greens upon the leaves, held still. Their differences would now drift out of them, until they stare at us, alike. When all our eccentric nuisances, the unfathomable oddities are pressed into an ideal shape, I hope there are still two choices left beneath the grey that gathers in the air this afternoon: to decline, or to die. 9 October, 2026